হমিওপ্যাথি কাজ করে কি করে না, এ বিষয়ে মূলত কোন তর্ক বা বিতর্কে অধিকাংশই জড়াতে চান না। সবাই প্রায় বলে দেয় যে হমিওপ্যাথি কাজই করে না।

তখন কেউ যদি মিন মিন করে বলে, ঐযে সেবার আমার একটা টিউমার হলো, ডাক্তার বললো অপারেশন করতে হবে, হমিও খেয়েতো আমার সেটা সেরে গেলো। লোকে তখন উত্তর দেয়, প্লাসিবো!
এআই দিয়ে কোডিং শুরু হবার পর থেকে ইন্সটা আর টিকটকে প্রচুর ভিডিও দেখা যায়, যেখানে ইনফ্লুয়েন্সেরারা বলে মাত্র একটা দুইটা কমান্ডেই বানিয়ে ফেলুন এ্যাপ, ওয়েব সাইট ইত্যাদি। কেউ একজন এটাকে নাম দিয়ে দিলো ভাইব কোডিং। যারা ভাইব কোডিং করে, তারা হমিওপ্যাথি পছন্দ করা লোকেদের মতই অপমানিত হয় পথে ঘাটে।
আমি কোডার না, আমি কিচ্ছুই না। তবে ২০০৯ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত আমি ওয়েব সাইট তৈরী করে পেট চালিয়েছি।HTML, CSS, PHP & JavaScript খুব খুটিয়ে খাটিয়ে টুকটাক শিখেছিলাম, বেসিক লেভেলেরই। ২০২০ সালে করোনায় ঘরে আটকে থাকা সময়ে ঘুটেঘেটে সামান্য Kotlin শিখেছিলাম এন্ড্রয়েড এ্যাপ বানানোর জন্য। একটা কোড কিনে, সামান্য এডিট করে একটা এ্যাপও রিলিজ দিয়েছিলাম। গুগল সেটাকে ২০২৩ এর শেষ দিকে এসে স্টোর থেকে সরিয়ে দেয়।
বেশ কিছু কাজের জন্য অনেক দিন ধরে অনেকের পিছনে ঘুরঘুর করেছি। একটা রেডিমেড সফটওয়্যার চেয়েছিলাম সৌদীতে আমার ব্যবসা গুলির হিসাব রাখার জন্য, একটা চেয়েছিলাম ইনভেন্টরির হিসাব রাখার জন্য। ভালো কিছু বা মন মত কিছু পাইনি। ঐ এ্যাপটাও আবার দাড় করাতে চেয়েছিলাম, একজনের কাছে খরচও জানতে চেয়েছিলাম, ৪লাখ টাকা চেয়েছিলেন উনি। আর একটা এ্যাপ এর আইডিয়া ছিলো, সেটা সর্বনিন্ম ৯লাখে একজন করে দিতে চেয়েছেন।
চ্যাটজিপিটি প্রথম যেদিন দেখি, প্রচন্ড অবাক এবং খুশি হয়েছিলাম। টেক এন্থুজিয়াষ্ট (বানান মনে হয় এটাই হবে, না হলে বুঝে নিন) হিসাবে এগুলি আসলেই আমাকে শিহরিত করে।
চ্যাটজিপিটির পর বহু এআই এসেছে, বহু এআই বহু কিছু করতে পারে। কিন্তু যেদিন কার্সর.এআই দেখলাম, সেদিন আবার সেই রকমই খুশি ও আনন্দিত হলাম। কোন কথা না বাড়িয়ে সাবস্ক্রিপশন কিনে নিলাম। সেটা প্রায় বছর খানেক আগের কথা।
কার্সরকে ধরিয়ে দিলাম আমার সেই এ্যাপটি, এনালাইসিস করে দেখতে বললাম কেন গুগল নামিয়ে দিলো। মিনিট কয়েকের মধ্যে সমস্যা ফিক্সড। আমি আরও ৪/৫ ঘন্টা এটা ওটা কমান্ড দিয়ে এ্যাপটিকে মন মত সাজিয়ে নিলাম। গুগলে আপলোড করতেই সেটাও এপ্রুভ হয়ে গেলো। খরচ তখনও ২০ ডলার (২,৫০০ টাকার কম)। কার্সরকে বললাম আর একটা এ্যাপের আইডিয়া, ৮/৯ দিনের মাথায় সেটাও দাড় করিয়ে ফেললাম। এটা আশার থেকে বেশ ভালোই হলো। খরচ তখনও ঐ ২,৫০০ টাকার কমই ছিলো।
