somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিএনপি , আওয়ামীলীগ ও জনগণ

১৫ ই জানুয়ারি, ২০১৫ বিকাল ৩:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শহরের এক কর্দমাক্ত রাস্তায় দাড়িয়ে ছিল ‘ব্যাম্পি’।কিন্তু ভালভাবে খেয়াল না করলে বুঝা যায় না যে সেই স্যাঁতস্যাঁতে ঘন তরলটি আসলে রক্ত,নিচের দিকে না তাকালে অত্যন্ত বুঝা যায় না।দীর্ঘ ৬ বছর সে না খেয়ে আছে, উলটো তার সামনেপিছনে অসংখ্য ক্ষত চিহ্ন। বহু সাধনায় সে ৫ বছর না খেয়ে থাকার অভ্যাস রপ্ত করেছে, কিন্তু তাই বলে এই অতিরিক্ত ১ বছর না খেয়ে থাকার দরুন তার পাকস্থলী থেকে ক্ষুদা গিয়ে পৌছিয়েছে মস্তিষ্কে।দূর থেকে এখন ‘ব্যাম্পির’ কপালের ধমনী গুলাও স্পষ্ট বুঝা যায় আর তার উদ্ভ্রান্ত চোখ জোড়া প্রমাণ করে সুযোগ পেলেই সে শহরটা ছিড়ে খাবে।
__
‘অ্যামিলি’ আবার সে তুলনায় অনেক স্বাভাবিক। তার ভয়ঙ্কর মুখশ্রীর নিয়েও সে অনেক সুন্দর করে হাসতে পারে। আর সে হাসিতে ‘জনকে’ ভুলিয়ে ভুলিয়ে ছ’টি বছরও সে কাটিয়ে ফেললো।৬ বছরে সে এখন ভালোই স্বাস্থ্যবান এবং স্বাস্থ্য অনুযায়ী অবশ্যই তার চাহিদাও অনেক বেশি।তবুও ‘ব্যাম্পির’ মতন সে এখন আপাতত অভুক্ত নয়। যদিও তার চাহিদার যোগান দিতে গিয়ে ‘জন’ তার প্রতিবন্ধী শরীর নিয়েও দিন রাত সার্কাসে খেলা দেখিয়ে যাচ্ছে। কারন এই সার্কাসের আয় থেকেই ‘অ্যামিলির’ সংসার চলে।
__
সার্কাস দেখতে আসা দর্শকগুলাও বেশ অদ্ভুত। তাদের কারও হাত নেই, কারও কান নেই, কারও ঠোঁট নেই।মজার ব্যাপার হচ্ছে দর্শক সারিতে বসা সবাই স্বাভাবিক রূপেই জন্মেছিল। কিন্তু সেই প্রতিবন্ধীদের সার্কাস এতোটাই উত্তেজনাপূর্ণ ছিল যে তারা নিজেরাই নিজেদের এই অবস্থা করে। কিন্তু সবার মধ্যে একটা জাগায় অদ্ভুত মিল- আর সেটা হচ্ছে তাদের দু’জোড়া অস্বাভাবিক সাদা চোখ। ভ্রু না থাকার কারনে তাদের চোখের সামনে ঘটে যাওয়া সার্কাস তাদের অনন্তকাল ধরে দেখে যাওয়া লাগছে। আর এ কারনে তাদের চোখের মনি এক বিন্দুতে গিয়ে ঠেকেছে। বাইরে থেকে নতুন কেউ সার্কাসে প্রবেশ করলে সেই অসাধারন সুন্দর স্থির চোখগুলা দেখে বিমোহিত না হয়ে পারবে না।
__
‘ব্যালিতে’ ‘ব্যাম্পির’ এক পুত্র সন্তান ‘টারকে’ থাকে। শোনা যায় তার ঘুণে ধরা মস্তিষ্ক আর ঘৃণা ভরা হৃদয় নিয়ে সে এই নোংরা শহরতলিতে ফিরতে চায়। আর সে কথা সেই সার্কাসের প্রতিবন্ধীরা আবার বিশ্বাসও করে।কিন্তু এই কথা ঠিক ‘ব্যাম্পি’ যখন আবার তার খাবারের সন্ধান পাবে ‘টারকে’ আবার ফিরে আসবে। আর এই কথা সেই সার্কাসের দর্শক সারিতে বসা কিছু লোকও জানে যে সে ফিরত আসলে মদ আর রক্তের স্রোতের মধ্যে কেউ তখন পার্থক্য করতে পারবে না। সার্কাসে খেলা দেখানোর জন্য তখন নতুন ভাঁড় নিয়োগ দাওয়া হবে।মদ আর রুটি দিয়ে তাদের আহারের ব্যাবস্থা করা হবে। মাঝে মাঝে মদের রঙ তখন গাঁঢ় লাল হলেও কেউ কখনও তা নিয়ে প্রশ্ন তুলবে না।
__
‘অ্যামিলিরও’ এদিকে এক পুত্র সন্তান আছে- ‘স্যাজন’।শহরতলির দূষিত বায়ুতে সে নাক চেপে ধরে। মাঝে মাঝে বাকীদের দেখে সে বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে চায়।কিন্তু পরক্ষণেই আবার অক্সিজেনের সিলিন্ডারে সে মুখ লুকায়। অত্যন্ত বাইরে থেকে সবাই তাই মনে করতো। কিন্তু তার ভিতরের ৪০ বছরের পুরানো এক ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরি আজও বিদ্যমান। সেই গলিত লাভা দিয়ে সে এই শহর পরিষ্কারের স্বপ্ন দেখায়, কিন্তু তাতে যে গোটা শহরটা পুড়ে যাবে তা সে কাউকে বুঝতে দেয় না। তার খুব কাছাকাছি গেলে এই আগ্নেয়গিরির উত্তাপ কিছুটা হলেও পাওয়া যায়। কিন্তু তা ‘জন’ এর কাছে পৌঁছানোর আগে সে নিজেও ভস্মীভূত হয়।সেই ছাই দেখে বিষয়টি কেউ অনুধাবন করলেও তারা চুপ করে থাকে। সার্কাস থেকে আসা বিশাল আয় দেখে ‘স্যাজনের’ চোখ চক চক করে। কিন্তু তাই বলে সে ‘টারকের’ মতন উত্তেজিত হয় না।সে শহরের বাতিগুলো চুপিসারে নিভিয়ে দেয় যেন অন্ধকার ‘জন’দের চোখ ধীরে ধীরে সয়ে যায়।
__
শোনা যায় কেউ কেউ সার্কাসের দর্শক সারি থেকে মাঝে মধ্যে পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু দীর্ঘ দিনের বিকলাঙ্গতায় তারা বাইরের পরিবেশে টিকতে পারে না। ফলে তাদের শেষ আশ্রয় হয় শহরের একমাত্র ‘আস্তাকুড়ে’।তা দেখে শহরের সেই গলির মাথায় দাঁড়ানো ‘ব্যাম্পির’ জিহবা বের হয়ে আসে। ধীরে ধীরে সে সেই ‘আস্তাকুড়ের’ এগিয়ে যায় আর মনে মনে বলে- “আজ ভোজন হবে”।



