somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অটিজম আক্রান্ত শিশুদের মূলস্রোতে ফেরানোই চ্যালেঞ্জ!

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ দুপুর ২:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

'রাত কাটে নির্ঘুম; অস্থিরতায় পুরো দিন; সন্তানের কী হবে- সে চিন্তা কেড়ে নিয়েছে জীবনের সব আনন্দ-উৎসব- সুখ-শান্তি-চাওয়া-পাওয়ার সবটুকু। তবুও সন্তান যেন নিজে চলতে পারে'- এ টুকু চাওয়া ফেরদৌসীর। তার ছেলেটি অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডারে (এএসডি) ভুগছে।

আলাপে তিনি বলছিলেন, দু বছর বয়সে তার সন্তানের সমস্যাটা চোখে পড়ে। সে হিজিবিজি কথা বলছিলো। কারো সাথে কমিউনিকেট করছে না। তার ইচ্ছা মত চলছে। তখনই তারা শিশু হাসপাতালের শিশু বিকাশ কেন্দ্রে নিয়ে যান। তার পর ৪ বছর। চেষ্টা চলছে অবিরত। এ চেষ্টার শেষ কবে জানা নেই!

তবুও চেষ্টা করতে হবে- ফেরদৌসীর অসীম আত্মবিশ্বাস।একদিন এ প্রতিকূলতা ডিঙাবেন।

অটিজম, নিউরো ডিজঅ্যাবেলিটি, ডাউন সিনড্রম, কমিউনিকেশন ডিজ অর্ডার কিংবা অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার (এএসডি) আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা কত, তার সঠিক পরিসংখ্যান নেই। ধারণা করা হয়, এ রকম শিশুর সংখ্যা দেড় লাখের কিছু কম বেশি হতে পারে।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় ২০০৯ সালে পরিচালিত জরিপ অনুসারে, শুধু মাত্র ঢাকা বিভাগেই প্রতি হাজারে আটজন শিশু অটিজম আক্রান্ত।

অটিজম আক্রান্ত শিশুরা একা থাকতে পছন্দ করে, এক কথা বার বার বলে, কথা বলার চেয়ে ইশারায় কিংবা বডি ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করে থাকে। কিছু বাচ্চার শারিরীক ও মানসিক সমস্যাও থাকে।

তবে অটিজম শনাক্ত করার জন্য দেশজুড়ে সরকারি মেডিকেল হসপিটালে শিশু বিকাশ কেন্দ্র থাকলেও এ সম্পর্কে অনেকেই জানেন না। জানলেও ঠিক মত সেবা পাওয়া যায় না। আছে নানা রকমের ভুল ধারণা। স্কুলগুলোতে প্রতি ১০ টি স্বাভাবিক বাচ্চার বিপরীতে ১ জন করে অটিস্টিক শিশুকে ভর্তি করার সরকারি নিয়ম থাকলেও সেটি অনুসরণ করা হচ্ছে না।

অভিভাবকরা এ বিষয়ে সচেতনত হলে, সরকারের সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে অটিজম আক্রান্ত শিশুদের দ্রুততার সাথে মূল স্রোতে আনা সম্ভব বলে মনে করেন অটিজম আক্রান্ত শিশুদের শিক্ষক রোমেলা। তিনি রাজধানীর একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়ান।

তার মতে, অটিজম নিয়ে দেশে এখনো সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। শিশু মনস্তত্ব বুঝে, সমাজের দৃষ্টি ভঙ্গি বদলানো এবং পরিবারের ভেতর থেকে সহায়তার হাত প্রসারিত হয়নি; যেটি হতে আরো সময় লাগবে। তবে যা আছে তা নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। বসে থাকা মানে বিপদ ডেকে আনা।

বিশ্বজুড়েই এখনো অটিজম আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার প্রধান বিষয় মনে করা হয় অকুপেশনাল থেরাপি এবং খাদ্য খাদ্য নিয়ন্ত্রণ--- যেমন চিনি, ময়দা, দুধ ও দুধ দিয়ে জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলা।কিছু খাবার আছে যে গুলো অটিজম আক্রান্ত শিশুদের জন্য ভালো নয়। তার ওপর অটিজম শনাক্তের জন্য প্রয়োজনীয় মাপকাঠি সম্পর্কে চিকিৎসকদের মধ্যে জ্ঞানের অভাবও রয়েছে বলে মনে করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিওলজি বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ডা. শরিফা শাহজাদী।

তার মতে, দূষণমুক্ত পরিবেশ, বিষ ও ফরমালিনমুক্ত খাদ্য আর নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে শিশুদের অটিজম আক্রান্ত শিশুদের মূল স্রোতের দিকে নিয়ে আসা সম্ভব।

