somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আয়নাবাজি: রাজনীতি একটা অভিনয় কিম্বা বাঘের জন্য কচি হরিণের মাংস!

২১ শে নভেম্বর, ২০১৬ রাত ৮:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



গল্পটি আহামরি কিছু নয়, তবে চরিত্রায়নে নতুনত্ব রয়েছে আয়ানাবাজির। টাকার জন্য অন্ধকার জগতে নায়ক--- এটা বাংলা সিনেমার বহু পুরনো ধারণা। তবে সেটি ষণ্ডামির মধ্যেই আটকে থাকলেও এখানে ভিন্ন রকমের একটা চরিত্র হাজির করেছেন অমিতাভ।

মি. অমিতাভ সম্ভবত বলতে চেয়েছেন, মুখ ও মুখোশের গল্প --- এ টুকু অন্তত আমার কাছে মনে হয়েছে। মায়ের চিকিৎসার জন্য টাকা জোগাড় করতে আয়না গাউসের খপ্পরে পড়ে। গাউস বদলি জেল খাটার ঠিকাদার। এ টুকুই সিনেমা --- বাংলা সিনেমা। তবে সব প্রথাগত ছক উতরে গেছে আয়নার অভিনয়, নিজে একেকটি চরিত্রের ভেতর ঢুকিয়ে আয়না নতুন একটা জগত তৈরি করেছে।

রাজনীতি একটা অভিনয়-- এ রকম কঠোর আলাপ-সংলাপ যেমন আছে, আবার বাঘের জন্য কচি হরিণের মাংসের ব্যবস্থা হচ্ছে---এমন আদি রসের সংযোগও সিনেমাটি টেনেছে। এসেছে পুরুষ শরীরের ব্যবহারের ভিন্নতা। সাধারণত সিনামায় নারীর শরীর উপস্থাপন করা হলেও এখানে পুরুষ কেন্দ্রিক-শরীর গদ্য আছে-- তবে সেটি সমকাম নয়।

ক্যামেরা অসাধারণ কাজ আছে সিনেমাটিতে, নগর জীবনের প্রতি দরদ আছে, পঙ্কিলতার গল্প আছে। আছে কার্ল মার্কসের থিওরির গল্পও ।

ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমেই গল্পটি শেষ করেছেন, অমিতাভ । সিনেমায় খুব শক্তি নিয়ে আছে সাংবাদিকের একটি চরিত্র।
তবে সাংবাদিকের সংলাপ অপরিপক্ক, সাধারণ সাংবাদিকরা যেভাবে তথ্য উদ্ধার করে থাকেন, সেটা থেকে অনেকটা দুরে !
একই সাথে পত্রিকার কর্তাদের চাকুরী হারানোর ভয়, সাহস করে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অনীহা সিনমোটিতে বেশ ভালো করেই তুলে ধরেছেন, অমিতাভ।

বাংলাদেশের প্রথাগত ছকের বাইরে না গিয়ে সিনেমায় একজন যাত্রার নায়িকার সন্তানকে নিয়ে এগিয়ে যায় আয়নাবাজি--- মূল চরিত্র আয়না-- শরাফত করিম আয়না।

তার মায়ের ক্যান্সার ধরা পড়ার পর মিস্টার আয়নার টাকার প্রয়োজন, নগরে তাকে কে দেবে এত টাকা। বদলি জেলের অফার পায় আয়না... শুরু হয় নতুন অধ্যায়, আয়নার সাথে প্রথম কন্টাক্ট ছিল ৩ মাস জেল খাটতে হবে, টাকা যা লাগে পাওয়া যাবে। কিন্তু তিন মাসের জায়গায় ৩ বছর পর বেরিয়ে আয়না তার মা-হীন জীবনে ঢুকে! সেখান থেকেই তার বদলি জেলের জীবন--- নারী নির্যাতন মামলায় তাকে জেলে দেখা যায়, দেখা যায় বড়লোকের আদুরে গেম পাগল পুত্রের মানুষ খুনের মামলায় জেল খাটতে।
তবে শেষবার একজন রাজনীতিকের জন্য জেলখাটতে গিয়ে ফেঁসে গেলেও জেলের রক্ষীকে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করে আয়না বেরিয়ে আসে!

