somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এক একটা দিন খুবই ব্যাস্ত কাটে...

১৮ ই নভেম্বর, ২০২২ রাত ৯:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দৌড়ের উপরে আছি। সহজ বাংলায় বলতে গেলে এভাবেই বলতে হয়। আসুন গত সপ্তাহের কাহিনি বলি আপনাদের।

অক্টোবরে শেষ সপ্তাহ থেকে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ কাজের প্রচন্ত ব্যাস্ততা ছিলো। তার মাঝেই আবার কম্পানির দেওয়া বাসা ছেড়ে বাইরে বাস করার জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেটার জন্য বাড়ী দেখা, এজেন্টের সাথে কথা, নতুন নতুন কত কিছুই না শিখলাম গত ২ সপ্তাহে, সেটা নিয়ে পারলে আরেকটা লেখা দেবো।

শারমিনের খালা, খালু বেড়াতে আসবে, ভাগনী জামাই হিসেবে আমার দায়িত্ব তাদের যথাসাধ্য সাহাজ্য করা। B-) ডানাও খুবই খুশি তার লিলি ক্যাট আপি আসবে বলে…

বিদেশে পরিচিত কেউ থাকলে অনেক কিছুই করা সম্ভব হয় যেটা একা একা বেড়াতে গেলে করা হয় না।

তাদের বিমান বন্দর থেকে আনার জন্য অফিস থেকে তার ৮টার পরে রওনা দিলাম, গুগুলে ১ ঘন্টা জ্যাম দেখাচ্ছিলো। ৩০ মিনিট অপেক্ষার পরে খালা, খালু বের হলেন। ব্যাগ নিয়ে বারির পথে রওনা দিলাম। এয়ারপোর্টের পার্কিং এ ঘন্টা ৪০দিরহাম। বের হয়ে পথ ভুলে আবার পার্কিং এ ঢুকে ২ বার পাকিং ফি দিলাম ২য়বার আরো ৫ দিরহাম। /:)

পরের দিন আমার বন্ধ। সবাই মিলে বেড়াতে গেলাম গ্লবাল ভিলেজে।

আমাদের দেশের বানিজ্য মেলার মতন কিন্তু এটা আসল বানিজ্য মেলা। বিশ্বের প্রায় সব বড় দেশের স্টলই এতে আছে।

বিশ্বের ৭৮ জাতীর বিভিন্ন স্টল আছে ২৭টি পেভিলয়নে( UAE, KSA, Qatar, Bahrain, Kuwait, Afghanistan, Africa, Americas, China, Egypt, Europe, India, Iran, Oman, Japan, South Korea, Lebanon, Morocco, Pakistan, Palestine, Syria, Thailand, Turkey, Yemen, Russia. )

পুরা মেলা জুড়ে ২০০ এর মতন রেস্টুরেন্ট, কিয়স্ক, স্ট্রিট ফুডের দোকান আছে। যেখানে অনেক নতুন খাবার পাবেন যেটা সচারচর আপনি হাতের কাছে পাবেনা।

-(ছবি গ্লোবাল ভিলেজের সাইট)

শনিবারের বিকেলে ৪ টার দিকে রওয়ানা হলাম। কিন্তু এতো লম্বা ট্রাফিক জ্যামে পড়বো ভাবিনাই। প্রায় ১ কিমি লম্বা লাইন ধরে গাড়ি পার্কিং করলাম।

থাইল্যান্ডের প্যাভেলিয়ান




পুলাপাইনের খেলার জন্য অনেক আয়োজন আছে, স্থানীয়রা অনেক খরচ করে এখানে।




এখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রাভেলিয়ান আছে তাই এই সিজনে পর্যটকেরা ১ দিন এখানে ঘুরতে আসে। এখানে সব কিছরই ব্যবস্থা আছে, বাচ্চাদের জন্য খেলা, নানান রকমের খাবারের দোকান, ২৭টা পেভেলিয়ান, কয়েকশত ছোট দোকান, বিভিন্ন স্টেজ সো।

শারমিন আফ্রিকান স্টোলে কোকোয়া বাটার ওয়ালা গায়ে মাখা লোসন কিনলো, ডানা খেলনা কিনলো।
আগে এখানে দোকান ভাড়া কম ছিলো তখন জিনিস পত্রের দাম কম ছিলো এখন অনেক বেশি।

গ্লবাল ভিলেজ ঘুরা শেষে ঠিক করলাম এরাবিক মান্দি খেতে যাবো। চলে গেলাম আলকুজ ইন্ড্রাস্রিয়াল এরিয়াতে একটা দোকানে।

আগের একটা ভিডিও ছিলো ঐটা দিলাম। আমার কাছে এইবারের ছবি নাই।


তারপরের দিন মেহমানদের পাঠালাম মরুভুমিতে সাফারী করতে, মরুর দেশে এসে যদি মরুভূমি না দেখে তা কি হয়???

জনপ্রতি ১০০ দিরহাম, বাসা থেকে নিয়ে যাবে এবং ভ্রমন শেষে নামিয়ে দিয়ে যাবে, বেলি ডিন্স, তুরনা ডান্স, বুফে খাবার, উটে চড়া, মেহেন্দি লাগানো, স্থানীয় অতিয্যবাহী পোষাকে ছবি তোলা, সব মিলিয়ে দুবাই এলে অবশ্যই ১বার ট্রাই করার মতন জিনিস।

( নেটের ছবি)

খালু মরুভুমিতে বালির টিলার উপর দিয়ে গাড়ী চালানোর সময় ভয় পাইছিলো, বাকি সব একটিভিটি সবাই উপভোগ করেছে।


দুবাই এসে কেউ বুর্জ খলিফা দেখবে না সেটা তো হতে পারেনা। সবাই মিলে গেলাম বিশ্বের সবচেয়ে উচু টাউয়ার দেখতে।



