somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নীল মনি
ভীষণ কঠিন পোড়ামাটিকে আবার সেই কাদামাটিতে ফিরিয়ে আনা,ভীষণ কঠিন আঘাত দেয়া শব্দমালা গুলো ফিরিয়ে নেয়া।ভীষণ কঠিন নিজের সম্পর্কে কিছু বলা।যে চোখ দেখিনি সে চোখ কেমন করে বিশ্বাস করবে জানি না।যে কখনো রাখিনি হৃদয়ের উপর হৃদয়;সে কেমন করে বুঝবে আমায়!

অভাব

০৬ ই নভেম্বর, ২০১৭ সকাল ১১:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

#একটি অতি সাধারণ গল্প

অন্যের কাছে হাত পেতে নেয়াটা স্বভাবের সবচেয়ে বড় অভাব;টাকা থাকলে যে মানুষটি হাত পাতবে না ব্যাপারটি এমন নয়।
গত বছরের কথা।আমি রুণু;গিয়েছিলাম বাবার বাড়ি।আমার বাবার বাড়ির রাস্তায় নামার পর পরই মাঝখানে পথ আর দু'পাশে সারি সারি গাছ।বেশ বড় একটা বাগান পার হয়ে তারপর বাড়িতে আসতে হয়।

তখন ছিল শীতকাল।গাছের সমস্ত পাতা ঝরে পড়েছে,চতুর্দিক নিষ্প্রাণ রুক্ষতা ছড়ানো প্রকৃতির উঠোন জুড়ে।হেঁটে হেঁটে বাড়িতে ঢোকার আগ মূহুর্তে খেয়াল করলাম অদূরে ষাট বছরের এক বুড়ি কী যেন তুলছে!
আমি দেখে ভিতরে চলে যাই।মায়ের বাসায় উত্তরের দিকে জানালা দিয়ে হু হু করে বাতাস ঢুকছে।শীতে জমে যাচ্ছি।এক কাপ চা বানিয়ে ঘরের জানালায় এসে দেখি -সেই বুড়ি চাচি জানালা থেকে একটু দূরে শাক তুলছেন।গায়ের রঙ একদম তামাটে,চুলগুলো দেখা যাচ্ছে না;পরনে পাতলা শাড়ি।
_ও চাচি! কী তুলেন?
_শাক তুলি মা।
_চাচি,শীত লাগে না!
_গরীবের আবার শীত।
_চাচি!শাক বিক্রি করেন কি?
_হ্যাঁ
_তাহলে যাবার আগে দিয়ে যাবেন;আমি কিনব।
তার কাছ থেকে শাক কেনাটা উদ্দেশ্য নয়;উদ্দেশ্য তার জীবনের গল্প শোনা।গল্প শুনতে আমার ভীষণ ভালো লাগে।জীবনের গল্প হতে জীবনের শিক্ষার ধারণাটা পাই আমি।তবুও অনেকেই গল্প বলতে চাই না।কেন চায় না;কারণ গল্প বলতে গেলে শব্দ খরচ করতে হয় বেশি।সময়টা এমন মানুষ বড় বেশিই হিসেবী;টাকা-পয়সা যেমন হিসেব করে খরচ করে তেমনি কথাও।বেশি কথা মানে বেশি ঝামেলা আর উৎপাত মনে করে।

চাচি এসেছেন শাক দিতে।যা চেয়েছেন সেই মূল্যই দিয়েছি।
_চাচি,এই হাড় জিরজিরে শীতে পাতলা একটা শাড়ি পড়েছেন;শীত লাগে না!
_গরীবের আবার শীত মাগো!
চাচি কথা বলছেন।উনাকে আমার চাচি বলতে মোটেও ইচ্ছে করছে না;ইচ্ছে করছে দাদি বলে ডাকি।কিন্তু একটা নির্দিষ্ট বয়সের পর চাইলেও অনেক কিছু করা ঠিক হয়ে ওঠে না।
চাচি বলছেন,"একটা সময় সব ছিল মা।জমি,ফসল।বাড়ির সবাই মরে গেল ষোলো দিনের কলেরায়।দুইটা ছেলে,স্বামী,শাশুড়ি।তারা চলে যাবার কিছু দিন পরই নদী ভাঙ্গনে ঘরডা গেল।সহায় সম্বল বলতে কিছুই রইল না।এর পরে অনেকে চেষ্টা করছে বিয়ে করার;আমি আর ও পথে যাইনি মাগো।চোখ বন্ধ করলে আমার পোলাগো দেখতে পাই;মনে মনে হয় মা মা করে ডাকছে।শুরুতে অনেক বাসাবাড়িতে কাজ করেছি;এখন আর শরীরে কুলায় না।শাক বিক্রি করি। বিক্রি করে যে টাকা পায় সেই টাকা দিয়ে চাল কিনি।আগে তিনবেলা খেতে পারতাম;এখন চালের অনেক দাম।তিনবেলা আর হয়ে ওঠে না।না খেলে কেউ মরে না মাগো,মানুষ যা মরে বেশি খেয়েই মরে!" কথাটি বলে চাচি হেসে দিলেন।আমার হাত থেকে টাকাটা নিলেন।আমি চাচির হাসির দিকে তাকালাম।অকৃত্রিম সরল বক্ররেখার হাসি।চাচি তার শাকগুলো গুছিয়ে ব্যাগের ভেতর ঢুকাচ্ছেন।আর কিছুক্ষণ পর উনি চলে যাবেন।
-চাচি,একটা প্রশ্ন করব?
-বল মা।
-আপনি কখনো কারো কাছে কোন জিনিস চেয়ে নিয়েছেন কিংবা কখনো কোন টাকা পয়সা?চাচি হেসে যা বললেন তার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না আমি।
-তোমার যদি কোন কিছুর প্রয়োজন হয় তবে সেটা মানুষের কাছে চেয়ে কোন লাভ নেই।মানুষ কোন কিছুই মানুষকে দিতে পারে না।মানুষ মানুষকে যা দেয় তা কেবল হাত বদল।চাইতে যদি কিছু হয় তবে তোমার মালিকের কাছেই তোমার চাওয়া উচিত।কারণ জুতার ফিতা কত নগণ্য একটা বস্তু অথচ সেটাও আল্লাহ্‌ তার কাছেই চেয়ে নিতে বলেছেন।মাগো! মানুষের কাছে কখনো আমি কিছু চাইনি;যা কিছু চেয়েছি আল্লাহ্‌র কাছে।তিনিই রিযিকের মালিক।সকল সময়েই আমাকে সাহায্য করেছেন।
অনেক বেলা হল;উঠি মা।"

