somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্প: ভয় - ১১

৩০ শে জানুয়ারি, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



১ম পর্ব - Click This Link



তারপর বীথির হাত থেকে চাবির গোছাটা নিয়ে ওর একটি হাত মুঠো করে ধরলেন।  শান্ত কণ্ঠে বললেন,
---চলো বীথি।
বীথি বিনাবাক্যব্যয়ে আসলাম খানের সাথে সাথে ঘর থেকে বেরিয়ে এলো। আসলাম খান ঘর থেকে বেরিয়ে চুপচাপ দরজাটা লক  করলেন। একটি কথাও বললেন না বীথির সাথে। বীথি কোনরকমে সাহস সঞ্চয় করে কিছু একটা বলতে চাইলো। কিন্তু গলা দিয়ে কোন স্বরই বের হলো না। আসলাম খান স্বাভাবিক কণ্ঠে বললেন,

---- কিছু বলতে হবে না তোমাকে। নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি মানুষের আগ্রহ থাকাটা অত্যন্ত স্বাভাবিক। তার উপর তোমার বয়সও অল্প। ঐ তালাবদ্ধ ঘরে কী আছে তা দেখার আগ্রহ তোমার হতেই পারে। এজন্য তোমার অনুতপ্ত বা দুঃখিত হওয়ার কোন কারণ নেই। চলো বাগানে। বিকেলের চা টা খেয়ে নেই।

আসলাম খানের কথা শুনে বীথি যেন হাফ ছেড়ে বাঁচলো। আসলাম খানের দিকে তাকিয়ে কৃতজ্ঞতার হাসি হাসলো। আসলাম খানও হাসলেন। হেসে বললেন,
---তোমার জন্য একটা খুশির খবর আছে।
---কী খুশির খবর?
---বাগানে গিয়ে বলব। চলো।
বীথি বাগানের দিকে পা বাড়াতেই আসলাম খান বললেন,
---দাঁড়াও একটু। আমি আসছি।
আসলাম খান বীথির ঘরে চলে গেলেন। তারপর বীথির শালটা হাতে নিয়ে বেরিয়ে এলেন। ঝোঁকের মাথায় শালটা পড়তে বীথি ভুলে গিয়েছিল। বেশ ঠাণ্ডা পড়েছে আজকাল। আসলাম খান ওকে সযত্নে শালটা নিজের হাতে পরিয়ে দিলেন। আবার এক অদ্ভুত ভাল লাগায় আচ্ছন্ন হয়ে গেল বীথি। কী যেন এক  আকর্ষণ শক্তি আছে লোকটার। লোকটা কাছে এলেই একটা অন্যরকম ভাল লাগায় মনটা ভরে ওঠে। শালটা পরিয়ে দিয়ে আসলাম খান বললেন,

---বাইরে অনেক ঠাণ্ডা। ঠাণ্ডা লেগে যেতে পারে তোমার।

বীথি আসলাম খানের সাথে বাগানে আসলো। বাগানটা এমনিতেই সুন্দর। কিন্তু আজ যেন আরো বেশি মনমোহন হয়ে উঠেছে। শীতের ফুলগুলো যেন পেখম মেলে তাকিয়ে আছে। শীতটা তো ফুলের মৌসুম। তাই বাগানের নিজস্ব সৌন্দর্যের সাথে এসে শীতকালীন সৌন্দর্য্য যোগ হওয়ায় মনে হচ্ছে বেহেশত যেন মাটিতে নেমে এসেছে। চেয়ারে বসতে বসতে আসলাম খান বললেন,
---জানো, শীতটা আমার প্রিয় ঋতু। এই ঋতু হলো ঘুরে বেড়ানোর ঋতু। শীত এলে আমি ঘুরতে বেরিয়ে যাই অনেকদিনের জন্য। এবারও যাবো।
--কোথায় বেড়াতে যাবেন?
---প্রথমে যাবো কক্সবাজার। সাগর দেখেছ কখনও?
বীথি মাথা নেড়ে না বলল।  
----তাহলে দেখার জন্য তৈরি হয়ে নাও।
বীথি অবাক চোখে তাকিয়ে রইল।
----কী আমার সাথে বেড়াতে যেতে ভয় হচ্ছে বুঝি?
বীথি লজ্জা পেয়ে বলল,
---না তো। কী যে বলেন।

