somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মিলাদ পুরোপুরি বিদায়াত - একটা দলীল ভিত্তিক আলোচনা

১৭ ই মে, ২০২১ সকাল ১১:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



[সকল প্রশংসা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জন্য, যিনি আমাদেরকে সর্বোত্তম দীনের অনুসারী ও সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উম্মত হওয়ার তৌফিক দান করেছেন। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক হযরত মুহাম্মাদ ইব‌ন আব্দুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উপর, যিনি আমাদেরকে কল্যাণকর সকল পথ বাতলে দিয়েছেন ও সকল প্রকার অনিষ্ট থেকে সতর্ক করেছেন। আরও সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর পরিবারবর্গ (আহলুল বাইয়াত) এবং উনার সাথীদের উপর, যারা তার আনীত দ্বীন ও আদর্শকে পরবর্তী উম্মতের নিকট যথাযথ ভাবে পৌঁছে দিয়েছেন এবং কেয়ামত পর্যন্ত যারা তাদের অনুসরণ করবে তাদের সবার উপর।]

আল্লাহ তা’আলা তাঁর পবিত্র কুরআন শরীফে মানবজাতিকে একটি আদর্শ অনুসরণের ও অনেক বিধিবিধান পালনের নির্দেশ দিয়েছেন, কিন্তু অনেকক্ষেত্রেই তাঁর বিস্তারিত বিবরণ দেননি। এর ভার ন্যস্ত করেছেন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উপর। তিনি নিজের কথা, কাজ ও আচার-আচরনের মাধ্যমে কুরআনের আদর্শ ও বিধান বাস্তবায়নের পন্থা ও নিয়ম কানুন বলে দিয়েছেন। পবিত্র কুরআন শরীফকে কেন্দ্র করেই তিনি ইসলামের এক পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান পেশ করেছেন।
১। “আর তিনি মনগড়া কথাও বলেন না, এতো ওহী যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ হয়” (সুত্রঃ সূরা আন-নজম, আয়াত ৩ ও ৪)
২। “তিনি যদি আমার নামে কিছু রচনা চালাতে চেষ্টা করতেন আমি অবশ্যই তাঁর ডানহাত ধরে ফেলতাম এবং কেটে নিতাম তাঁর জীবন ধমনী” (সূত্রঃ সূরা আল-হাক্কাহ, আয়াত ৪৪, ৪৫ এবং ৪৬)
৩। “রাসুল তোমাদের যা দেন তা তোমরা গ্রহণ কর এবং যা তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাক।” (সূরা আল-হাশর, আয়াত ৭)

