২০০৪ সালের কথা। বসন্তের শেষ প্রায়; মার্চ মাসের মাঝামাঝি। জীবন তখন স্বাভাবিক। অন্য দশটি দিনের মত ঐ দিনটি শুরু হয়েছিলো।

কিন্তু হঠাৎই জীবনটা থেমে গেল যেন। চারিদিকে থমথমে ভাব। প্রতিটা মানুষের চোখে-মুখেই যেন কেমন একটা দুঃখের ছায়া।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯জন ও বুয়েটের ২জন শিক্ষার্থী কটকা সী-বিচে ডুবে মারা গেছেন। পুরা খুলনা শহরে খুব কম লোকেই এই ১১জনকে চিনতো, আমরা চিনতাম না। কিন্তু পুরা খুলনা শহরে থমথমে অবস্থা। ১১জন টগবগে মানুষের মৃত্যু সবাইকে যেন নিরব করে দিয়েছে।
এখন প্রতিদিনই মানুষ মারা যাচ্ছে। বিভিন্ন ভাবে। আগের স্বাভাবিক মৃত্যুর সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে হঠাৎ মৃত্যুর সংখ্যা। সড়ক দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা, খুন..... আরও কত ভাবে মরছে মানুষ। তবে অস্বাভাবিক মৃত্যু এখন আমাদের কাছে স্বাভাবিক।
ফেসবুক সহ অন্য সকল সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে মানুষের ফোকাস এখন নষ্ট। আঙ্গুলের খোঁচায় পেজ স্ক্রোল করতে না করতেই কারও হত্যার খবর থেকে পরিবর্তন হয়ে চলে আসে কোন এক অযোগ্য লোকের বেসুরো গলায় গাওয়া ভাইরাল গান। মুহুর্তেই চাপা পড়ে যায় অন্যায় ভাবে হত্যা হওয়া মানুষের খবরটি। মন থেকেও মুছে যায়।
সাইন্সফিকশনের ভক্ত ছিলাম এক সময়। একটা বইয়ে পড়েছিলাম একজন মা তার ছেলের দুর্ঘটনার ঘটনা ভুলে পার্টিতে যোগ দিচ্ছেন, একটা ডিভাইসে মুড চেঞ্জ করেই তিনি সব ভুলে আনন্দের অনুষ্ঠানে রওনা হলেন।
মাঝে মধ্যে মনে হয় আমরা যেন সেই জায়গায় চলে এসেছি। নিষ্ঠুরতা আমাদের এখন এমন ভাবে জেঁকে বসেছে যে আমরা এখন আর কোন মানুষের কষ্টেই যেন নিজে কষ্ট পাই না। থমকে যায় না আমাদের জীবন।
সড়ক দুর্ঘটনা বাংলাদেশের একটা বড় সমস্যা। কিন্তু এ নিয়ে দুইদিন পরপর ভাঙ্গচুর, রাস্তা ব্লক ছাড়া আর কিছুই কি তেমন হচ্ছে? আমরা না পারছি এগুলি কমাতে, না পারছি এগুলা কমানোর জন্য কোন পদক্ষেপ নিতে।
দুইজন ড্রাইভারের প্রতিযোগীতায় পড়ে একজন মানুষ মারা যাচ্ছে, সেটার বিচার করা যাচ্ছে না। ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া মানুষ গাড়ি চালাচ্ছে, কিছু করা যাচ্ছে না।
লঞ্চ ডুবিতে প্রতি বছরই মানুষ মারা যাচ্ছে। একটা দুর্ঘটনা হলেই আমরা নড়েচড়ে বসি, পুরাতন লঞ্চ গুলি তখন একটু সেরে রাখা হয়, তারপর ১০-১৫দিন যেতে না যেতেই সব আবার যা যা তাই তাই।
আর কত মৃত্যু হলে একজন মানুষ জন্মাবে, যে এগুলির থেকে আমাদের টেনে তুলতে পারবে?
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০২১ রাত ১:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



