somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যৌন হয়রানির ক্যাম্পাসটি আমার!

১৫ ই এপ্রিল, ২০১৫ দুপুর ২:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এ আমার ক্যাম্পাস! তব্দ হয়ে গেলাম। নিঃস্ব হয়ে গেলাম। এ ক্যাম্পাসে নোংরা মনোবৃত্তির লোকরা আসে; নির্বিঘ্নে কুকর্ম করে সরে যায়। কখনোই তারা বিচারের আওতায় আসে না।

এর দোষ--- ওর দোষ করে শেষ পর্যন্ত শুয়রের বাচ্চাগুলোর চেহারা সিনহা বাবুর এজলাসে ওঠে না। আফসোস আরেফিস স্যার- - এখন এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি।

এ আমার বিশ্ববিদ্যালয়- এ আমার অহঙ্কারের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়!

আরেফিন স্যারের আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দু’টো নোংরা ঘটনা বিশালাকারে হয়েছে। ২০১০ রাজু স্মৃতি ভাস্কর্যের সামনে লাঞ্ছিত হয়েছিলেন কুড়িজন নারী। ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে এর অভিযোগও উঠেছিল- কিন্তু আরেফিন স্যার এখানেও ব্যর্থ। ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে এক সময়কার নৈতিকভাবে স্ট্রং শিক্ষককে দেখলাম--- কেমন যেনো মিইয়ে যাচ্ছেন।লুটিয়ে পড়ছেন ক্ষমতার পদতলে। ক্ষমতা তুমি এত মোহনীয় কেনো!

চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ আরেফিন স্যার যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে কাণ্ডারি; তখন ২০১৫ সালের বৈশাখেও সেই একই কলঙ্ক। সেই একই স্থানে ঘটলো- নারীর প্রতি সহিংসতা। ঠেকাতে গিয়ে আহত ছাত্রইউনিয়ন নেতা লিটন। কুড়ি জন নারী আবারো লাঞ্ছিত হলে পশুত্বের আদিমতার নোংরা উল্লাসের কাছে।

অথচ ক্যাম্পাসে রেকর্ড পরিমান নারীর প্রতি সহিংসতার পরেও প্রগতিশীলতার দাবিদার কিছু শিক্ষক আরেফিন স্যারের রেফারেন্স লাগিয়ে সিভি বানিয়ে নারীর প্রতি সহিংসতার মন্ত্র বেচেন, এখানে ও খানে কতখানে সেমিনারে গিয়ে আলাপ করেন; টেকি দুনিয়াতেও তাদের ব্যাপক দেখা মেলে- কিন্তু নিজের ক্যাম্পাসে নারীর সুরক্ষায় এদের কোনো ভূমিকা নেই।

এরা আসলে মানুষ নয়; পা দুটো ঠিকই আছে। জবানও আছে। বাট এ সব বিক্রি হয়ে গ্যাছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নারীর প্রতি সহিংসতার খবর নতুন নয়। যৌন হয়রানি এখানে নিত্যকার ঘটনা।

ভাবলেই ঘেন্ন লাগে। কিন্তু সেই ঘেণ্নার কথা কাউকে বলতে পারি না। এতো আমারই ক্যাম্পাস। আমার রক্তে শিরা উপশিরায় এ ক্যাম্পাসের অনুভূতি। তাই এটাকে আমি অস্বীকার করতে পারি না। আমি এটা স্বীকার করে নিয়েই বলছি এ সব শুয়রের বাচ্চাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে--- যারা নারী দেখলেই হামলে পড়ে তাদের পক্ষে কারো অবস্থান থাকতে পারে না।


নিজেকে খুব অসহায় মনে হয়--- এখানে নারীর পণ্য হিসাবে ভোগের সামগ্র বিবেচনা করে কিছু মানুষ নামের পশূ তাদের পশূত্ব ক্ষমতাকে উপভোগ করছে। আবার তারায় নাকি নারী স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে। তবে একটা প্রশ্ন মনে আসে এ রকম ভোগের জন্যই কি এমন স্বাধীনতার ঘোষনা।

তাহলে আমি সেই স্বাধীনতার বিরোধী।

আমার দেখা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয ক্যাম্পাসে প্রথম নারী নিপীড়নের প্রকাশ্য ঘটনা--- টিএসটি চত্বরে। একুশ শতক বরণ করে নেবার প্রথম প্রহরে বাধনকে ন্যাংটা করা হলো। কারা করেছে---স সেটা নিশ্চয় কারো অজানা নয়।

বিচার?

হয়নি। হবেও না। এটা তামাদি। সে সময়কার ভিসি আজাদ চৌধূরী স্যার এখন মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান।

বিম্পির আমলে শামসুন্নাহার হলে পুলিশ ঢুকেছে- সে ঘটনায় শাস্তি হয়েছে । তবে সেটা আমার মনে হয়- আরো বেশি হতে পারতো। ভিসি, প্রক্টরের বিদায় নয়--- তাদের আরো দণ্ড দেয়া উচিৎ ছিল। কিন্তু মামলা হয়নি; তাই ট্রায়ালাও হয়নি। শাস্তি বলতে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজস্ব যে গণ্ডি --- সেটুকু।


সেনা সমর্থিত মইন ফখরের সময়ও ক্যাম্পাসে যৌন হয়রানি হয়েছে।
তবে আম্লীগের আমলে এটা এতটা বেড়েছে- বলে বোঝানোর উপায় নেই। আম্লীগের সহযোগি সংগঠন ছাত্রলীগের একজন নেত্রী নিজেও নিপীড়নের স্বীকার হয়েছিলেন বলে খবরে পড়েছি।

বিবিসি বাংলা গত বছরের রিপোর্ট
এক বছরে অন্তত ২০ জন নারী ক্যাম্পাসে যৌন হয়রানির স্বীকার হয়েছেন।

২০১৫ সালের বৈশাখেও একই হাল।

এ সব যৌনে হয়রানি 'অপরাধ' হতো যদি বিপরীত মতের সরকার ক্ষমতায় থাকতো। যেহেতু এখন সমমনা সরকার ক্ষমতায় তাই তা অপরাধ নয়। এটা নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করি।


আসলে আমরা নিজেরা আক্রান্ত হবার আগ পর্য ন্ত বুঝিনা কত খ্রাপ অবস্থা।

এ লেখা কারো সংশোধনের জন্য নয়--। কয়লা ধুইলে যায় না ময়লা। এটা একজন বিক্ষুব্ধ মানুষের আওয়াজ মাত্র!
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই এপ্রিল, ২০১৫ বিকাল ৩:০১
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×