শুধুমাত্র রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর প্রদর্শিত পথে যা যা অনুসরন করা হয় তাই ইবাদত। যদি রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নতকে, তার প্রদর্শিত আদর্শকে বাদ দিয়ে নতুন কোন তরীকা কিংবা নতুন উদ্ভাবিত আকীদায় কাজ করা হয় তাকে বিদআত বলে। বিদআত মানে হল ধর্মের নামে নতুন কাজ, বেশী বুঝা, যা কিছুর প্রয়োজন নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও আল্লাহ মনে করেননি নিজেরা সেটা আবিষ্কার করা (হতে পারে সেটা দেখতে ভালো কিংবা মন্দ) এবং সেটা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নামে মিথ্যাচার করে চালিয়ে দেয়া। বিদআত শব্দের আভিধানিক অর্থ হল : اَلشَّيْءُ الْمُخْتَرَعُ عَلٰى غَيْرِ مِثَالٍ سَابِقٍ অর্থাৎ পূর্ববর্তী কোন নমুনা ছাড়াই নতুন আবিষ্কৃত বিষয়। (সূত্রঃ আন-নিহায়াহ, পৃঃ ৬৯, কাওয়ায়েদ মা’রিফাতিল বিদআ’হ, পৃঃ ১৭) আর শরীয়তের পরিভাষায়-
مَا أُحْدِثَ فِى دِيْنِ اللهِ وَلَيْسَ لَهُ أَصْلٌ عَامٌ وَلاَخَاصٌّ يَدُلُّ عَلَيْهِ. অর্থাৎ আল্লাহর দ্বীনের মধ্যে নতুন করে যার প্রচলন করা হয়েছে এবং এর পক্ষে শরীয়তের কোন ব্যাপক ও সাধারণ কিংবা খাস ও সুনির্দিষ্ট দলীল নেই। (সূত্রঃ কাওয়ায়েদ মা’রিফাতিল বিদআ’হ, পৃঃ ২৪)
এ সংজ্ঞটিতে তিনটি বিষয় সুস্পষ্টভাবে লক্ষনীয়ঃ
১) নতুনভাবে প্রচলন অর্থাৎ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও সাহাবায়ে কিরামের যুগে এর কোন প্রচলন ছিল না এবং এর কোন নমুনাও ছিল না।
২) এ নব প্রচলিত বিষয়টিকে দ্বীনের মধ্যে সংযোজন করা এবং ধারণা করা যে, এটি দ্বীনের অংশ।
৩) নব প্রচলিত এ বিষয়টি শরীয়তের কোন ‘আম বা খাস দলীল ছাড়াই চালু ও উদ্ভাবন করা।
সংজ্ঞার এ তিনটি বিষয়ের একত্রিত রূপ হচ্ছে বিদআত, যা থেকে বিরত থাকার কঠোর নির্দেশ শরীয়তে এসেছে। কঠোর নিষেধাজ্ঞার এ বিষয়টি হাদীসে বারবার উচ্চারিত হয়েছে।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ
(وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الأُ(রাঃ)مُوْرِ فَإِنَّ كُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ وَكُلَّ بِدْعَةٍ ضَلاَلَةٌ) رواه أبو داود والترمذى وقال حديث حسن صحيح.
‘‘তোমরা (দ্বীনের) নব প্রচলিত বিষয়সমূহ থেকে সতর্ক থাক। কেননা প্রত্যেক নতুন বিষয় বিদআ‘ত এবং প্রত্যেক বিদআত ভ্রষ্টতা’’। [সূত্রঃ সূনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৩৯৯১ ও সূনানে আত-তিরমিযী, হাদীস নং ২৬৭৬। তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান ও সহীহ বলেছেন।]
মহানবী রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর এক খুতবায় বলেছেন:
إِنَّ أَصْدَقَ الْحَدِيثِ كِتَابُ اللهِ وَأَحْسَنَ الْهَدْيِ هَدْيُ مُحَمَّدٍ وَشَرُّ الأُمُوْرِ مُحْدَثَاتُهَا وَكُلُّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ وَكُلُّ بِدْعَةٍ ضَلاَلَةٌ وَكُلُّ ضَلاَلَةٍ فِي النَّارِ. رواه مسلم والنسائى واللفظ للنسائى
“নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম আদর্শ মুহাম্মদের আদর্শ। আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নব উদ্ভাবিত বিষয়। আর নব উদ্ভাবিত প্রত্যেক বিষয় বিদআত এবং প্রত্যেক বিদআত হলো ভ্রষ্টতা এবং প্রত্যেক ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম”। (সহী মুসলিম, হাদীস নাম্বার ১৫৩৫ ও সুনান আন-নাসায়ী, হাদীস নং ১৫৬০, হাদীসের শব্দচয়ন নাসায়ী থেকে)

বিদআতের তিনটি মৌলিক নীতিমালা রয়েছে। সেগুলো হচ্ছেঃ
১) এমন আমলের মাধ্যমে আল্লাহর নিকট সাওয়াবের আশা করা যা শরীয়ত সিদ্ধ নয়। কেননা শরীয়তের স্বতঃসিদ্ধ নিয়ম হলো এমন আমল দ্বারা আল্লাহর নিকট সাওয়াবের আশা করতে হবে যা কুরআনে আল্লাহ নিজে কিংবা সহীহ হাদীসে তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অনুমোদন করেছেন। তাহলেই কাজটি ইবাদাত বলে গণ্য হবে। পক্ষান্তরে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যে আমল অনুমোদন করেননি সে আমলের মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদাত করা হবে বিদআত।
২) দ্বীনের অনুমোদিত ব্যবস্থা ও পদ্ধতির বাইরে অন্য ব্যবস্থার অনুসরণ ও স্বীকৃতি প্রদান। ইসলামে একথা স্বতঃসিদ্ধ যে, শরীয়তের বেঁধে দেয়া পদ্ধতি ও বিধানের মধ্যে থাকা ওয়াজিব। যে ব্যক্তি ইসলামী শরীয়ত ব্যতীত অন্য বিধান ও পদ্ধতি অনুসরণ করল ও তার প্রতি আনুগত্যের স্বীকৃতি প্রদান করলো সে বিদআতে লিপ্ত হল।
৩) যে সকল কর্মকান্ড সরাসরি বিদআত না হলেও বিদআতের দিকে পরিচালিত করে এবং পরিশেষে মানুষকে বিদআতে লিপ্ত করে, সেগুলোর হুকুম বিদআতেরই অনুরূপ।
(সূত্রঃ বিদআত পরচিতির মূলনীতি, লেখকঃ মোহাম্মাদ মানজুরে ইলাইহি, ইসলাম প্রচার ব্যুরো, রিয়াদ)

নিচের লেখায় আমরা দেখবো কেন এবং ঠিক কী কারনে মিলাদ কিয়াম সরাসরি শরীয়ত বিরোধী কর্মকান্ড।

