somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার আপনার চেয়ে আপন যে জন…

১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ বিকাল ৫:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রথম পর্ব : লাবণ্যর কথা…



দুঘণ্টার বেশি হয়ে গেল লাবণ্য শুয়ে আছে। ঘুম আসে না কিছুতেই। পাশেই মামাতো বোনটা অঘোরে ঘুমাচ্ছে। লাবণ্য আটষট্টিতম বারের মত পাশ ফিরে শোয়। সেলফোনটা হাতে নিয়ে সময় দেখে আবারও- রাত তিনটা ছাব্বিশ।

কিছুতেই সিদ্ধান্তে আসতে পারছে না ও— কী করা উচিত ওর?ও কি ফোনটা করবে সজীবকে, নাকি করবে না!বিবেক বলে- “কোনও দরকার নেই। যে তোমাকে ফেলে এইভাবে চলে গেল, যে তোমার এতটুকু খোঁজ খবর নেয় না, কেন তুমি তার জন্য আকুল হবে? হোক না আজ একটা বিশেষ দিন… দেখো তার হয়ত মনেই নেই। সে ত তার জীবন সাজিয়ে নিয়েছে নিজের মত করে, তুমি কেন এতদিন পরে আর তাকে বিরক্ত করতে যাবে? চুপচাপ শুয়ে থাকো এবং ঘুমিয়ে যাও।” আবেগ তখন কথা বলে ওঠে- “ছেলেবেলার স্মৃতি গুলো তুমি ভুলে গেলে? তোমাদের পরিচয়, বন্ধুত্ব, স্কুল পালানো আর হাত ধরে হাঁটার দিনগুলো? ও না হয় ভুলে গেছে, তুমি তো ভোলোনি,তাহলে তুমি কেন ফোন করবে না? আজ তোমরা প্রথম একে অপরকে ভালোবাসি বলেছিলে… এখনও তো তুমি তাকে ভালোবাসো… তাহলে কীসের এত দ্বিধা তোমার? সমস্ত দ্বিধা ঝেড়ে ফেলে ফোন করো ওকে, শুভেছা জানাও।”

আবেগ আর বিবেকের বিতর্কে বিভ্রান্ত লাবণ্য আবার সেলফোন হাতে নেয়, সময় দেখে- তিনটা ঊনপঞ্চাশ। ওর আঙ্গুলগুলো আনমনে ডায়াল করে বসে ০১৭১৯******…

“হ্যালো!”বিরক্তি মাখা ঘুম জড়ানো কণ্ঠ সজীবের। প্রায় বছর খানেক পর ওর কণ্ঠ শুনে লাবণ্য আর নিজেকে ধরে রাখতে পারে না… দু চোখ বেয়ে অশ্রুর ফোয়ারা নেমে আসে, গলার কাছে কী যেন একটা দলা পাকানো… একটা শব্দও বের হয় না মুখ দিয়ে। ফোনের ওপাশে সজীব-“হ্যালো! হ্যালো! কথা বল বন্নি। হ্যালো! কথা না বললে এত রাতে ফোন করলি কেন? হ্যালো! হ্যালো!…” বিরক্ত হয়ে ফোনের লাইন কেটে দেয় সজীব।

লাবণ্য উঠে বসে। হাঁটুতে মুখ গুঁজে আঝোর ধারায় কাঁদতে থাকে,প্রাণ খোলা কান্না। আজ আর কেউ বাধা দেবার নেই। চোখের পানি মুছিয়ে দিয়ে কেউ আর বলে না, “তোর চোখ দিয়ে আর এক ফোঁটাও যদি পানি পড়ে, আগামী তিনদিন আমি না খেয়ে থাকব।” হঠাৎ কেন যেন লাবণ্যর মনে পড়ে যায় জুন মাসের সেই রাতটির কথা। প্রচণ্ড গরম… তাই জানালা দরজা সব খোলাই ছিল। সামনে ভর্তি পরীক্ষা। ঘুমাতে প্রায়ই গভীর রাত হয়ে যেত ওর। সেদিনও অনেক রাতেই বিছানায় গিয়েছিল।কিন্তু ঘুম আসছিল না। জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে ছিল ও। চাঁদের রহস্যময় আলোয় সব কিছু কেমন যেন ভৌতিক দেখাচ্ছিল। হঠাৎ করে আমগাছের ছায়াটা কেমন যেন অশরীরী মনে হয় ওর। গা ছম ছম করে ওঠে। পাশ ফিরে শোয় ও। আর হঠাৎ করেই মনে হয়, সজীব যেন ওর পাশে, ওকে বুকে জড়িয়ে ধরে বলছে, “ভয় কীরে পাগলী, আমি আছি না!”

