somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নীল মনি
ভীষণ কঠিন পোড়ামাটিকে আবার সেই কাদামাটিতে ফিরিয়ে আনা,ভীষণ কঠিন আঘাত দেয়া শব্দমালা গুলো ফিরিয়ে নেয়া।ভীষণ কঠিন নিজের সম্পর্কে কিছু বলা।যে চোখ দেখিনি সে চোখ কেমন করে বিশ্বাস করবে জানি না।যে কখনো রাখিনি হৃদয়ের উপর হৃদয়;সে কেমন করে বুঝবে আমায়!

প্রভাতী

১১ ই জুন, ২০১৬ সকাল ৯:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রভাতীর বাম হাতে ভীষণ ব্যথা,নড়াচড়া করতে গেলে হাতের মাংশপেশীতে যখনি টান পড়ছে তখনি উহ! শব্দটা মনের অজান্তে বের হয়ে আসছে।মা সেই কোন সকালে বলেছে একটা নাপা খেয়ে নিতে।
কিন্তু কে শোনে কার কথা।মা 'কে সে বলেছে, "ব্যথাটা থাকুক মা,সামনে এগিয়ে যেতে হলে এমন ব্যথা পুষে রাখা চায়"।

প্রভাতী কলেজ থেকে বাসায় ফিরছে রিকশায় করে।পনের টাকা রিকশা ভাড়া।রিকশায় উঠার পর কিছু দূর যেতে না যেতে খেয়াল করে রিকশা ওয়ালা ভাই অন্য রিকশাওয়ালা'র সাথে ইশারায় কী যেন বলে,ও ঠিক বুঝতে পারেনা।

রিকশাওয়ালা ভাই পেছন ঘুরে ওর মুখের দিকে তাকায়।ভীষণ বিরক্ত লাগে।এদের এই দোষ একটু সুযোগ পেলে তাকাবে, কোন মেয়ে হেঁটে যাচ্ছে ঘাড় ঘুরিয়ে পেছন ফিরে ফিরে তাও দেখবে,টাকা দেবার সময় ইচ্ছে করে হাতের আঙুলে স্পর্শ করবে। কেন যে এমন করে!!!

বাসায় পৌঁছাতে এখনো পথ বেশ বাকী।হঠাৎ রিকশা ব্রেক করল,প্রভাতী সামনের দিকে তাকিয়ে দেখে বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড দেয়া হয়েছে উভয় পাশে।রিকশাচালক বলছে "আপা দেখেন কী কান্ড!"বর্ষাকালে রাস্তা ও ড্রেন ঠিক করছে।রাস্তার একপাশে বেশ ময়লা জড়ো করা।

প্রভাতী দেখছে - একজন লোক বাঁশ উঁচু করে দিল আর সামনের রিকশা'টা চলে গেল,উঁচু করা বাঁশের নিচ দিয়ে। প্রভাতী তার রিকশাচালক কে বলল" আপনি রিকশা নিয়ে আসেন, আমি হেঁটে এইটুকু পথ পার হয়ে আসছি"।

প্রভাতী রিকশা থেকে নেমে গেল,রিকশা চালক বাশঁ উঁচু করছে কিন্তু একা পারছেনা,কিছু না ভেবে প্রভাতী বাঁশে হাত রেখে উঁচু করে দিল, এর পর রিকশা একটু ঢুকতে না ঢুকতে ওখানকার এক ড্রেনের কর্মী বলল "না!এই রিকশা যাবেনা"।রিকশা ওয়ালা অবলীলায় হার মেনে নিয়ে প্রভাতী'র কাছে টাকা চাইল।প্রভাতী' তখনো হাত উচুঁ করে অন্য রিকশা,মোটর সাইকেল, সাইকেল যাবার সুযোগ করে দিল।সেই রিকশাচালক বলল আপা ছাড়েন, টাকা দেন।

প্রভাতীকে এখনো অনেক পথ হেঁটে যেতে হবে,একটু খানির জন্য লোকটা পুরো টাকাটাই নিল।প্রভাতী কিছু বলল না। টাকা দিয়ে ও হেঁটে যেতে উদ্যত হল।ঠিক তখন খেয়াল করল একটা অ্যাম্বুলেন্স দাঁড়িয়ে আছে,প্রভাতী এগিয়ে গিয়ে দেখল ওর ভেতরে রোগীও আছে।