মিলাদের নামে ভণ্ডামী এবং লোভঃ
উপমহাদেশের বিশেষ করে, আমাদের দেশের বিভিন্ন হুজুররা বিভিন্ন জায়গায় মিলাদ পড়ান এবং মিলাদের পক্ষে নির্লজ্জের মতো সাফাই গেয়ে বেড়ান। সাধারন মুসলিমদের পক্ষে শরিয়তের নিয়ম কানুন পুরোপুরি জানা কঠিন বিষয়, যেহেতু এইসব বিধি-বিধান আরবীতে লেখা থাকে। এরা এই সুযোগটাই নেয় এবং নিজেরা তো ইতিমধ্যেই অর্থের লোভে পরে পথভ্রষ্ট হয়েছে, কিন্তু সাথে তারা সাধারন মানুষজনকে পথভ্রষ্ট করার অপচেষ্টা চালায়। মিলাদের প্রতি তাদের এত অতি আগ্রহের একমাত্র কারণ হলো অর্থনৈতিক। আজ পর্যন্ত কোন হুজুর’কে বিনা পয়সায় মিলাদ পড়াতে দেখেছেন? অবশ্যই না। শয়তানের ঢোকায় পড়ে এরা নফসকে অনেক আগেই বিক্রি করে দিয়েছে দুনিয়াবী কিছু টাকাপয়সার জন্য। এদের সর্ম্পকে পবিত্র কুরআন শরীফে সুস্পষ্টভাবে লেখা আছেঃ
“আল্লাহ যে কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, যারা তা গোপন করে ও তার বিনিময়ে স্বল্প মূল্য গ্রহণ করে, তারা কেবল আগুন দিয়ে আপন পেট পূর্ণ করে। শেষ বিচারের দিন আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না এবং তাদেরকে (পাপ-পঙ্কিলতা থেকে) পবিত্রও করবেন না; আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। তারাই সুপথের বদলে কুপথ এবং ক্ষমার বদলে শাস্তি ক্রয় করেছে, (দোযখের) আগুনে তারা কতই না ধৈর্যশীল!” (সূত্রঃ সূরা বাকারা আয়াত ১৭৪ ও ১৭৫)

এইসব ভণ্ড হুজুররা সুকৌশলে বিয়ের পূর্বে, বিয়ে পড়ানোর পরে, নতুন বাড়ি/গাড়ি/ দোকান, কোম্পানি উদ্বোধন, বাড়ির কল্যাণ কামনা, কারো অসুস্থতা কামনা, মৃত্যুবার্ষিকী, চেহলাম, চল্লিশা, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্মউৎসব (ঈদে মিলাদুন্নবী যা সর্ম্পূণ হারাম), বিশেষ কোন দিবস পালন বা বিশেষ কোনো উপলক্ষে মিলাদ পালনের জন্য উৎসাহ দেয় এবং নিজেরা এইসব মিলাদ পরিচালনা করে। আচ্ছা এইসব মিলাদে তারা কী করে? বিভিন্ন না’ত এবং দরুদ আবৃত্তি করে দলবব্ধভাবে। অথচ মিলাদ একা কিংবা দলবদ্ধ কোনভাবেই করার শরীয়ত অনুমতি নেই।

মিলাদ সর্ম্পূণ বিদআত, কারণ প্রকৃতপক্ষে ইসলামে মিলাদের কোনো অস্তিত্বই নাই। ইসলামের সোনালী অধ্যায়ের তিন শতাব্দী তথা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগ, সাহাবীদের যুগ এবং তাবেঈনের যুগ পার হয়ে গেলেও ইতিহাসে কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না যে, কোন একজন সাহাবী, তাবেঈ বা তাবে তাবেঈ মিলাদ উদযাপন করেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি তাদের ভালোবাসা কি কম ছিল? না কি তারা ইসলাম বুঝতেন না? কখনই নয়। বরং তাঁরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিজের জীবনের চাইতেও বেশি ভালোবাসতেন। হাসিমুখে ইসলামের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করতেও একমুহূর্তও দ্বিধা করতেন না। তারা ছিলেন তার সুন্নত-আদর্শ সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী এবং শরীয়ত বিধিবিধান বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অগ্রগামী।