লেখা ঃ আনিক ইবনে সিদ্দিক


https://www.facebook.com/anik.i.siddique?fref=nf
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নির্বাচনী অঙ্গীকার চাই ফুটপাথ ফেরাও মানুষের কাছে

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৪৬


ভোটের মিছিলে কথা হয় অনেক
পোস্টারে ভরা উন্নয়নের ঢাক
কিন্তু বলো তো ক্ষমতাপ্রার্থী দল
ফুটপাথ কার এ প্রশ্নের কি জবাব?

ঢাকা ছোটে না, ঢাকা পায়ে হেটে ঠেলে চলে
শিশু, নারী, বৃদ্ধ সবাই পড়ে কষ্টের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালুর নিচে সাম্রাজ্য

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫১


(ডার্ক থ্রিলার | কারুনের আধুনিক রূপক)

ঢাকার রাত কখনো পুরোপুরি ঘুমায় না।
কাঁচের অট্টালিকাগুলো আলো জ্বেলে রাখে—যেন শহর নিজেই নিজের পাপ লুকাতে চায়।

এই আলোর কেন্দ্রেই দাঁড়িয়ে ছিল করিম গ্লোবাল টাওয়ার
আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

জ্ঞানহীন পাণ্ডিত্য

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০


এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে স্বদেশ,
যে কিছু জানে না; সে-ই দেয় উপদেশ।
“এই করো, সেই করো;” দেখায় সে দিক-
অন্যের জানায় ভ্রান্তি, তারটাই ঠিক।
কণ্ঠে এমনই জোর, যে কিছুটা জানে-
সব ভুলে সে-ও তার কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কেমন হবে?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



সামনের গণভোট ঘিরে অনেক অপপ্রচার চলছে বলে শোনা যাচ্ছে। অনেকেই জানতে চাঁচ্ছেন, গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কি রকম হবে? নির্বাচন কমিশনের ওয়েসবাইট থেকে জানতে পারা গিয়েছে যে, গণভোটের ব্যালটটি উপরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুহতারাম গোলাম আযমই প্রথম We Revolt বলেছিলেন !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:৫৮


আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘জনতার ইশতেহার’। দলটির দাবি, অ্যাপভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে সংগৃহীত ৩৭ লাখের বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×