বীথির একটু একটু ভয় ঠিকই করছিল। কিন্তু ও সেটা প্রকাশ করলো না।

---আজ রাতেই আমাদের ফ্লাইট। গোছগাছ করে নাও সবকিছু। বীথি বিস্মিত হয়ে বলল,
---আজই? আমার তো ক্লাস চলছে।
---তুমি অনেক মেধাবী। এসব তুমি পুষিয়ে নিতে পারবে। চিন্তা করো না।

বীথি ভয়ে ভয়ে সব গোছগাছ করতে লাগলো। আসলাম খানকে ও বিশ্বাসও করতে পারছে না আবার অবিশ্বাসও করতে পারছে না। রূপম আহমেদের কথা মনে পড়লো ওর। লোকটা বলেছিল আসলাম খানের পরবর্তী শিকার বীথি। কী করবে এখন বীথি? ও কি এখান থেকে পালিয়ে যাবে? কিন্তু আসলাম খান যদি নিরপরাধ হন তাহলে এটা তো হবে ওর জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল এবং বোকামি।

হঠাৎই বীথির মনে হলো বাড়িটা যেন একটু তাড়াতাড়িই আজ নিঝুম হয়ে গেল। রাত মাত্র আটটা বাজে। এখনও তো ডিনারই হয়নি। কাজের লোকেরা সব ডিনারের পর ঘরে যায়। বীথি নিজের ঘর থেকে বেরিয়ে এলো। কিচেনে বা সারা বাড়িতে কোন কাজের লোক নেই। এত তাড়াতাড়ি সবাই গেলো কোথায়?

---কী ব্যাপার বীথি? কাকে খুঁজছ?
আসলাম খানের কণ্ঠ শুনে চমকে উঠে ফিরে তাকালো বীথি। পেছনে কখন এসে আসলাম খান দাঁড়িয়েছেন ও টেরও পায়নি। কোনরকমে ঢোক গিলে ও বলল,

----না মানে, কাজের লোকগুলো কোথায় যে গেল বুঝতে পারছি না।
---ওরা সব তো বাড়ি চলে গেছে।
----বাড়ি চলে গেছে মানে? কোয়ার্টারে?
---ধুর কোয়ার্টারে হতে যাবে কেন? ওদের আসল বাড়িতে।
----আসল বাড়িতে! সবাই একসাথে?

কেমন যেন এক অস্বস্তি আর ভয় ধীরে ধীরে গ্রাস করতে লাগলো বীথিকে। কেমন যেন অদ্ভুত লাগছিল সব কিছু।

---আজ তো আমরা বেড়াতে চলে যাবো। বাড়ি তালাবদ্ধ রেখে যাবো। তো ওরা শুধু শুধু এখানে পড়ে থেকে কী করবে? তাই ভাবলাম ওদের ছুটি দিয়ে দেই। ওরাও বাড়িতে গিয়ে এনজয় করুক।

বীথি কিছু বলল না। ওর কিছুই ভাল লাগছিল না। কান্না পাচ্ছিল খুব। কিন্তু কেন ও নিজেও বুঝতে পারছিল না।

---শোন, এখনই বেরিয়ে পড়বো আমরা। বাইরেই ডিনার করবো। তোমার সব গোছানো শেষ তো?
বীথির মুখ দিয়ে কোন কথাই বের হচ্ছিল না। অদ্ভুত এক আতঙ্কে বুকটা ঢিপ ঢিপ করছিল। তবে কি খারাপ কিছু ঘটতে চলেছে ওর সাথে? ও কোনরকমে ঘাড় নেড়ে হ্যাঁ বলল।

   সাড়ে আটটার দিকে দারোয়ান একটা ট্যাক্সি ডেকে আনলো। ট্যাক্সিতে সব লাগেজ তোলা হল। বীথি সব ভাবনা চিন্তার উর্ধ্বে চলে গেছে ততক্ষণে। ও পুতুলের মত গিয়ে গাড়িতে উঠে বসলো। আসলাম খান ওর পাশে বসলেন। ওরা একটা রেস্টুরেন্টে ডিনারটা সেরে নিলো। ওদের ফ্লাইট রাত একটায়। তাই আসলাম খান বীথিকে নিয়ে উদ্দেশ্যহীন ঘোরাঘুরি করলেন অনেকটা সময়।