দুবাই মলে ওয়াটার ফাউন্টেনের সো দেখার জন্য প্রচন্ড ভীড়, মজার বিষয় হইলো সবাই মোবাইলেই ভিডিও করতেছে, পেছন থেকে দেখলে শুধুই মোবাইল আর মোবাইলে... B-))


তারপরের দিন গেলাম ব্লু ওয়াটার আইল্যান্ড আর মাছ ভাজা খেতে।

আঈন দুবাই, বিশ্বের সব চেয়ে বড় নাগর দোলা বলা যায়। ২৫০ মিটার উচু যেটা লন্ডন আই থেকে প্রায় দুগুন উচু। এটা বানাতে প্রায় ৮ বছর লেগেছে এবং বর্তমানে আবার কি জানি কোন সমস্যার জন্য বন্ধ করে রেখেছে।

টিকিট ১৩০ দিরহাম, কয়েকটা ক্যাপসুলে লাইসেন্সড বারও নাকি থাকবে :)
https://www.instagram.com/p/Ck8-PdFjbrw/

এখানে কিছুক্ষন থেকে ছবি তুলে গেলাম মাছ ভাজা খেতে।

বুর্জ আল আরব হোটেলের কাছেই জুমাইরা রোডে বু কাতার নামের একটা অনেক পুরানো রেস্টুরেন্ট আছে, ১৯৮০ সালে ছাপড়া ঘরের মতন করে ভাজা মাছ বিক্রি দিয়ে শুরু হয়ে বর্তমানে দুবাইয়ের ১ নং ফিস ফ্রাই খাবার রেস্টুরেন্টে স্থান করে নিয়েছে।

ঐখানে রাত ৯/১০ টায় গিয়েও লাইনে দাড়িয়ে মাছ অর্ডার করতে হবে এবং টেবিলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
ঐখানে মাছা পরিস্কার করে, ম্যারিনেট করে রেখেছে। আপনি পছন্দ করে কেজি দরে দাম পরিশোধ করবেন। ওরা ডুবো তেলে মচমচা করে ভেজে পরিবেশন করবে।

আমরা ২টা হামুর মাছ এবং ৩০০ গ্রাম চিংড়ি মাছ নিয়েছিলাম আমাদের ৬ জনের গ্রুপের জন্য।

খাবার জন্য পোলাও ভাত অথবা লাচ্চা পরটা নেওয়া যায়। আমরা ৪টা পরাটা আর পোলাও নিয়েছিলাম।






সবাই মিলে ২খানা মাছের পুরোটাই খেয়ে নিলাম আমরা। যেই ভাবে খেয়েছিলাম তাতে প্লেটের কাটা দেখে বেড়ালেও মন খারাপ হয়ে যেতো। B-))

তারপরে বাসায় এসে ঘুম।

আগামী পর্বে সময় পেলে দুবাইয়ের সিটি অফ গোল্ডের কথা লিখবো।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই নভেম্বর, ২০২২ রাত ৯:৫২
১২টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শততম পোস্টে আমিই একমাত্র ব্লগার

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১২ ই মে, ২০২৬ সকাল ৮:৩৫

আমার শততম পোস্টে আজ আমিই একমাত্র ব্লগার। জানালা দিয়ে পশ্চিমের স্বচ্ছ আকাশে শুকতারা দেখছি।
নিউইয়র্ক সময় অনুযায়ী এখানে রাত ১০.৪৬ মিনিট, তারিখ ১১ই মে ২০২৬
তাপমাত্রা +৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস
বাংলাদেশ তারিখ ১২ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৪৬ঃ দ্যা গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং

লিখেছেন কিরকুট, ১২ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:০৬

১৯৪৬ সালের আগস্ট। ব্রিটিশ ভারত তখন স্বাধীনতার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। কিন্তু স্বাধীনতার স্বপ্নের ভেতরেই জমতে শুরু করেছে বিভাজনের কালো মেঘ। ধর্ম, রাজনীতি ও ক্ষমতার হিসাব এক ভয়াবহ বিস্ফোরণের দিকে এগোচ্ছিল। সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাত যত গভীর হয় প্রভাত তত নিকটে আসে

লিখেছেন আরোগ্য, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:২১

গতবছর এই মে মাসের ১৭ তারিখেই আমার চোখের প্রশান্তি, আমার কর্মের স্পৃহা, আমার জননী এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী ও আমাদের কাছ থেকে মহান রব্বের ডাকে সাড়া দিয়ে পরপারে পাড়ি জমান। আব্বু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইচ্ছে করে

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৮

ইচ্ছে করে ডিগবাজি খাই,
তিড়িং বিড়িং লাফাই।
কুমারী দীঘির কোমল জলে
ইচ্ছে মতো ঝাপাই।

রাস্তার মোড়ে সানগ্লাস পরে
সূর্যের দিকে তাকাই,
সেকান্দর স্টোর স্প্রাইট কিনে
দুই-তিনেক ঝাঁকাই।

ঝালমুড়িতে লঙ্কা ডাবল,
চোখ কচলানো ঝাঁঝে,
ছাদের কোণে যাহাই ঘটুক,
বিকেল চারটা বাজে।

ওসবে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মায়া বড় কঠিন বিষয় !

লিখেছেন মেহবুবা, ১২ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪০


মায়া এক কঠিন বিষয় ! অনেক চেষ্টা করে জয়তুন গাছ সংগ্রহ করে ছাদে লালন পালন করেছি ক'বছর।
বেশ ঝাকড়া,সতেজ,অসংখ্য পাতায় শাখা প্রশাখা আড়াল করা কেমন আদুরে গাছ !... ...বাকিটুকু পড়ুন

×