-চাচি চলে গেলেন।ভেবেছিলাম উনার হাতে বাড়তি কিছু টাকা দিব। কিন্তু দিতে পারলাম না।উনি আমার ভাবনাকে এলোমেলো করে দিয়ে গেলেন।
কত রকমের মানুষ;কিছু মানুষ যারা মানুষিকভাবে বিকারগ্রস্ত আর কিছু মানুষ অন্যদের থেকে কতটা ভিন্ন।জীবন বোধকরি এমন;কখনো অন্যের জীবন
থেকে শিক্ষা নিতে হয়।
©রুবাইদা গুলশান
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই নভেম্বর, ২০১৭ সকাল ১১:২২
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সী পার্ল এবং চারপাশ

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:১৪


খুব ভোরে ঘুম ভাঙ্গল। সূর্য তখনও জাগেনি। ব্যালকুনিতে গিয়ে বসলাম কিছুক্ষন। সামনে সাগর আপনমনে ঢেউ তুলে নাচছে। একজন মানুষও নাই সাগরপাড়ে। এমন নিরিবিলি সাগরপাড়ই চেয়েছিলাম। যেখানে পুরোটাই আমার থাকবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ড. ইরফান আল-হোসাইনীর রহস্যজনক মৃত্যু - জীবনের চেয়ে কোনো সম্পর্ক বড় নয়

লিখেছেন এমএলজি, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪০

= ড. ইরফান আল-হোসাইনীর রহস্যজনক মৃত্যু - জীবনের চেয়ে কোনো সম্পর্ক বড় নয় =

বিশ্বখ্যাত আমেরিকান বহুজাতিক প্রযুক্তি কোম্পানি এনভিডিয়া (NVIDIA)-তে কর্মরত, বুয়েটের প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং অত্যন্ত সম্ভাবনাময় তরুণ বিজ্ঞানী ড.... ...বাকিটুকু পড়ুন

জলসার আসর

লিখেছেন নিচু তলাৱ উকিল, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:১০

রঙ্গিন শহররের বুকে তাম্বু টাঙিয়ে বসিয়েছি জলসার আসর।
ধর্মীয় বয়ানের ফাঁকে;
গলির মাথায় বেজে উঠছে উলুধ্বনি।
এদিকে তুমি আর আমি ডুবে আছি কলকির ধোঁয়ায়।
নোনতা ঘামের ব্যবচ্ছেদে পুটিমাছের বুক চিরে মেখে দিয়েছি পাঁচ প্রহরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ শেষ জীবনে

লিখেছেন সামিয়া, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৯



ঘুমিয়ে থাকা একজন মানুষ কখনো কখনো জেগে থাকা একজন মানুষের চেয়ে অনেক বেশি ভালো থাকতে পারে? কথাটা শুনতে অদ্ভুত। কিন্তু বয়স হলে মানুষ অনেক অদ্ভুত কথাই বিশ্বাস করে চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্রপতি পদে আনভীর সোবহানকে দেখতে চাই।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪২


সায়েম সোবহান আনভীর। এক বিশাল বিজনেস টাইকুন, বসুন্ধরা গ্রুপের যোগ্য কান্ডারী। আহা, কী তার ব্যক্তিত্ব! দেখতে যেমন সুন্দর, চরিত্রও যেন মাশাআল্লাহ্ ফুলের মতো পবিত্র। আর বসুন্ধরা গ্রুপের কথা তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×