মিলাদের যদি কোন উপকার থাকতো, সওয়াব পাওয়া যেত তবে অবশ্যই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবশ্যই তাঁর উম্মতকে স্পষ্টভাবে তা পালন করার কথা বলে যেতেন। কারণ দুনিয়া-আখিরাতের এমন কোন কল্যাণকর দিক নেই যা তিনি তার উম্মতকে বলে দেননি কিংবা এমন কোন ক্ষতিকর দিক নেই যে ব্যাপারে তিনি সাবধান করেননি। বরং তিনি দ্বীনের ভিতর নতুন নতুন বিদআত তৈরি করার ব্যাপারে কঠিন ভাবে সতর্ক করে গেছেন।
তিনি বলেন: وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الأُمُورِ، فَإِنَّ كُلَّ بِدْعَةٍ ضَلالَةٌ
‘তোমরা (দ্বীনের) নব প্রচলিত বিষয়সমূহ থেকে সতর্ক থাক। কেননা প্রত্যেক নতুন বিষয় বিদআত এবং প্রত্যেক বিদআত ভ্রষ্টতা’’। [সূত্রঃ সূনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৩৯৯১ ও সূনানে আত-তিরমিযী, হাদীস নং ২৬৭৬। তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান ও সহীহ বলেছেন।]

তারা বলে মিলাদে দরুদ পড়লে দোষ কোথায়?
শরীয়ত বিধান হলো যে পদ্ধতিতে কোন ইবাদত খাইরুল কুরুনে আদায় করা হতো না, সেটিকে জরুরী মনে করে বা একমাত্র পদ্ধতি মনে করে, বা আবশ্যকীয় পদ্ধতি বানিয়ে উক্ত ইবাদত করা অবশ্যই বিদআতের শামিল। তাই দরূদ পড়া যদিও উত্তম ও সওয়াবের কাজ, কিন্তু এভাবে মাহফিল করে সম্মিলিতভাবে করার বিশেষ পদ্ধতি কোনকালেই খাইরুল কুরুনে ছিল না। তাই এটিকে আবশ্যকীয় বা জরুরী মনে করে করলে তা পরিস্কারভাবেই বিদআত হবে। এতে কোন সন্দেহই নেই।

দরুদ ও সালাম পাঠের নিয়ম হলো প্রত্যেকেই ব্যক্তিগত ভাবে পৃথক পৃথক ভাবে দরুদ ও সালাম পাঠ করবে, সমাবেতভাবে না। আজকাল সমাজে মিলাদের নামে সম্মিলিতভাবে সমবেত কন্ঠে যে দরুদ ও সালাম পাঠ করা হয় তার সপক্ষে কুরআন ও হাদিসের কোন ভিত্তি নেই। অথচ এরা এটাই শুধুমাত্র ব্যবসায়িক স্বার্থে সবজায়গায় করে বেড়াচ্ছে মিলাদের অসীলায়।
টাকাপয়সার লোভ এদের কোন পর্যায়ে নিয়ে গেছে ভেবে দেখুন?
.
কুরআন তথা আল্লাহর কিতাব, মহানবীর সুন্নাত, সাহাবাদের আমল এবং সম্মানিত তিন যুগ তথা নবীযুগ, সাহাবী-যুগ ও তাবেঈ/তাবে-তাবেঈন যুগে এইধরনের কোনো আমলের অস্তিত্ব অনুপস্থিত। যদি ধরেও নিই, মিলাদ ও কিয়ামের উদ্দেশ্য স্রেফ আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের সন্তুষ্টি কামনা, তাহলে এ কথা বলা বাহুল্য যে, যেই ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সন্তুষ্টি কামনা করা হবে, কুরআন বা সুন্নাহে অবশ্যই তার পক্ষে দলীল থাকতে হবে। কুরআন-সুন্নাহ’র সুস্পষ্ট দলীল বিহীন, উপরন্তু সম্মানিত তিন যুগে নজিরবিহীন নব উদ্ভাবিত কোনো আমল কোনোভাবেই শরীয়তে গ্রহণযোগ্য নয়। এটা সরাসরি সহী হাদিস মোতাবেক বিদআত।

মিলাদ এবং কিয়ামের উৎপত্তি নিয়ে ভয়ংকর মিথ্যাচারঃ
মিলাদের উৎপত্তি নিয়ে আসল সত্য এরা জেনেশুনেই গোপণ করে রাখে। আসুন, মিলাদ নিয়ে আসল ঘটনা সবাই জানি। মিলাদ শব্দের অর্থ জন্ম বা জন্মকাল। যে কারো জন্মের সাথে সম্পৃক্ত করেই তা ব্যবহার করা যায়। যেমন, আমার মিলাদ তথা আমার জন্ম বা জন্মকাল। তবে প্রচলিত অর্থে সাধারণত এইশব্দকে নবীজী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্মের সাথে সম্পৃক্ত করে ব্যবহার করা হয়। সহজ করে বললে সমাজে নবীজীর জন্ম ও জন্মকালকে বোঝাতেই মিলাদ শব্দটির ব্যবহার বহুল প্রচলিত। পরবর্তীতে রাসূলের জন্ম ও জন্মকালকে উপলক্ষ করে ঘটা করে কিছু লোকের সম্মিলনে নানান ভাষায় নানান সুরে নবীজীর শানে রচিত কাসিদা বা কবিতা পাঠ, দরুদ পাঠ ইত্যাদি কার্যকলাপকে কেউ কেউ ‘মিলাদ’ হিসেবে নাম দান করেন। যদিও শাব্দিক অর্থে তা মিলাদ নয়; কিন্তু সামাজিক আবহে দ্রুতই একটি ভয়ংকর ভুল ধারনা গড়ে উঠে।