আলাপে তিনি বলছিলেন, যত ছোট অবস্থায় অটিজম শনাক্ত করা সম্ভব হবে; তত দ্রুতই এর ব্যবস্থাপনা সহজ হবে। এ ক্ষেত্রে কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষার দরকার। সে গুলো বাচ্চার অবস্থার উপর নির্ভর করে।

বাচ্চাকে সময় দেয়া, তার সাথে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলা, গল্প করা এবং পরে তাকে দিয়ে সে গল্পটা বলিয়ে নেবার চেষ্টা করা, সাধারণ স্কুলে তাকে ভর্তি করে শিক্ষা-পরিচর্যার মাধ্যমে তার মানসিক বিকাশ সম্ভব বলে ডা. শরিফার মত।

অকুপেশনাল থেরাপিস্ট উম্মে সায়কা নীলার সাথেও কথা বলেছিলাম। তিনি বলেন, পেডিয়াট্রিক, নিউরো রিহ্যাবিলিটেশন বিশেষজ্ঞ, অকুপেশনাল থেরাপিস্ট, স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্ট এবং ক্ষেত্র বিশেষে ফিজিওথেরাপিস্টের সহযোগিতায় প্রতিটি অটিস্টিক বাচ্চার জন্য আলাদা আলাদাভাবে ডিজাইন করে সমন্বিত চিকিৎসা দিলে ভালো ফল পাওয়া যেতে পারে।

অনেক অটিস্টিক বাচ্চার কিছু মানসিক সমস্যা যেমন অতি চঞ্চলতা, অতিরিক্ত ভীতি, মনোযোগের সমস্যা, ঘন ঘন মনের অবস্থা পরিবর্তন হওয়া, বিষন্নতা, ঘুমের সমস্যা ইত্যাদি থাকে। এ সব ক্ষেত্রে অনেক সময় মনোরোগ চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিৎ বলে চিকিৎসকরা মনে করেন।

শিশু মনস্তাত্ত্বিক নার্সিস রহমানের কাছে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে- তিনি বলেন, একটা বাচ্চাকে প্রতিদিনের একটা রুটিন করে তা অনুসরণ করা দরকার। তার ইতিবাচক কাজের প্রশংসা, এ জন্য তাকে পুরস্কৃত করা এবং সব সময় তাকে আনন্দে রাখার চেষ্টা করার মধ্য দিয়ে তার মানসিক বিকাশ সম্ভব ।

তবে অনেকে এটি করতে চান না। ব্যস্ততাও এ ক্ষেত্রে একটা কারণ বলেন মনে করেন নার্সিস।

তবে মূল স্রোতে অটিজম আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সচেতন থাকলেও অনেক সময় বিদ্যালয়, সমাজ, পরিবারের মানুষের নেতিবাচক মনোভবের কারণে অভিভাবকদের চেষ্টাও সফল হয় না।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলি--- স্কুলগুলোতে প্রতি ১০ জন স্বাভাবিক বাচ্চার সাথে ১ জন করে অটিস্টিক বাচ্চা ভর্তি নেবার কথা। কিন্তু সেটি দু'একটি স্কুল বাদে কেউ সেটি মেনে চলে না।

গত বছরের নভেম্বরে আমার নিজের কমিউনিকেশন ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত বাচ্চাকে ভর্তির জন্য নিয়েছিলেন অরণি উচ্চ বিদ্যালয়ে। স্কুলটি তার ভর্তি নিতে অস্বীকারই করেনি; উল্টো এ ধরণের বাচ্চা কী কারণে জন্মায় তা নিয়েও প্রশ্ন করেছে।
এমন যেখানে অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি সেখানে মূল স্রোতে অটিস্টিক বাচ্চাদের ফেরানোর বেশ চ্যালেঞ্জিং; তবে অসম্ভব নয়। সে জন্য কাজ করতে হবে।

দেশে অটিজম শনাক্ত করার জন্য শিশু বিকাশ কেন্দ্রছাড়াও বেসরকারি নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান সিআরপি। সেখানে থেরাপির ব্যবস্থাও রয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য সেন্টার ফর নিউরোডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড অটিজম ইন চিলড্রেন । সেনাবাহিনী চালাচ্ছে প্রয়াস নামে একটি স্কুল। //
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

দেখা হবে যুদ্ধ ফুরোলে সন্ধের মাহফিলে;
দেখা হবে ঠিক চেনা রাস্তার অচেনা-অন্ত্যমিলে।
ছড়াব আবার শস্যের দানা দেশ থেকে মহাদেশে
মানুষই জেতে, খুঁজে নেয় আলো অন্ধকারের শেষে...

তোমার গল্পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×