কোন দেশের কোন শৈরাচার সরকারকে ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করার কোন ইতিহাস নাই।
তাই শৈরাচারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেয়াই একটা বোকামী।
আমাদের বিরোধী দলগুলি সেই বোকামিটাই আবার করল।
তবে সব খারাপের যেমন কিছু ভাল দিক থাকে, তেমনি এই বোকামীরও কিছু সুফল নিশ্চয়ই আছে।
একটা সুফল হল কয়েক কোটি মানুষের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা। নেতা নেত্রীদের কাথা বা মিডিয়ার উপর আমাদের আস্থা অনেক আগেই কমে গেছে। কিন্তু নিজের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতাকে অবহেলা করা কঠীন। তাই যে কয়েক কোটি ভোটার এই নির্বাচনের চিত্রটা প্রত্যক্ষ করেছেন তারা আরো নিশ্চিত ভাবেই বুঝতে পারবেন যে দেশে এ'খন কী হচ্ছে - এর পরও সরকারী লোকেরা যখন গনতন্ত্রের কথা বলবেন তখন সেটা ঐসব লোকের মনে কেবল ঘৃনাই তৈরী করবে। আমার বিবেচনায় এই নির্বাচনে অংশ নিয়ে এটাই বিরোধীদের একমাত্র প্রাপ্তি। যদিও সচেতন মানুষ মাত্রই বহু আগে থেকে এই সরকারের চরিত্র বুঝে নিয়েছে।
কিন্তু কুফলটা এর চেয়েও মারাত্মক। নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিতে গিয়ে বিরোধীদের বহু নেতাকে লাইম লাইটে আসতে হয়েছে। নির্বাচনের বিভিন্ন পদের প্রার্থী ছাড়াও প্রচার প্রচারনায় সক্রীয় হওয়া এইসব নেতারা এখন খুব সহজেই চিন্হিত হয়ে থাকবেন। ফলে সরকার ও তার ক্যাডার বাহিনীর পক্ষে এদেরকে গুম খুন হামলা মামলার টার্গেট করা সহজতর হবে। একজন নির্দলীয় সাধারণ মানুষ সরকারী আক্রমনের স্বীকার হলে মিডিয়া আর বুদ্ধিজীবিরা তাও কিছুটা কথাবার্তা বলেন (যেমন মিলন, বিশ্বজিৎ) কিন্তু চিন্হিত বিরোধীদের ক্রসফায়ার, গুম, খুনের ব্যাপারে তাদের কোন উচ্চবাচ্চ থাকে না। আমরা অচিরেই হয়ত সরকারকে এই সুবিধাটা নিতে দেখব, ঝরে যেতে দেখব আরো কিছু সম্ভাবনাময় তরুন রাজনৈতিক নেতা কর্মীকে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১২:৩৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


