স্বাধীনতা উত্তর রাজাকারদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার বিষয়টি শেখ মুজিবের ভুল সিদ্ধন্ত ছিল কিনা,সদ্য স্বাধীন জাতির জন্য দূর্ভাগ্যজনক ছিল কিনা, শেখ মুজিবের উদারতা বা অন্য কোন কোন কারণে তাঁর মত প্রচন্ড দূরদৃষ্টিসম্পন্ন একজন নেতা অমন ঘোষণা দিলেন,তা বিতর্ক সাপেক্ষ ! কিন্তু ওই একটি ঘোষণার শতভাগ সুফল যে জামাত নামক দলটির ঘরে গেছে,এতে সন্দেহ নেই এতটুকু । মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে সচেতনভাবেই জামাত জাতিকে বিভ্রান্ত করেছে, ভুল পথে পরিচালিত করেছে। শান্তি কমিটি নাম নিয়ে আমাদের মুক্তিসেনানীদের তারা হানাদারদের হাতে তুলে দিয়েছে । বাংলার মমতাময়ী মা-বোনদের ধর্ষণে হানাদারদের তারা উস্কে দিয়েছে এবং সহযোগীতা দিয়েছে । অথচ সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার পর দূর্ভাগ্যজনকভাবে তারাই রাজনীতির মাঠে সক্রিয় হয়েছে । দেশের ইসলামপ্রিয় মানুষকে 'ইসলামী' ট্যাবলেট খাইয়ে পাড়া মহল্লায় তারা এগিয়ে গিয়েছে নীরব কৌশলে ।
আমাদের দূর্ভাগ্য বিএনপি-আওয়ামীলীগ নামের বড় দুটি দলের সীমাহীন দূর্নীতি,এবং কোন্দল ! জামাতের জন্য যেটি সৌভাগ্য এবং আর্শীবাদ রূপে যোগ হয়েছিল । কিছু মানুষ ক্ষিণ চিত্তে হলেও বিকল্প হিসেবে জামাতের কথা ভাবতে শুরু করেছিল ! 'দেখি না চোরে কি করে'-এর মত কিছু মানুষ ভাবতে শুরু করেছিল,-'দেখিনা জামাত কি করে !' ফলশ্রুতিতে স্বাধীনতা বিরোধী জামাত নেতারা স্বাধীন বাংলাদেশের সংসদ সদস্য পদ লাভ করেছিল, এমনকি উপহার স্বরূপ পেয়েছিল মন্ত্রীত্ব ! বলাবাহুল্য, ইসলামকে ঢাল হিসেবে ব্যাবহার করেই এতোদূর এগিয়েছে তারা ! যদিও ইসলাম কেবল জামাতের একার সম্পত্তি নয়, নিশ্চয়ই ?
অবাক করা ব্যাপার,রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য বড় দুটি দলই অতীতে জামাতের সাথে আঁতাত করেছে ! এ-দু'দলের কোন নেতা কি একটু বলতে পারবেন,-স্বাধীনতার ৩৬ বছরে জামাত এ জাতির কাছে ক্ষমা চেয়েছে কি ? তারা কি শহীদ বেদীতে পুষ্পার্ঘ দেয় ?
বলতেই হবে, সবাইকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে ধূর্ততার সাথে এগিয়ে গিয়েছে জামাত । কিন্তু তাদেরকে আর এগুতে দেয়া উচিত নয় । উচিত নয় কারণ,-
১) তারা মিথ্যাচার করে।
২) স্বাধীনতা বিরোধী ভূমিকাকে তারা অস্বীকার করতে চায় !
৩) চরম ঘৃণীত ভূমিকার জন্য জাতির কাছে তারা একবারও ক্ষমা চায়নি !
৪) শহীদদের প্রতি তারা শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেনা এখনও !
৫) ইসলামকে তারা সুবিধামতন সাইনবোর্ড হিসেবে ব্যাবহার করে !
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে মে, ২০০৭ ভোর ৪:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




