
সাযযাদ কাদির ভাই- এভাবে হঠাৎ । আল্লাহ আপানাকে শান্তিতে রাখুন। আপনার মৃত্যু- শরীরিক এ প্রস্থান আমাদের জন্য শোকের, কষ্টের। পুরনো দিনগুলো ছায়াছবির মত ভাসছে!
মানবজমিনে, ২০০২ সালের নভেম্বর তাঁর সাথে সাক্ষাৎ। মতি ভাই (মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক ) রিপোর্টারদের একটা মিটিংয়ে বলেছিলেন, সাযযাদ ভাই হলেন, চলমান ডিকশনারি। সমকালীন কিম্বা পুরনো যে কোন শব্দ, তার প্রতি ও বিপরীত শব্দ তিনি সাথে সাথেই বলে দিতে পারতেন।
এমনকি প্রযুক্তির সাথেও তার ভালো পরিচিতি ছিল। সে সময় খবরের কাগজ অফিসে কম্পিউটার ব্যবহার এবং ইন্টারনেটের দিকে ঝোঁক বেড়েছিল, সে সব প্রযুক্তির কথা তাঁর কবিতায়ও তুলে আনতেন।
প্রযুক্তি-শব্দ সম্ভার নিয়ে তার একটা কবিতা সে সময় প্রথমআলোর সাহিত্য পাতায় ছাপা হয়েছিল। আমাকে ডেকে নিয়ে পড়ালেন। ভালো লেগেছিল।
তার সাথে একটা 'রসাত্মক' ঘটনা ঘটেছিল, ২০০২ সালের শেষের দিকে। আমি সে সময় সদ্য প্রথম আলোর 'আলোকিত রাজধানী' ফেরত প্রদায়ক প্রতিবেদক। বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার হিসাবে মানবজমিনে যুক্ত হওয়ার পরেও প্রথম আলোর স্টাইল শিটই ফলো করতাম।
প্রথম আলো লিখত ঘটনার 'সঙ্গে'। মানবজমিন লিখতো 'সাথে'। তো, সাযযাদ ভাই আমাকে মানবজমিনের কথা মনে করিয়ে বললেন, সঙ্গে; অঙ্গে শুনতে ভালো লাগে না, মরতুজা (যদিও আমার নাম মোরতাজা, সহকর্মীরা ইচ্ছেমত ডাকেন) । বললেন, আমরা 'সাথে'র সাথেই আছি। এখনো আমি সাথেই লিখি!
সাযযাদ ভাই স্মৃতি-বিস্মৃতির এ নগরে মানবজমিন থেকে অবসর নিয়ে কাব্য-গল্প নিয়েই ছিলেন। এভাবে হঠাৎ চলে যাবেন! ভাবনায়ও আসেনি। সপ্তাহ তিনেক আগে দেখলাম ফার্মগেটের দিকে যাচ্ছেন, রিকশা করে। ডাকতে গিয়েও ডাকা হয়নি। এখন আফসোস হচ্ছে। আপনার অনন্তের যাত্রা আনন্দময় হোক।
দ্রষ্টব্য: সাযযাদ কাদির ভাই আজ দুপুরে রাজধানীর হৃদরোগ হাসপাতালে ইন্তোকাল করেছেন।১৯৪৭ সালের ১৪ এপ্রিল টাঙ্গাইল জেলার মিরের বেতকা গ্রামে তার নানা বাড়িতে জন্ম। তার পৈতৃক নিবাস টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার উপজেলায়। তিনি ১৯৬২ সালে বিন্দুবাসিনী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ন হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে ১৯৬৯ সালে স্নাতক (সম্মান) এবং ১৯৭০ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন।
দেশ স্বাধীন হবার পর ১৯৭২ সালে তিনি করোটিয়া সা'দত কলেজ-এর বাংলা বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৭৬ সালে তিনি কলেজের চাকরি ছেড়ে সাপ্তাহিক বিচিত্রা পত্রিকায় যোগদানের মাধ্যমে সাংবাদিকতা পেশায় আত্মনিয়োগ করেন। ১৯৭৮ সালে বিচিত্রা ছেড়ে রেডিও বেইজিং-এ যোগ দেন। ১৯৮০ সালে রেডিও বেইজিং-এর চাকুরী ছেড়ে দেন এবং ১৯৮২ সাল থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় যুক্ত থাকেন।
এরপর ১৯৮৫ সালে থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত কাজ করেন আগামী-তারকালোক পত্রিকায় পরবর্তীতে এটি ত্যাগ করেন ও দৈনিক দিনকালে যোগ দেন। ১৯৯৫ সালে দৈনিক দিনকাল হতে ইস্তফা দিয়ে যোগ দেন বাংলাদেশ প্রেস ইনিস্টিটিউটে এবং ২০০৪ সাল পর্যন্ত এখানে কর্মরত থাকেন। তিনি ২০০৪ সাল থেকে দৈনিক মানবজমিন পত্রিকায় যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০১৫ সালে তিনি মানবজমিন ছেড়ে পূর্ণকালীন লেখালেখিতে মনোনিবেশ করেন।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই এপ্রিল, ২০১৭ বিকাল ৫:২৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




