somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আগাচৌ'র আত্মপক্ষ সমর্থন এবং পাকি টাবিজ

০৮ ই জুলাই, ২০১৫ দুপুর ১:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

'অবমাননা' শব্দটি এড়িয়ে চলি। তবে 'বিভ্রান্তি' তৈরিকে কবুল করি। সাধারণত ধর্ম নিয়ে কুতর্ক অনেকের কাছে লোভনীয়। আবার কিছু লোক কুতর্ক করে নিজেকে খবর করতে চান। আগাচৌ তাদেরই একজন বলে আমার ধারণা ছিল। আজ বিডি নিউজে তার আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য প্রকাশের পর ধারণা সত্য হলো--- মাদরাসা শিক্ষাকে ব্রিটিশরা যে কানা বানিয়েছে এবং পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সরকার গুলো সেটাকে অন্ধ বানিয়ে ফেলেছে--- তার একটা উজ্জ্বল উদাহরণ আগোচৌ।

ইহুদি জাতির প্রতি হেদায়াত অথবা ধ্বংশ কোনো একটার ফয়সালা চেয়ে হজের সময় হাজি সাহেবরা আল্লাহর দরবারে সম্মিলিত মোনাজাত করতেন। সৌ্দি সরকার সেটি নিষিদ্ধ করেছে । বাংলাদেশ, ইনডিয়া ও পাকিস্তানে মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থা চালু আছে। আগাচৌরা তাদেরই শাগরেদ ছিলেন।

এতে তারা এক ধরণের হীনমন্যতায় ভুগে থাকবেন হয়ত। অথবা অল্প কিছু পড়ে অনেক কিছু জানার ভান করবেন এটা অস্বাভাবিক নয়। মওদুদীর শিষ্য বলেন আর হাটহাজারী শিষ্য বলেন, দেওবন্দী বলেই সবই একই ঘরাণার। কেউ রাজনীতি নিয়ে বলে, কারো ফোকাস ধর্মকে পুজি করে ধর্মশিক্ষা নিজেদের জন্য নাজায়েজ করার লোকদের ভয়ে রাখা আবার কারো কাছে ধর্ম পূর্ণ জীবনব্যবস্থা।

সবচেয়ে খারাপ খবর হলো, কেউ ইসলাম ধর্মকে গালি দিলে তাকে আমরা প্রগতিশীল, মুক্তমনা আরো কিছু অতি উত্তম উপাধি প্রদান করি। আর এর বিরোধীদের আমরা মওদুদীর অনুসারীদের সাথে ভিড়িয়ে দিই। এটা হলো একটা কৌশল। অথচ উপমহাদেশ থেকে ব্রিটিশ তাড়ানোর আন্দোলনের মুসলিম নেতাদের প্রায় সবাই মাদরাসায় পড়েছিলেন।

আগোচৌ তার বক্তব্যটা খুবই পরিষ্কার এবং তার যুক্তিতে সেটা সঙ্গত। কিন্তু আমার মত ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র মানুষের কাছে মনে হয়েছে আগোচৌ কিছু বিষয়ে আরো সুন্দর ব্যাখ্যা দিতে পারতেন। তার বক্তব্যের ব্যাখ্যটা আরো ভালো হতে পারত।

নিশ্চিতভাবে আমি একমত আরবী একটা ভাষা --- এই ভাষায় অনেক খারাপ কথা লেখা ও বলা হয়। সাধারণত নবী ও রাসূল সা: গণ সেখানেই এসছেন যেখানকার মানুষ সবচেয়ে বেশি খারাপ ছিল। এটা আমরা জানি।

“এখন যেটাকে আরবি ভাষা বলা হচ্ছে, সেই ভাষাতে কাফেররাও কথা বলত। আজকে আরবি ভাষার যে সমস্ত শব্দ আমরা ব্যবহার করি, সবই কাফেরদের ব্যবহৃত ভাষা।'' (আগাচৌ'র বক্তব্য: সূত্র বিডি নিউজ)

আল্লাহ তো বলেছেন, সব ভাষাই তার সৃষ্টি। তারপরেও প্রশ্ন থাকে--- আরবের সব লোক কি কাফের ছিল? আরবে এর আগে যারা এসেছিলেন --- নবী রাসূল সা: হিসাবে তাদের ভাষাও কিন্তু আরবী ছিল। শুধু কাফেরদের ভাষা বলে তিনি কি নবী ইবরাহীম আ: এবং নবী ইসমাইল আ: সহ অন্য সব নবীদেরও একই কাতারে নিতে চাইছেন। বিষয়টা পরিষ্কার হলো না।

উনি নবীজীর আব্বা আবদুল্লাহ সম্পর্কে বলেছেন। আবদুল্লাহ কোরায়েশ বংশের লোক ছিলেন। কিন্তু তিনি মুর্তি পুজারী ছিলেন না। এটা সম্ভবত আগচৌর'র অজানা নয়। আর সঠিক পথ যেটাকে সেরা্তুল মুস্তাকিম বলা হয় সেটি আদম হাওয়ার সৃষ্টির পর থেকেই। আল্লাহ'র বিধান হাজার হাজার বছর আগ থেকেই আছে।

এখানে 'আল্লাহ' কা'বা শরীফের প্রধান মূর্তির নাম ছিল এর তথ্য সূত্র উল্লেখ করলে ভাল হতো। যতটা জেনেছি এটা ঠিক নয়। লাত মানাত ও উজ্জাত এ তিনটা হলো কাফেরদের কাছে প্রধানতম মূর্তির নাম।

