
আমার বড় ভাইয়ের তখন ফ্রান্সে যাবার কথা আমার আম্মার এক আত্মীয়ার বরের ব্যবসা ছিলো ফ্রান্সে। আমার বড় ভাই তার প্রতিষ্ঠানে চাকরী করতে যাবেন। বেশ ধার দেনা করে আব্বা তাকে ১২লক্ষ টাকা দিলেন। ভিসার দেরীর বিষয়ে দুলাভাই তখন বলেছিলেন যে ফুটবল বিশ্বকাপের জন্য সমস্যা চলছে, বিশ্বকাপ শেষ হতেই ভিসা। তিনি আমাদের এমনটাও বলেছিলেন যে ওরা বিশ্বকাপটা জিতলে ওদের মন নরম থাকবে ভিসা সহজ হবে। এ ভাবনা থেকে আমরা সে বছর ফ্রান্সকে সাপোর্ট করেছিলাম।
ফ্রান্স জিতেছিলো বটে, তবে আমার ভাইয়ের বিদেশ যাওয়া হয়নি। আমাদের টাকায় দুলাভাই আম্রিকা ঘুরে এলেন ফ্যামিলি নিয়ে। উনি বড় ব্যাংকের বড় কর্মকর্তা হবার সুবাদে ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে আমাদের টাকা ধীরে ধীরে শোধ করেন।
এরপর ২০০২ সালে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে ফুটবল বিশ্বকাপ দেখা শুরু করি। কিন্তু খুব একটা আগাতে পারি নি। ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনার কিছু খেলোয়াড়ের অভিনয় করে মাঠে লুটিয়ে পড়া আর সেই অভিনয়ের উপর ভিত্তি করে হলুদ-লাল কার্ড দিয়ে রেজাল্ট ছিনতাই দেখার পর আর শেষ পর্যন্ত আর খেলা দেখা হয়নি।
এরপর সোজা খেলা দেখি ২০১৪ সালে একটা ম্যাচে। আমি তখন কল্যানপুরে আমাদের খুলনার কয়েকজন ভাইয়ের সাথে থাকি। সে রাত্রে ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম। এক বড় ভাই দরজায় নক করে উঠালেন, বললেন ব্রাজিলের ম্যাচ দেখতেই হবে, না দেখলে ঐ ফ্লাটে থাকতে দিবেন না! দুর্দান্ত এক ফ্লাটে চরম কম খরচে থাকতাম, ফলে কিছুটা ভয় নিয়েই খেলা দেখতে বসলাম। জার্মানির লোকজন দেখি বল নিয়ে ব্রাজিলের ডি-বক্সের দিকে যায়, আর গোল ঢুকায়। সে এক দুর্দান্ত পরিস্থিতি। ৭টা গোল করে ল্যাড়া ভ্যাড়া এক অবস্থা। খেলার আর্ধেক সময়ে সবাই গিয়ে শুয়ে পড়লেও আমি পুরাটা খেলা দেখলাম।
এরপর বেশ কয়েকটা বিশ্বকাপ এসেছে, গিয়েছে। গত বিশ্বকাপে সৌদি আরবের আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জেতার খবর নেওয়া বাদে আমি আর তেমনটা নাক গলাই নি। অবশেষে এ বছরের খেলা শেষ হলো জেনে ভালো লাগলো।
বিশ্বকাপ (হোক সে ক্রিকেট কিংবা ফুটবল) এর সময় আসলে বেশ অস্বস্তিতে থাকি। লোকজন স্বাভাবিক ভাবেই আলোচনা করেত আসে, আর আমি ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকি। আমার অফিসের সবাই অবশ্য বিষয়টা বুঝে গেছে, তাই কেউ আর খেলা নিয়ে আমার সাথে আলোচনা করে না। তবুও অস্বস্তিতে থাকি। আমাকে বেশির ভাগ সময় একলা থাকতে হয়। কারণ, অন্যরাতো ঐ আলোচনায় ব্যস্ত।
-----------------------------------------
বেশ অনেকদিন হয়ে গেছে আপা গিয়েছেন। শুনছি তিনি নাকি ফেরৎ আসবেন। আসুন, আমিও সেটা চাই। সাথে ফিরিয়ে আনুন উনার সাঙ্গপাঙ্গদের।
উনার রেখে যাওয়া সাঙ্গপাঙ্গরা অনেকেই গত দুবছরে সৌদি আরবে পা রেখেছেন। আমি চাই তারাও ফেরৎ যাক। তাদের উৎপাতে সৌদিতে থাকা দায় হয়ে যাচ্ছে। উনারা এখানে এসে সন্ত্রসী বাহিনী তৈরী করেছেন। চুরি-ছিনতাই-মাদক-ডাকাতি-পতিতাবৃত্তি, হেন কাজ নাই তারা করছেন না। সবচাইতে ভয়ঙ্কর হচ্ছে অপহরণ। সাধারণ প্রবাসীদের অপহরণতো করছেই, মাঝে কয়েকজন বাংলাদেশী নারীকেও অপহরণ করেছে!
উনাদের ভয়ে বাঙ্গালী অধ্যুষিত (যেমনঃ রিয়াদের হারা-বাথা-মানফুয়া-শিফা) এলাকাগুলিতে যাওয়া ছেড়েই দিয়েছি প্রায়।
তাই মন থেকে দোয়া করি, তিনি ফেরৎ আসুক, সাথে এরাও ফেরৎ যাক। না হলে সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশীদের জীবন কঠিন হয়ে দাড়াবে।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



