somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শখের ফোটগ্রাফী ছেড়েছি, এবার ক্যামেরা ছাড়ার পালা!

১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ রাত ১:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

খুব সম্ভবত ২০১০ এর দিকে বাংলাদেশে ডিএসএলআর ক্রেজ শুরু হয়। হাতে একটা ডিএসএলআর না থাকলে হয় না যেন! সবাই তখন ফটোগ্রাফার।


তো, আমাকে ঠেকালো কিসে? টাকায়! টাকা নাই, ক্যামেরা নাই। টিউশনি করতে ইচ্ছা করে না তেমন। যে কয়েকটা করেছি, ছাত্র/ছাত্রীদের মায়েদের অদ্ভুত আচরণে সবকটাই ছাড়তে হয়েছে হুটহাট করে!

তবুও ক্যামেরা কিনতে হবে বলে ধরলাম। গুলশানে একটা পিচ্চিকে পড়াতাম। মেয়েটা দামী স্কুলে পড়ে ঠিকই, কিন্তু বুঝে উঠতে পারে না। বিশেষ করে ম্যাথে এক্কেরে কাঁচা! মাসে ৭,০০০ টাকা দিবে চুক্তিতে পড়াতে নিলাম। ৬মাস পড়িয়ে ৪২ হাজার টাকা, আর এক ভাই থেকে ৮হাজার টাকা ধার করে ক্যামেরা কিনে ফেললাম। পরের দু-মাস পড়িয়ে দেনা শোধ করে পড়ানো ছেড়ে দিলাম।

এরপর শুধু দিন রাত ঘুরি, ক্যামেরা হাতে বা ব্যাগে নিয়ে। যা পাই ছবি তুলি! মাত্র ৩/৪ মাসের মধ্যে ক্যামেরায় প্রায় ৭/৮ হাজার ছবি তুলে ফেললাম। প্রথম দিকের একটা ছবি একা একাই চরম সুন্দর হয়ে গেলো। সেটা বাঁধাই করে এক আপার কাছে বিক্রি করলাম, নগদ ৫হাজার টাকা! এরপর যা ছবি আসে, তার কোনটাই ভালো লাগে না।

অনলাইনে টিউটোরিয়াল দেখা শুরু করলাম, এর ওর সাথে বের হওয়া শুরু করলাম, প্রতিদিন কোন না কোন এক্সিবিশনে ঢু মারা শুরু করলাম। আরও কয়েক মাসের চেষ্টায় একটু জাতে ওঠা শুরু করলাম।

ফটোগ্রাফির একটা পর্যায়ে এসে আমি আবিস্কার করলাম যে বাংলাদেশে কেউ তেমন একটা প্যানিং ফটোগ্রাফী করে না। শুরু করলাম প্যানিং ফটোগ্রাফী। প্যানিং ফটোগ্রাফির জন্য ঢাকায় অন্যতম সুন্দর জায়গা হচ্ছে লেক রোড। লম্বা একটা রাস্তা, চওড়া, দ্রুত গতিতে গাড়ি যাওয়া আসা করে। ব্যাস, প্রতিদিন লেক রোডে যাওয়া শুরু হলো। প্রচুর প্রচুর প্যানিং ফটোগ্রাফী চলতে থাকলো।

তবে আমি যে সব ছবিকে বুকে জড়িয়ে আমার ফটোগ্রাফির দিন গুলির কথা স্বরণ করি, সেগুলির মধ্যে প্যানিং ফটোগ্রাফী নেই। কিন্তু প্যানিং ফটোগ্রাফীতে এক সময় এতই এক্সপার্ট হয়েছিলাম যে দেশের কয়েকজন নামকরা ফটোগ্রাফার আমাকে একটা ফটোগ্রাফী সেমিনারে প্যানিং ফটোগ্রাফির উপরে এক ঘন্টার লেকচার দিতে সুযোগ দিয়েছিলেন!

