দিন দুই আগে অফিস থেকে বাসায় ফিরে ফ্রেশ হয়ে রাত বারোটার দিকে ঘুমানোর আয়োজন করছি হঠাৎ ঘরের কোনায় খচ্ মচ্ শব্দে চমকে তাকিয়ে দেখি একটা নেংটি ইদুর। তার সাথে এক ঘরে রাত কাটানোর কোনই ইচ্ছা না থাকায় কি ভাবে সেটাকে ধরা যায় চিন্তা করতে করতে তার মহা আনন্দে, অকুতোভয়ে ঘরে ছোটাছুটি করতে দেখতে লাগলাম। দুই-একটা ফাঁদের কথা মনে আসলেও সেগুলো একটু ঝামেলা বলে অন্য কোন উপায় খুঁজছিলাম। ইদুরটার নির্ভীক ছোটাছুটি দেখে সহজ একটা বুদ্ধি মাথায় আসলো। একটা মিনারেল ওয়াটারের বড় বোতলে একটা বিস্কিটের টুকরা রেখে দুরে বসে থাকলাম। একটু পরেই সেটা গন্ধ শুঁকে শুঁকে এসে বোতলে ঢুকে গেলো কিন্তু আমাকে আসতে দেখেই বের হয়ে ভোঁ দৌড়। বার দুই এমন হবার পর আমি বুদ্ধি (আমার কত বুদ্ধি
সকালে ইদুরটাকে বাইরে কোথাও ছেড়ে দেয়া যাবে ভেবে বোতলটা দরজার বাইরে রেখে এসে শুয়ে পড়লাম কিন্তু রাতের নিস্তব্ধতায় প্লাস্টিকের বোতলে ইদুরের ছোটাছুটির শব্দ খুবই জোরালো হয়ে কানে লাগছিলো। বেচারার বন্দীদশার জন্য খারাপ লাগলেও শব্দটা অগ্রাহ্য করে ঘুমানোর চেষ্টা করছি এসময় হঠাৎ মনে হলো ইদুরটা দম বন্ধ হয়ে মরে যেতে পারে, আমি বোতলটায় কিছু ছিদ্র করে দিয়েছিলাম কিন্তু ঐ মূহুর্তে সেটা মনে পড়লো না। অগত্যা আবার উঠে লাইট জ্বালিয়ে বোতলটা ঘরে নিয়ে আসলাম। এখন সমস্যা হলো এটাকে বাইরে ছাড়বো কিভাবে? রাত তখন প্রায় দেড়টা। এতো রাতে আমার সাত তলা থেকে নিচে নামার কোনই ইচ্ছা ছিলোনা, আবার এতো ওপর থেকে ফেলে দিলে বেচারা ইদুরটার ঠ্যাং কিংবা কোমর ভাঙার সম্ভাবনা ছিলো যা আমি মোটেও চাইছিলাম না। কিছুক্ষণ চিন্তা ভাবনা করে শেষে একটা বড় পলিথিন ব্যাগ কেটে চার কোনায় সুতা বেঁধে একটা প্যারাসুট বানালাম। এবার বোতলটার মুখ আলগা করে সেই প্যারাসুটে বেঁধে জানালা দিয়ে ছেড়ে দিলাম। সেটা নিরাপদেই নিচে নামলো। এতো ওপর থেকে ইদুরটাকে দেখা না গেলেও অল্পক্ষণ পড়েই পলিথিনটার ভেতরে নড়াচড়া দেখে ইদুরটা বোতলমুক্ত হয়েছে বুঝতে পেরে এবার নিশ্চিন্ত মনে ঘুমাতে গেলাম
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ দুপুর ১:২৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