মিলাদের নামে যা করা হয় সেটা প্রকৃতপক্ষে এসেছে ঈদে মিলাদুন্নবী থেকে। এটা প্রতিষ্ঠিত সত্য যে, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শতাব্দীতে সংকলিত অর্ধশতাধিক সনদভিত্তিক হাদীসের গ্রন্থ, যাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কর্ম, আচার-আচরণ, কথা, অনুমোদন, আকৃতি, প্রকৃতি ইত্যাদি সংকলিত রয়েছে, সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ীদের মতামত ও কর্ম সংকলিত হয়েছে, সে সকল গ্রন্থের একটিও সহীহ বা দুর্বল হাদীসে দেখা যায় না যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবদ্দশায় বা তাঁর মৃত্যুর পরে কোন সাহাবী সামাজিকভাবে বা ব্যক্তিগতভাবে তাঁর জন্ম উদযাপন, জন্ম আলোচনা বা জন্ম উপলক্ষে আনন্দ প্রকাশের জন্য নির্দিষ্ট কোন দিনে বা অনির্দিষ্টভাবে বৎসরের কোন সময়ে কোন অনুষ্ঠান করেছেন। সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামই ছিলেন তাঁদের সকল আলোচনা, সকল চিন্তা চেতনার প্রাণ, সকল কর্মকান্ডের মূল। তাঁরা রাহমাতুল্লিল আলামীনের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের) জীবনের ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর ঘটনা নিয়ে আলোচনা করেছেন, তাঁর জীবনের বিভিন্ন ঘটনা আলোচনা করে তাঁর ভালোবাসায় চোখের পানিতে বুক ভিজিয়েছেন। তাঁর আকৃতি, প্রকৃতি, পোষাক আশাকের কথা আলোচনা করে জীবন অতিবাহিত করেছেন। কিন্তু তাঁরা কখনো তাঁর জন্মদিন পালন করেননি। এমনকি তাঁর জন্মমুহুর্তের ঘটনাবলী আলোচনার জন্যও তাঁরা কখনো বসেন নি বা কোন দান-সাদকা, তিলাওয়াত ইত্যাদির মাধ্যমেও কখনো তাঁর জন্ম উপলক্ষে আনন্দ প্রকাশ করেননি। তাঁদের পরে তাবেয়ী ও তাবে তাবেয়ীদের অবস্থাও তাই ছিল। বস্ত্তত: কারো জন্ম বা মৃত্যুদিন পালন করার বিষয়টি আরবের মানুষের কাছে একেবারেই অজ্ঞাত ছিল। জন্মদিন পালন ‘‘আ‘জামী’’ বা অনারবীয় সংস্কৃতির অংশ। প্রথম যুগের মুসলিমগ তা জানতেন না। পারস্যের মাজুস (অগ্নি উপাসক) ও বাইযান্টাইন খ্রিষ্টানদের ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল জন্মদিন, মৃত্যুদিন ইত্যাদি পালন করা। তবে প্রথম ও দ্বিতীয় শতাব্দীতে পারস্য, সিরিয়া, মিসর ও এশিয়া মাইনরের যে সকল মানুষ ইসলামের ছায়াতলে আসেন তাঁরা জীবনের সকল ক্ষেত্রে সাহাবীদের অনুসরণ অনুকরণ করতেন এবং তাঁদের জীবনাচারণে আরবীয় রীতিনীতিরই প্রাধান্য ছিল। হিজরী তৃতীয় শতাব্দী থেকে মুসলিম সাম্রাজ্যে অনারব পারসিয়ান ও তুর্কী মুসলিমদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে মুসলিম সাম্রাজ্যে বিভিন্ন নতুন নতুন সামাজিক ও ধর্মীয় রীতিনীতির প্রচলন ঘটে, তন্মধ্যে পবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী অন্যতম।