তার বক্তব্য ভিডিওটা দেখেছিলাম--- তিনি বলছিলেন ''আবু হুরায়রা মানে বিড়ালের বাপ । আবু বকর মানে ছাগলের বাপ। এ রকম আরো ছাগলে বাপ গরুর বাপ আছেন।'' এ সময় তিনি হাসছিলেন। খুব কৌতুকপূর্ণ ভাবেই তিনি কথাগুলো বলছিলেন।

অথচ আবু হুরায়রা কিন্তু ওই সাহাবীর উপাধি। আবু বকরও তাই। নাম পরিবর্তন না করার যে কথা আগাচৌ বলেছেন তাও ঠিক নয়। আবু হুরায়রার নাম ছিল আব্দে শামস বা আবদুল ওজ্জা। রাসূল এটি পরিবর্তন করে রেখেছেন আবদুর রহমান।

“এমনকি হজও ইসলামের হজ নয়, এটাও সেই দুই হাজার-তিন হাজার বছর আগের কাফেরদের দ্বারা প্রবর্তিত হজ, উনি সেখানে এক ঈশ্বর বার্তাটি যুক্ত করেছেন।'' (আগাচৌর প্রতিবাদ: সূত্র বিডি নিউজ)

হজ সম্পর্কে এটি একটি স্পর্শকাতর মন্তব্য। হজ চালু হয়েছিল নবী ইবরাহীম আ: এর সময়। তিনি কা'বা শরীফের পুণঃ নির্মাণ শেষ করার পর হজের বিধান চালু হয়। এটা কাফের দ্বারা প্রবর্তিত এ তথ্য তার কোত্থেকে আবিষ্কার করা সেটাও পরিষ্কার করা গেলে ভালো হতো।

সম্ভবত মুসলমানদের সহনশীলতা আর ঈমানী পরীক্ষার জন্য আগাচৌ সুড়ড়ুড়ি দিয়েছেন। এতে উত্তেজিত হওনের কিছু নাই। নাস্তিক মুরতাদ বলে গালি দেওনের কিছু নাই। আবার তার স্বপক্ষীয়রা এটাকে পাকিস্তানের সাথে মিলিয়ে পার পাওয়ার যে নোংরা ও কদর্যভাবনা মাথায় আনেন তাদের জন্যও খুব মায়া হয়--- পাকিস্তান, মওদুদী,জঙ্গী এ সব বাল ছাল বেইচা আর কয় দিন। তাদের বহু বুজর্গ রাইতের আন্ধারে ওই সব লোকদের কাছে গিয়ে নেতিয়ে পড়ে। খবরও নিশ্চয় মাঝে মইধ্যে দেখেন। যাউক গা।

শাহবাগের পীরসাহেব নিশ্চয় শােলাকিয়ায় যোগাযোগ করছেন-- সেখান থেকে একটা ফতোয়ার অপেক্ষায় থাকলাম। আর আগাচৌ--- তার বয়স হয়েছে। তার সব কথায় কান দিয়ে সময় নষ্ট করার কী দরকার।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুলাই, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:০১
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনীকে এতো ভয় কেন?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:১৪

শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনীকে এতো ভয় কেন?
--------------------------------------------------------------------
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিক্রিকে কেন্দ্র করে ইউপিএলের বাংলাবাজার বিক্রয়কেন্দ্রে তালা, কর্মীদের আটকে রাখার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ
একটি বইকে কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Extra Long - Dual Coverage!

লিখেছেন মুনতাসির, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৪৫

আজান দিলে আমাদের দেশের অনেক নারীর মাথায় কাপড় দেওয়ার একটা দীর্ঘদিনের অভ্যাস আছে। আজান শুরু হলো, ওড়না মাথায় উঠল। ব্যাপারটা এত দ্রুত ঘটে যে মাঝখানে চিন্তাভাবনার বিশেষ সুযোগ নেই।

সমস্যা হচ্ছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যু পেরিয়ে আবার ব্লগে------

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৬




প্রায় ০৩ মাস হয়ে গেলো ব্লগে আসনা হয় না, আসা হয়না মানে লিখা হয়না। প্রিয়জনের মৃত্যু শোক কাটিয়ে ব্লগে উকি দেওয়া হয় কিন্তু পোস্ট দেওয়া হয় না।


গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

জল-জলন্ত

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪



সময় তখন ১৯৫০ সাল।
অলকা থাকে আমেরিকার ফারগো নামক শহরে। খুবই ছোট শহর। শহরটি ছবির মতন সুন্দর। শীতের সময় প্রচণ্ড শীত পড়ে। এলিন নামের এক বৃদ্ধার কাছ থেকে অলকা দুই রুমের... ...বাকিটুকু পড়ুন

৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলনে কোটি কোটি মানুষকে টাকা দেওয়া হয়েছিলো?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৩

গানঃ হাল্লাজের কাপড়
গানের লিংকঃ https://on.soundcloud.com/Vctd83PVm40VJ64T16



১) ৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলনকে অনেকে আম্রেকিয়া আর শিবিরের প্ররোচনায় হয়েছে বলে প্রচার করেন। আমার প্রশ্ন, আম্রিক্যা ও শিবির কাউকে কাউকে হয়তো 'ভাড়া' করে থাকতে পারে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×