somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তসলিমার নির্বাসন অগ্রহণযোগ্য!

০৮ ই জুলাই, ২০১৪ দুপুর ১২:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ধর্মের নামে এ দেশে কত রকমের ভণ্ডামি চলে- কত কিছু জায়েজ করে নেয়া হয়, তার কোনো ইয়াত্তা নাই। বাস্তব জীবনে ধর্ম পালন করার চেয়ে, ‌'আমি, ধর্ম পালন করি' সেটা দেখানো লোকের সংখ্যাটাই বেশি বলে, এ যাবৎকালে দেখে এসেছি।

একজন মানুষ কতটা সৎ; সেটি আর্থিক, নৈতিক ও চিন্তার ক্ষেত্রে সেটাই এখানে প্রধান বিবেচ্য হওয়া উচিৎ। এবং ইসলাম ধর্ম সম্ভবত এখানে সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছে। দুর্ভাগ্য হলো আমরা সবাই আংশিক বা সুবিধামত ধর্ম পালন করি। আমি নিজেকেও সেই গোত্রে অন্তর্ভক্ত করে এ কথা বলছি।

ধর্ম নিয়ে আলোচনা করার মত যথেষ্ট জ্ঞান আমার নেই। তবে ধর্মকে পুজি করে মানুষকে তাড়িয়ে বেড়ানোর বিষয়ে আমার বক্তব্য আছে। আমরা আমাদের সুবিধা মত সব কিছু ব্যাখ্যা করলে চলবে না।

আমার এ লেখাটা সে দিকে নজর দেবার জন্য। তসলিমা নাসরিনের নির্লজ্জ 'লজ্জা' বই প্রকাশের পর আমি যখন এর মর্ম বুঝতে পারলাম; এতে খুবই ব্যাথিত হয়েছি। এ ব্যাথা অন্য আরো অনেকের মনে লাগবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

মুসলমানদের মনে আঘাত লেগেছে, বাংলাদেশীদের মনে আঘাত লেগেছে। নিশ্চিতভাবে আমি বিশ্বাস করি ব্যাক্তি স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা মানে একটি বিশাল গোষ্ঠীকে আঘাত করা নয়। তাও যদি অন্যায় ভাবে, কাল্পনিক ভাবে কিম্বা একটা উদাহরণ নিয়ে পুরো জাতি বা গোষ্ঠীকে দোষারোপ করা হয়, তাহলে সেটি আমি মানতে চাইনি কখনো। চাইবোও না।

তসলিমা নাসরিন চিকিৎসক হতে চেয়েছিলেন। হয়েছেনও । সেই সাথে তিনি একজন কবি ও সাহিত্যিক। তিনি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর স্ত্রীও ছিলেন। স্বামীর সাথে তার সম্পর্ক ভালো যায়নি। তাই সুশীল এবং তাদের বিপরীত দু চক্রই তসলিমাকে প্রতিরোধ করতে চায়। সম্ভবত ২০০৩ সালের তসলিমা 'ক' বইটি বের হয়। তাতে অনেক বিখ্যাত 'বাবর' আলীর মুখোশের আড়ালে যৌনাচারীর খবর ফাঁস হয়ে যায়। যারা আমাদের এখানে সুশীল। নিয়মিত আমাদের বিভিন্ন রকমের সবক দেন তারা আসলে যে কী সেটি নারী তসলিমার আয়নায় ধরা পড়েছে।

এটা তসলিমা ফাঁস করার সাহস দেখিয়েছেন, এ রকম আরো অনেক কথা। কিন্তু আমি যে কথা এখানে বলতে চাই ১৯৯৪ সালে দেশ ছাড়ার পর মুক্তমত ও মুক্ত মনের অনেক সরকার ক্ষমতায় এসেছেন, গেছেন এবং এখনো আছেন। এ দেশে আল্লাহ, আল্লাহর নবী সা: নিয়ে কুৃৎসিৎ ব্লগ লেখা হয়েছে; সে সব লোক দ্বিতীয় প্রজন্মের মুক্তিযোদ্ধা হয়েছেন। তা নিয়ে সরকারের কোনো ভূমিকা দেখলাম না। কেবল তসলিমার মত একটা নিরীহ নারী লেখিকাকে বছরের পর বছর বিদেশ রেখে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় গোঁড়া মৌলবাদী চরিত্র তুলে ধরাটা দুঃখজনক।

দ্বিতীয় প্রজন্মের মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়ে সরকারি ঘোষনায় আমার আপত্তি নাই। কিন্তু ওই কুৎসিৎ লেখা নিয়ে যে কুৎসিৎ রাজনীতি হয়েছে সেখানে আমার আপত্তি আছে।

তসলিমা নাসরিনের জন্ম বাংলাদেশে, তার সব লেখাকে খারাপ বলে যারা প্রচারণা চালান আমি তাদের বিপক্ষে। কুড়ি বছর ধরে একজন নারী বিদেশে আছেন, নারী মানেই বিশ্বজুড়েই ভোগ কিম্বা উপভোগ করার বিষয় সামনে চলে আসে। সেটি স্বেচ্ছায় কিম্বা জোর পূর্বক হয়ে থাকে। এটা কম বেশি আমরা সবাই জানি। এও জানি সাহিত্যক, কবিরা সব সময় তাদের করতালে নারী দেহের স্পর্শ চান, আর সেই নারী যদি হন শত পুরুষের মাঝখানে একজন তাহলে কী হতে পারে! সে তো সবারই লোভ্য।

তসলিমা পথে পথে ঘুরছেন, আল্লাহর পৃথিধবীতে তাকে যদি আল্লাহ রিজিক দেন, সুস্বাস্থ্য দেন, লেখার ক্ষমতা দেন; সেটাকে রোধ করার আমরা কে?

তসলিমার লেখার প্রতিবাদ জানানোর অনেক রকমের ভাষা আমাদের আছে। কিন্তু তাকে নির্বাসনে রাখার কোনো যুক্তি আমার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। সরকার নিজেদের বড় মুসলমান প্রমাণ করার জণ্য তাকে রুখতে চায়। আসলে এটা মুসলমানি স্বার্থ নয়; রাজনৈতিক স্বার্থ। এ রাজনৈতিক স্বার্থ ধর্মকে যে রকম 'ইসলামী' দলগুলো ব্যবহার করছে। সে রকম বুর্জোয়া দলগুলোও।

তসলিমার প্রতি বিশেষ দূবর্লতা নেই। কিন্তু রাষ্ট্রের ভণ্ডামির প্রতি আমার ক্ষোভ আছে। মুখােশের আড়ালে লুকিয়ে থাকা চেহারাটা বের করে রাষ্ট্র তার আসল চরিত্র দেখাক- আমি সেটাই চাই।
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার বেঁচে থাকাই তাদের ভয়ের কারণ॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৫১





শেখ হাসিনার বেঁচে থাকা নিয়ে আক্ষেপ কেন? একটি রাজনৈতিক সমীকরণের বিশ্লেষণ

সম্প্রতি তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদুর রহমানের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচনা শুরু হয়েছে - "শেখ হাসিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×