অনেক কথা বললেন যার বেশির ভাগই অর্থহীন। বীথি শুধু অন্যমনস্কভাবে হু হা করে গেলো। আজ আসলাম খানের কোন কথাই ওর কানে মধু বর্ষণ করতে পারছিল না। ফ্লাইটের সময় ঘনিয়ে আসতেই ওরা এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলো। রাস্তাঘাট ততক্ষণে নিস্তব্ধ হয়ে গেছে। মানুষের চলাচল কমে এসেছে। শুধু মাঝে মাঝে  নিস্তব্ধতা ভেদ করে দূরপাল্লার গাড়িগুলো ছুটে যাচ্ছে। আর ওদের মত কিছু রাত্রির যাত্রীবাহী ট্যাক্সি, প্রাইভেট কার চলাচল করছে। কিন্তু সংখ্যায় তা খুবই কম। দোকানপাট সব বন্ধ হয়ে গেছে। একসময় ওদের ট্যাক্সি এসে এমন এক জায়গায় থামলো যেখানে এয়ারপোর্টের কোন চিহ্ন বীথি দেখতে পেলো না।

আসলাম খান ট্যাক্সি থেকে নেমে বীথিকে নামতে বললেন। বীথি ট্যাক্সি থেকে নামলো। আসলাম খান টাকা দিয়ে ট্যাক্সি ছেড়ে দিলেন। বীথি চারদিকে তাকিয়ে এয়ারপোর্টের কোন চিহ্ন কোথাও দেখতে পেলো না। যেহেতু ও কখনও এয়ারপোর্ট দেখেনি তাই ভাবলো আশেপাশেই হয়তো কোথাও এয়ারপোর্ট আছে। কিন্তু ওকে অবাক করে দিয়ে আসলাম খান একটা শাটার লাগানো ঘরের দিকে গেলেন।
চলবে
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জানুয়ারি, ২০২০ রাত ১১:৩১
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ শুধু আমরাই নেই আর আগের মত

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৭ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:০০




স্যোশাল মিডিয়ায় তুমি এখন জনপ্রিয় ফুড ব্লগার
এই আমি ছোট্ট শহরের সামান্য কানাই মাস্টার।

তোমার আছে বাড়ি, আছে গাড়ি বেড়াচ্ছো খাচ্ছো দেদার
আর এদিকে টিকে থাকবার, নিরন্তর প্রচেষ্টা... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে যে-সব সাবেক চ্যাম্পিয়নদের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবার সম্ভাবনা একেবারেই নাই

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৮ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২

এ দলটি ১৯৩৪, ১৯৩৮, ১৯৮২ ও ২০০৬ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়। ২০১৪ সালে তারা গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। ২০১৮ ও ২০২২ সালে তারা মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আহা! ছবি।

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ২৮ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:০০


কত দিন হয়ে গেলো....................


এ মাসেতো একটাও পোস্ট দেওয়া হলো না........................


ইদে গ্রামের বাড়ি গিয়ে কিছু ছবি তুলেছিলাম।







আজকের ছবি ব্লগে থাকছে সেই ছবিগুলো।








---------------------------------------------------






























... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৮ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৩

মেট্রোরেল পুরো বাংলাদেশের জন্য শান্তির বিষয়।
শুধু মেট্রোরেল না পদ্মাসেতুও। দারুণ এক কাজ হয়েছে। আগে মতিঝিল থেকে মিরপুর বা উত্তরা যেতে খবর হয়ে যেতো। তিন ঘন্টার বেশি সময় লাগতো। এখন মুহুর্তেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

কারণে অকারণে ছবি

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৮ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৬

আমি ছবি তুলি। পরে সেগুলো দেখি। বেশ ভালো লাগে। ফোনের স্টোরেজ এ আজ দেখলাম মোট ছবি ৬৮৯৩ টি। ব্লগে কখনোই ছবি দিয়ে লেখা হয়নি। আজ মাইদুল ভাইয়ের লেখা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×