ধড়মড় করে উঠে বসেছিল লাবণ্য। কেন যেন ওর ভিতরটা তখন ফাঁকা হয়ে গিয়েছিল। বার বার শুধু মনে হচ্ছিল সজীব ওকে ছেড়ে চলে যাবে। ভীষণ কান্না পাচ্ছিল। আর লাবণ্য কেঁদেছিলও সেই রাতে – ঠিক যেমন করে কাঁদছে আজ রাতে। পরদিন তাই খুব ভোরে বাসার অন্য সবাই ঘুম থেকে ওঠার অনেক আগেই চুরি করে আম্মুর সেলফোনটা নিয়ে ছাদে চলে গিয়েছিল লাবণ্য, আর সেলফোনের ওপাশে ছিল সজীবের নিষ্প্রাণ কণ্ঠ- “বন্নি, কাল সারা রাত আমার এক ফোঁটা ঘুম হয় নি।অনেক ভেবে দেখলাম,আমি পারব না। আমাকে তুই মাফ করে দিস। I am sorry….”।আর কিছু শুনতে পায়নি লাবন্ন।অর চোখ তখন ঝাপসা… মনে হচ্ছিল সমস্ত পৃথিবী যেন দুলছে। তারপর কিছু বুঝে ওঠার আগেই গড়িয়ে পড়েছিল সিঁড়ি বেয়ে।

মাথা আর কোমরের ব্যাথা আজও ভোগায় লাবণ্যকে, যেমন ভোগায় সজীবের সাথের স্মৃতিগুলো। আকাশ পাতাল ভাবতে ভাবতে রাত শেষ হয়ে যায়… ফজরের আজান ভেসে আসে… নামাজের পাটিতে বসে লাবণ্যর মোনাজাতে একটি আকুতিই ঝরে পড়ে… “খোদা, আমার মনটাকে তুমি শান্ত করে দাও প্লিজ।”





পত্রিকার লিংক
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ বিকাল ৫:৫৯
২৬টি মন্তব্য ২৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যোগেন্দ্রনাথ মন্ডলঃযাঁর হাত ধরে পাকিস্তানের জন্ম

লিখেছেন কিরকুট, ৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৭



দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে কিছু মানুষ আছেন, যাঁদের ভূমিকা একদিকে যুগান্তকারী, অন্যদিকে গভীরভাবে বিতর্কিত। যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল সেই বিরল ব্যক্তিত্বদের একজন। পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মপ্রক্রিয়ায় তিনি ছিলেন একেবারে কেন্দ্রীয় চরিত্র। অথচ কয়েক... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি অসভ্য জাতির রাজনীতি!

লিখেছেন শেরজা তপন, ৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:২১


সাল ২০০৮। ব্লগারদের দারুণ সমাগম আর চরম জোশ। ব্লগে ঝড় তুলে দুনিয়া পাল্টে দেওয়ার স্বপ্ন তখন সবার।
বিএনপি আর জামায়াত জোট তখন ভীষণ কোণঠাসা। কেউ একজন মুখ ফসকে ওদের পক্ষে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিঃস্বঙ্গ এক গাংচিল এর জীবনাবসান

লিখেছেন নীল-দর্পণ, ৩১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৪৯

বিয়ের পর পর যখন সৌদি আরব গিয়েছিলাম নতুন বউ হিসেবে দারুন ওয়েলকাম পেয়েছিলাম যা কল্পনার বাইরে। ১০ দিনে মক্কা-মদিনা-তায়েফ-মক্কা জিয়ারাহ, ঘোরাফেরা এবং টুকটাক শপিং শেষে মক্কা থেকে জেদ্দা গাড়ীতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নির্বাচন, গণভোট ও রাজনীতির বিভ্রম: বাংলাদেশের বাস্তবতা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:০৭


আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলো প্রাণপণ চেষ্টা করছে ভোটার উদ্দীপনা সৃষ্টি করতে, কিন্তু জনমনে কাঙ্ক্ষিত উচ্ছ্বাস যেন অনুপস্থিত। এই উদাসীনতার কারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝগড়াটে মেটা এআই.....বেটা এআই X#(

লিখেছেন অপ্‌সরা, ৩১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৩


আমি তখন প্রায় সারাদিনই শুয়ে শুয়ে দিন কাটাতে বাধ্য হয়েছি। হঠাৎ করে এমন অপ্রত্যাশিত থমকে যাওয়া মেনে নেওয়া তো দূরের কথা আমাকে যারা একটু আধটুও চেনে তারাও মানতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×