প্রভাতী কারোর জন্য অপেক্ষা করল না,সে নিজেই হাত উচুঁ করে গায়ের সবটুকু জোর খাঁটিয়ে সেই বাশঁ তোলার চেষ্টা করল।কিছুটা তুলে যখন পারছিল না আর ঠিক তখন সেই ড্রেন ম্যান সাহায্য করল। অ্যাম্বুলেন্স পার হল কিন্তু সামনে আর একটা ধাপ মানে সামনে ছিল আর একটা বাঁশ।

প্রভাতী এগিয়ে গেল,ওই বাঁশের ওখানে গিয়েও হাত দিয়ে বাঁশ উচুঁ করে ধরল ।মজার ব্যাপার হল তখন ওকে দেখা দেখি রাস্তা দিয়ে হেঁটে আসা আরো তিনজন মানুষ এসে সেই বাঁশে হাত আরো উঁচু করে ধরল।নিমিষে চলে গেল রোগী বহনের সেই গাড়িটি।
ঠিক সেই সময়ে প্রভাতীর মনের মাঝে একটা কথায় বেজে উঠল,"সাহায্যের জন্য বেশি নয় শুধু একটি হাত বাড়ানোই প্রয়োজন।"

প্রভাতী তখনও দাঁড়িয়ে বাঁশ হাতে, অন্য মানুষ গুলো চলে গেলেও সে বেশ কিছু মোটর সাইকেল, রিকশাগুলোকে বের হতে সুযোগ করে দিচ্ছে।প্রভাতীর মুখ নেকাব দিয়ে ঢাকা,কেউ ওর মুখ দেখতে পারছেনা,কিন্তু সবাই তাকাচ্ছে ওর দিকে।

প্রভাতী দেখছে সবার চোখে মুখে একটা লজ্জা মিশ্রিত আনন্দের হাসি।প্রভাতী হেঁটে হেঁটে বাড়ি ফিরছে আর ভাবছে শুরুটা করতে হবে নিজের থেকে, যে যা ভাবে ভাবুক,আমার কাজটুকু শুধু আমিই করব।আর কোন পিছুটান নয়,নারীরাও পারে।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুন, ২০১৬ সকাল ৯:৩২
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের জন্মগ্রহণ কি আজন্ম পাপ?

লিখেছেন এম ডি মুসা, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৬



রাষ্ট্রের নিরাপত্তা আছে, জনগণের নিরাপত্তা কোথায়?

বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে কি নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকারটুকুও আমাদের নেই? সরকার ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তায় গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর থাকে। কিন্তু সাধারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনেকটা পথ হেঁটে এসেছি

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:০৫




১৯৯৭ সাল।

আমি তখন ক্লাস নাইনে পড়ি।

স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে মামুন ভাইয়ের একটা অডিও ক্যাসেটের দোকান ছিল। পাশেই মির্জা ভাইয়ের কনফেকশনারি। টিফিনের সময় ওখানে প্যাটিস খেতাম।

সেই সময় অডিও ক্যাসেটের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশটাতো এখন রাজাকারদের....

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৮




একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে বাদী ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী (৮৭)। মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়ার প্রস্তুতি চলার সময় জামাতের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা শিক্ষা একটা কর্মবিমুখ শিক্ষা

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৫

এদেশের মাদ্রাসা শিক্ষারে আপনি একটা স্ক্যাম হিসেবে ধরতে পারেন। মাদ্রাসার বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে যে মাদ্রাসাগুলো আছে সেগুলো বাদ দিয়ে অন্য সব মাদ্রাসাই এই স্ক্যামের ভেতরে। এটা একটা ভিক্ষার সাইকেল, দারিদ্র্য'র দুষ্টু... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিম করা কি হারাম?

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৬




জিম করা কি হারাম?

হ্যাঁ, জিম করা হারাম!

যদি জিমে গিয়ে নিজের পেশিবহুল বাহুডোরে কোনো ললনাকে জড়িয়ে ধরেন!

কিন্তু তারপরেও কথা থাকে।

এখানে জড়িয়ে ধরাটা হারাম। জিম করাটা নয়!

অর্থাৎ, জিমে গিয়ে শরীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×