একটা সময় এসে মানুষ বা কোন প্রাণী আছে এমন ছবি তোলা বন্ধ করে দেই। ফলে প্যানিং বাদ পড়ে যায়। প্রাকৃতিক ছবিতে মন দেই। কিন্তু প্রথমে বিয়ে, পরে চাকরী-ব্যবসা আর শেষে সৌদী আরব আসবার পর ধীরে ধীরে ছবি তোলার হার কমতে কমতে একেবারে শূণ্যে পৌছে গেছে। ক্যামেরায় ময়লা পড়ে গেছে। আগে যেখানে ঘর থেকে বের হলেই ক্যামেরা নিয়ে বের হতাম, এখন সেখানে দূরে কোন ট্যুরে গেলেও ক্যামেরা নেওয়ার কথা মনে থাকে না।

আমি কখনোই খুব ভালো ছবি তুলি নাই। আমি খুব ভালো ছবি তুলতে পারি না। তবে ছবি থেকে ইনকাম হয়েছে অনেক। পত্রিকা, ম্যাগাজিন, ক্যালেন্ডার সহ স্টক ফটোগ্রাফী থেকে বেশ ইনকাম হয়েছে; যার প্রায় সবটুকুই কাকতালীয় ভাবে মিলে গেছে।

গত ৭মাস আগে আমি হিসাব করেছিলাম যে যদি মাসে অন্তত একটি ছবি না তুলি, এমন ভাবে মাত্র ৪মাস যায়, তাহলে ক্যামেরাটা বিক্রি করে দিবো। আজকে ৬মাস হলো ক্যামেরাটা কোথায় তাও ঠিক জানি না। জানি আলমারির মধ্যে কোন এক ড্রয়ারে আছে! এতটুকুই।

শখের মৃত্যু হয়েছে বলবো না। বলবো শখ পূরণের ইচ্ছার মৃত্যু হয়েছে। এবার ক্যামেরাটা বিক্রির পালা!

Photo by Hossein Moradi on Unsplash

সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ রাত ১:৩৭
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জীবন এক মরীচিকা

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:২৬


ফেসবুক এ কতজনই ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠায় সবার সাথে কথা হয় না। তানিম ছেলেটি কবে থেকে ফেসবুক এ ছিল মনে নেই। একসময় সে যোগাযোগ করল আমার লেখা, পড়ার আগ্রহ দেখালো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই মিউজিয়ামঃ আলোর নিচে অন্ধকার!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:১৩

জুলাই মিউজিয়ামঃ আলোর নিচে অন্ধকার!

জুলাই মিউজিয়ামে ঢুকলে প্রথমেই যে অনুভূতিটি হৃদয়কে স্পর্শ করে, তা হলো- এটা শুধু একটি জাদুঘর নয়; এটা একটি জাতির রক্তাক্ত স্মৃতির সাক্ষ্য।
পরিকল্পনা থেকে নির্মাণ- প্রতিটি পরতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে----- ড্রাকুলা হাসিনা।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৫৭



ড্রাকুলার হাসিনা তো আর এমনি এমনি বলেনি যে, আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে।

রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। যা মূলত ভারতকে একতরফা সুবিধা দেওয়ার জন্য তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

অবিশ্বাস্য, অবিস্মরণীয়! বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে!!! :-ls B-)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৪৯



অবিশ্বাস্য, দুর্দান্ত, অতুলনীয়,অবিস্মরণীয় যে বিশেষণই ব্যবহার করি না কেন বাংলাদেশের এই জয়ের মহত্ব বুঝাতে কোন শব্দ ভান্ডারই যেন যথেষ্ট নয়। আমি রীতিমত বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি বাংলাদেশের এমন পারফর্মেন্স দেখে!! বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Humans are (not) from Earth-রূপের বৈচিত্র্য ও আঞ্চলিক প্রোগ্রামিং

লিখেছেন শেরজা তপন, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৩৩

প্রশ্ন ও প্রারম্ভিক জিজ্ঞাসাঃ
আমাদের মনে কি এমন প্রশ্নের উদয় হয় না যে,"আমরা যখন পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের অবয়ব, গায়ের রঙ, চুল কিংবা পুরুষদের মুখের দাড়ি-গোঁফের দিকে তাকাই, তখন এক অদ্ভুত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×