ঐতিহাসিকগণ বলেন, জন্মদিনের নামে যারা সর্বপ্রথম এই বিদআতকে রূপদান করে তারা হলো ফাতেমী রাজবংশ যারা নিজেদেরকে হযরত আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর বংশধর বলে দাবী করতো। (সূত্রঃ আল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ ১১/২০২)। ফাতেমীর হচ্ছেন উবাইদ বংশের রাফেযী ইসমাঈলী শিয়াগণ। এরা রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ২ ঈদ ছাড়াও আরো বিভিন্ন দিন পালন করতেন, তন্মধ্যে অধিকাংশই ছিল জন্মদিন। তাঁরা অত্যন্ত আনন্দ, উৎসব ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ৫টি জন্মদিন পালন করতেন:
১) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মদিন,
২) আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর জন্মদিন,
৩) ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু আনহার জন্মদিন,
৪) হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহুর জন্মদিন ও
৫) হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুর জন্মদিন।
এ ছাড়াও তারা তাদের জীবিত খলীফার জন্মদিন পালন করতেন এবং ‘‘মীলাদ’’ নামে ঈসা আলাইহিস সালামের জন্মদিন (বড়দিন বা ক্রীসমাস), যা মিশরের খ্রিষ্টানদের মধ্যে প্রচলিত ছিল তা আনন্দপ্রকাশ, মিষ্টি ও উপহার বিতরণের মধ্য দিয়ে উদযাপন করতেন। (সূত্রঃ আল-মাকরীযী, আহমদ বিন আলী, আল-মাওয়ায়িজ ওয়াল ইতিবার বি যিকরিল খুতাতি ওয়াল আসার - মিশর, কাইরো, মাকতাবাতুস সাকাফা আদ দীনীয়্যাহ, ৪৯০-৪৯৫ পৃষ্ঠা)। এই ফাতিমীদের মূল লক্ষ্য/উদ্দেশ্য ছিল, দ্বীন ইসলামের মাঝে পরিবর্তন সাধন করে তার মধ্যে এমন নতুন কিছু ঢুকানো যার অস্তিত্ব দ্বীনের মধ্যে কোনকালেই ছিল না। কারণ, ইসলামী শরীয়ত এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নত থেকে মানুষকে দূরে সরানোর সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হল, তাদেরকে বিদআতের মধ্যে ব্যতিব্যস্ত রাখা। ইতিহাসবিদদের মতে, এদের অবস্থান ইসলাম থেকে শুধু দূরেই নয় বরং এরা ইসলাম ও মুসলমানদের ঘোরতর দুশমন। যদিও এরা বাহ্যিকভাবে তা স্বীকার করে না। উবাইদিয়াদের শাসনামলে মিলাদ চালু হওয়ার পর ধীরে ধীরে তা ব্যাপকতা লাভ করতে লাগল। মুসলমানগণ জিহাদ ছেড়ে দিল এবং তারা রূহানী ভাবে দুর্বল হয়ে পড়ায় এই বিদআতটি সাধারণ মানুষের মনে শিকড় গেড়ে বসল। এমনকি অনেক মহা মূর্খ মানুষের নিকট এটা আকীদা-বিশ্বাসের একটি অংশ হয়ে দাঁড়ায়।

নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবদ্দশায়ও তাঁর জন্মদিন পালন কিংবা জন্ম উপলক্ষে কখনো কোনো আয়োজন করা হয়নি। নবীজীর ইন্তেকালের পর সাহাবায়ে কেরামের সুদীর্ঘ যুগ থেকেও এমন কোনো ঘটনার প্রমাণ বা সাক্ষী পাওয়া যায় না। এমনকি সাহাবায়ে কেরামের পর যে তাবেঈ ও তাবে-তাবেঈনের যুগেও এইধরণের কোনো উৎসব-আয়োজন ইত্যাদির নজির নেই।

প্রশ্ন জাগে, তাহলে মিলাদ আসলো কোত্থেকে? এর উত্তর হচ্ছে, মিলাদ মূলত হিজরী ৬ষ্ঠ শতাব্দীর পরবর্তী সময়ের উদ্ভাবন। এর আগ পর্যন্ত ‘মিলাদ’ বলতে কোনো উৎসব আয়োজন বা আমল হতে পারে এমন কল্পনাও কারো মাথায় আসেনি। সর্বপ্রথম হিজরী ৬ষ্ঠ শতাব্দীর পর সম্পূর্ণ আমোদ-প্রমোদের উদ্দেশ্যে বাদশা মুজাফফররুদ্দীন আবু সাঈদ কূকুবূরী বিন আরবাল এর উদ্বোধন করেন। (সূত্র: আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া-১৩/১৫৯). সউদী আরবের সাবেক প্রধান মুফতি শাইখ মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহীম আলুশ শাইখ রহিমাহুল্লাহ বলেন, “হিজরি ৬ষ্ঠ শতাব্দীতে এই বিদআত তথা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্মদিবস পালনের প্রথা সর্বপ্রথম চালু করেন আবু সাঈদ কূকুবূরী। [সূত্রঃ ফাতাওয়া ওয়া রাসায়েল ৩/৫৯]