আয়নার জীবনে প্রেম আসে, আয়না হৃদির সম্পর্কও গড়াতে চায়! কিন্তু শেষবার জেলে যায়, আয়না। তবে সেটি নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে। তার যাওয়ার কথা হৃদির সাথে, সিলেট। এখানে খোলামেলাভাবেই হৃদির জীবনে আয়নাকে একটা সম্পর্কের মাত্রাকে প্রশ্নের মধ্যে রেখেছেন পরিচালক।

কারণ হৃদি তার বাবাকে বলে সিলেট যাচ্ছে, একা। কিন্তু সে যাবে আয়নার সাথে--- আয়নার একা ঘরে হৃদির উপস্থিতি কিম্বা আয়নার নিজের চালানো স্কুলে না গিয়ে --- হৃদির সাথে রুম ডেট এবং এর বডি ল্যাংগুয়েজ অনেকটা 'কাম' ছড়িয়ে যায় সিনেমায়!
শেষ পর্যন্ত আয়না তার প্রেমিকাকে ফিরে পায়, সাংবাদিককে তথ্য দেয়, একজন রাজনীতিক পালিয়ে আর হলিউড স্টুডিও'র আড়ালে বদলি জেলের ঠিকাদার গাউস খুন হয়।

সব মিলিয়ে একটা পরিণত ইংগিত সিনেমাটিতে কি হবে পরে? এমন আক্ষেপ আর রাখেনি!

সিনেমার শুরুটা খুবই সুন্দর-- নগরের একটা ভোরের যত্ন করে আঁকা ছবি এতে তুলে ধরা হয়েছে। গানের ব্যবহারও খুবই ভালো হয়েছে। বিশেষ করে চিরকুটের গানটি--- 'আয়নায় আয়নায় ভিন্ন কেউ সাজে, তারে তুমি দেখিতে চাওনা! লুকুচুরিতে নিজেরে পাওনা!' কিম্বা প্রেমের গান--' ধীরে ধীরে যাওনা সময়...আরো ধীরে বও!' ভালো লেগেছে।

তবে সিনেমায় বেশ কিছু খিস্তি আছে। আছে রম্য সংলাপও। সাংবাদিকের চরিত্রে পার্থ বড়ুয়া পুরো দস্তুর একজন মাদকাসক্ত । সারাক্ষণ পানির মত মদের বোতল মুখে নিয়ে ঘোরে। কিছুক্ষন পর চুকচুক মদ খান-- অনেকটা মনে হতে ক্রাইম রিপোর্টার মানে মাদকাসক্ত।
সাংবাদিকদের প্রতি লাঞ্ছিত নারী পরিবারের ঘৃণাও এখানে উঠে এসেছে... একটি সংলাপেই। তবে সেটি বেশ তীব্র! 'আপনারা তো রসিয়ে রসিয়ে লেখেন---!! '

হয়ত তাই.. হয়ত নয়... এ রকম সাংবাদিক সাবের নন, সে আর্গুমেন্টও শুনতে চায়না লাঞ্ছিতের পরিবার! এটাই তো ... সত্য!
আয়নাবাজির চূড়ান্ত ম্যাসেজ কি? টাকা হলে- ক্ষমতা থাকলে সব সম্ভব! দৃশ্যত তাই মনে হলেও আমার কাছে মনে হয়েছে, প্রতিটি মানুষই মুখোশ পরে থাকেন। ... মুখোশের আড়ালের একেক জন মানুষ একজন দক্ষ অভিনেতা-অভিনেত্রী। দুনিয়াটাই একটা অভিনয় মঞ্চ!

সিনেমার মূল চরিত্র চঞ্চল করলেও পার্থ বড়ুয়ার অনুসন্ধান প্রক্রিয়ার চেয়ে কোন সত্য প্রমাণে লেগে থাকাটা প্রশংসনীয়। মোবাইলফোন কোম্পানির রবি এবং বেসরকারি টিভি চ্যানেল আরটিভি সিনেমাটির সহযোগি ছিল!
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৬ দুপুর ১২:২৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মেধা নয়, রাজনৈতিক পরিচয়ই কি আমাদের রাষ্ট্রে যোগ্যতার মাপকাঠি?

লিখেছেন raselabe, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:২৯

বিসিএসসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পরিচয় বা ভেরিফিকেশনের কারণে প্রার্থীদের বাদ পড়ার অভিযোগ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে নতুন কোনো ঘটনা নয়। রাজনৈতিক দলগুলো ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে নিজেদের ছাত্রসংগঠনের কার্যক্রম চালু... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাবলিগে গিয়ে যা শিখলাম না

লিখেছেন মুনতাসির, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫৯

আমি যখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ি, তখন আমার কয়েকজন বন্ধু তাবলিগ করত। তাবলিগের প্রতি আমার কখনোই আগ্রহ ছিল না। তবে ওরা নিজেরা রান্না করত, আর আমি রান্না করতে পছন্দ করি। তাই একদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত একজন নারীসহ দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে বোঝা গেল যে, পররাষ্ট্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৭ বিনীত, অবনত বৃক্ষ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৯

পথে যেতে চোখে পড়লো নুয়ে পড়া বৃক্ষের শাখাগুলো। মনে হলো স্রষ্টার কাছে সে যেন নিবেদিত প্রার্থনায় অবনত। সব অহংকার, সব আত্মগরিমা, কৃতিত্বের ভার সে ধীরে ধীরে ঝরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×