এরপর গত কয়েক মাসে ধিরে ধিরে আমি কয়েকটা প্রোজেক্ট তৈরী করেছি। একটা মানি-ম্যানেজমেন্ট ওয়েব-এ্যাপ তৈরী করেছি, এখন সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা মাত্র ৪০০ এর মত। সবাই মাসে আমাকে ৫ রিয়াল করে দেয়। মোটামুটি ২,০০০ রিয়ালের (৬৫ হাজার টাকার) মত আসে মাসে এটা থেকে। এর পিছনে কাজ করবার জন্য একটা ছেলেকে রেখেছি, ও দিনে ঘন্টা খানেক দেখে কোথাও কোন সমস্যা আছে কি না। মূলত সৌদী আরবের বিভিন্ন কিছুর হিসাবে তৈরী করা হয়েছে বলেই সৌদী আরবের কাষ্টমারদের এটা আকৃষ্ট করে। এখন চলছে আরবিতে ট্রান্সলেশনের কাজ।
আমার একটা শর্মার দোকান আছে, ওটাতে কেনাকাটার সফটওয়্যার লাগাতে গেলাম, সর্বনিন্ম পেলাম ৬০০ রিয়াল (বছরে), কোন কম্পিউটার, প্রিন্টার বা স্ক্যানারের অপশন ছাড়াই, অফার। ৭/৮ দিন বসে মোটামুটি একটা দাড় করিয়ে ফেলেছি। কাজ করছে, হিসাব চলছে। গত কয়েকদিন আগে সরকারী ট্যাক্স ডিপার্টমেন্টের লোক এসে কাই-কুই করে পরে কোন সমস্যা বের করতে পারে নাই। খালি বলছে আরবি অপশন না থাকলে তাদের বুঝতে অসুবিধা হয়।
-----------
আমি পুরা ৩ বছর মুখের একটা অসুখে ভুগেছি। ডাক্তার দেখিয়ে কাজ হয় নি। ইন্টারনেট ঘেটে-ঘুটে পেয়েছি তেমন কোন লাভ হবে না, ওটা নিয়েই বাঁচতে হবে। ঝাল খাওয়া ছাড়া জীবন কিভাবে কাটাবো সেটা নিয়ে একদিন মন খরাপ করছি দেখে আমার স্ত্রী বললো, চলো, দেশে গিয়ে হমিওপ্যাথি একটা ডাক্তার দেখাই। যা বলা তাই কাজ, চলে গেলাম। দেশে পৌছানের চতুর্থ দিন থেকে আবার ঝাল খাবার খাওয়া টুকটাক শুরু হলো। প্রায় দু বছর হলো, আমি এখন আগের মতই স্বাভাবিক ভাবে ঝাল খাই।
ব্লগে একজনের পোষ্টে বলেছিলাম এটা। উনি আবারও স্বরণ করিয়ে দিলেন, ওটা প্লাসিবো ইফেক্ট।
---------
আমার প্রিয় একজন দেশি কোডার কিছুদিন আগে একটা ভিডিও ছেড়েছেন, ভাইব কোডারদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্ল্য করে ভিডিও। আমি শুধু উনাকে স্বরণ করিয়ে দিলাম, উনি যে দুইটি কাজের জন্য ৮-৯ লাখ টাকা চেয়েছিলেন, সেটা আমি ভাইব কোডিং এর মাধ্যমে ২,৫০০ টাকা খরচ করেই করে ফেলেছি।
---------
হমিওপ্যাথির প্লাসিবো, আর ভাইব কোডিং এর হাবিজাবি কোডিং; কাজ যদি হয়, তাহলে তাই সই!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