অনুসন্ধানে জানা যায়, ৬০৪ হিজরী সনে ইরাকের মসূল শহরের বাদশাহ আবু সাঈদ মুজাফফর উদ্দীন কূকুবূরী [মৃত-৬৩০ হিজরী] এবং আবুল খাত্তাব ওমর বিন দিহইয়া [মৃত্যু-৬৩৩ হিজরী] এর মাধ্যমে সর্বপ্রথম প্রচলিত পদ্ধতির মিলাদ মাহফিলের সূচনা হয়। বিখ্যাত মুহাদ্দিস হাফিজে হাদীস আল্লামা ইবনে কাছীর রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেনঃ ﻛﺎﻥ ﻳﺼﺮﻑ ﻋﻠﻲ ﺍﻟﻤﻮﻟﺪ ﻛﻞ ﺳﻨﺔ ﻋﻠﻲ ﺛﻼﺛﺔ ﺍﻟﻒ ﺩﻳﻨﺎﺭ
অর্থ: আরবলের বাদশা হযরত মালিক মুজাফফরুদ্দীন ইবনে যাইনুদ্দীন রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি প্রতি বছর পবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী উপলক্ষে তিন লক্ষ দিনার ব্যয় করতেন।” (সূত্রঃ আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১৩ তম খন্ড ১৩৭ পৃষ্ঠা) সেইসময়ে শুধুমাত্র ১২ই রবিউল আওয়ালে তা পালন করা হতো। কিন্তু পরবর্তীতে তা যেকোন দুআ’র অনুষ্ঠানেই পালন করা শুরু হয়। উক্ত দরবারী আলেম আবুল খাত্তাব বিন ওমর বিন দিহইয়া সর্বপ্রথম মিলাদ মাহফিলের বৈধতা প্রদান করে “আততানবীর ফী মাওলিদিসসিরাজিম মুনীর” নামে একটি গ্রন্থ রচনা করে। ফলে বাদশা খুশি হয়ে উক্ত আলেম’কে হাজার দিনার বখশীশ দান করেন। (সূত্রঃ- আন নিয়ামাতুল কুবরা আলাল আলম পৃঃ ৭৬, ৯ম শতাব্দী আল্লামা জালালুদ্দিন সুয়ুতি রহমতুল্লাহি আলাইহি এর ফতওয়া সূত্র বর্ণিত) আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর বিখ্যাত “আল হাবীলিল ফতওয়া” নামক কিতাবে বর্ণনা করেন,“যিনি এই প্রকার মীলাদ মাহফিলের প্রবর্তন করেন, তিনি হলেন আরবালের বাদশাহ্ মালিক মুজাফফর আবূ সাইদ বিন জয়নুদ্দীন।”
আবুল খাত্তাব বিন ওমর বিন দিহইয়া সম্পর্কে আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী রহিমাহুল্লাহ লিখেন-
كثير الوقيعة في الأئمة وفي السلف من العلماء خبيث اللسان أحمق شديد الكبر قليل النظر في أمور الدين متهاونا
সে পূর্ববতী ইমাম ও আলেম উলামাদের সাথে বেয়াদবীমূলক আচরণ করতো। সে ছিল অশ্লীলভাষী, প্রচন্ড নির্বোধ, অহংকারী দ্বীন সম্পর্কে সংকীর্ণমনা ও অলস। (সূত্রঃ লিসানুল মিযান-১/৩৩৮)

ঘটনা এখানেই শেষ না। এইসব মিলাদপন্থী মানুষ মিলাদ পালনের নামে এই ভয়ংকর বিদআতের সাথে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিকভাবে জুড়ে দিয়েছে কিয়ামের প্রথাটিকে, মানে মিলাদের মাঝে হূট করে দাঁড়িয়ে দরুদ পাঠ। এর আবিষ্কারও হয়েছে মিলাদেরও প্রায় ১০০ বছর পরে। অর্থাৎ ৭৫১ হিজরির দিকে। খাজা তকিউদ্দিন ছিলেন একজন ভাব কবি ও মাজযুব ব্যক্তি। নবীজীর শানে তিনি কিছু কাসিদা (কবিতা) রচনা করেন। বরাবরের ন্যায় একদিন তিনি কাসিদা পাঠ করছিলেন এবং ভাবাবেগে হঠাৎ তিনি দাঁড়িয়ে কাসিদা পাঠ করতে লাগলেন। ভক্তরাও তাঁর দেখাদেখি দাঁড়িয়ে গেল। ঘটনা এখানেই শেষ। তিনি আর কখনো এমনটি করেননি। এখানে একটা বিষয় লক্ষনীয় যে, খাজা তকিউদ্দিন কবিতা পাঠ করতে করতে দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন। বলা বাহুল্য, এটি কোনো মিলাদের অনুষ্ঠান ছিল না এবং ঘটনা এখানেই শেষ। জীবদ্দশায় তিনি আর কখনো এমনটি করেন নি। খাজা তাকিউদ্দিনের এই অনিচ্ছাকৃত দাঁড়িয়ে পড়াটাকেই মিলাদ জন্মের প্রায় একশত বছর পর এসে এইসব মিলাদপন্থীরা মিলাদের সঙ্গে জুড়ে দেয়। ফলে কিয়ামযুক্ত মিলাদ বিদআত হওয়ার বিষয়টি আরো সুস্পষ্ট হয়ে উঠে।

মিলাদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম'কে হাজির নাজির মনে করে কিয়াম করা তো রীতিমতো শিরক। হাজির নাজির মনে না করলেও এর কোন শরীয়ত ভিত্তি নেই। প্রচলিত মিলাদ, কিয়াম নাজায়েজ ও বিদআতের অন্তর্ভুক্ত বলেই সকল হক্কানী ওলামায়ে কীরাম একবাক্যে ঘোষনা দিয়ে থাকেন। কারন হচ্ছেঃ
হযরত আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “সাহাবাদের নিকট রাসূল (সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম) অপেক্ষা প্রিয় কেউ ছিল না। তদুপরি হৃদয়ে এত মহব্বত পোষণ করা সত্বেও যখন তাঁরা প্রিয় রাসূল (সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম)’কে দেখতেন তখন সাহাবারা দন্ডায়মান হতেন না। কেননা, তাঁরা একথা ভালোভাবেই জানতেন যে, রাসূল (সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম)’কে দেখে আমরা ‘দন্ডায়মান’ হই এটি তিনি পছন্দ করতেন না।" (সূত্রঃ মিশকাত শরীফ, হাদিস নাম্বার ৪৬৯৮ , সহী তিরমিজী শরীফ হাদিস নাম্বার ২৭৫৪, সহী আহমাদ হাদিস নাম্বার ১২৩৭০, মুসান্নাফ ইবনু আবূ শায়বাহ্ হাদিস নাম্বার ২৫৫৮৩)

আবূ মিজলায (রহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত মু'আবিয়াহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বাইরে বের হলে তাকে দেখে আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর ও ইবনু সাফওয়ান দাঁড়িয়ে গেলেন। তিনি বললেন, তোমরা দু’জনেই বসো। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’কে বলতে শুনেছিঃ এতে যে লোক আনন্দিত হয় যে, মানুষ তার জন্য মূর্তির মতো দাড়িয়ে থাকুক, সে যেন জাহান্নামে তার বাসস্থান নির্দিষ্ট করে নেয়। (সূত্রঃ সূনান আত-তিরমিজী হাদিস নাম্বার ২৭৫৫, মিশকাত শরীফ হাদিস নাম্বার ৪৬৯৯, সূণানে আবু দাউদ হাদিস নাম্বার ৫২২৯)

মিলাদকে সত্যিকারের ইবাদত মনে করা মারাত্মক গুনাহের সমতূল্য
মিলাদ কিয়ামের মত নব্য বিদআত আবিস্কার করা এইকথা প্রমান করে যে, আল্লাহ তা’আলা দ্বীনকে উম্মতের জন্য পরিপূর্ণ করেননি। তাই দ্বীনের পরিপূরক হিসেবে এখনও নতুন কিছু আবিস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। এছাড়াও বুঝা যায় যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিজের উম্মতের জন্য কল্যাণকর সকল বিষয়ের প্রচার করে যাননি। যেইকারণে পরবর্তীতে আল্লাহর এবং তার রাশূলের অনুমোদন ব্যতিরেকে শরীয়তে নতুন কিছু আবিষ্কারের প্রয়োজন হয় যার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায়। এটা চুড়ান্ত পর্যায়ের ভুল, আল্লাহর ভুল ধরা মারাত্মক গুনাহের কাজ। এটা আল্লাহর দুশমন ইয়াহুদী-খ্রিষ্টান কর্তৃক তাদের ধর্মে নব প্রথা সংযোজনের সাথে সামঞ্জস্য স্বরূপ এবং আল্লাহ তা’আলা ও তাঁর রাসূলের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপর একধরণের মারাত্মক অভিযোগ! অথচ আল্লাহ তা’আলা তাঁর দ্বীনকে পরিপূর্ণ ও বান্দাদের জন্য সকল নিয়ামত সস্পূর্ণ করে দিয়েছেন। আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কুরআন শরীফে সুস্পষ্টভাষায় ঘোষনা করেছেনঃ
اَلْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِيْنَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكَمْ نعْمَتِيْ وَ رَضِيْتُ لَكُم الإِسْلامَ دِيْنًا
“আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন পরিপূর্ণ করে দিলাম ও আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম”
। (সূত্রঃ সূরা মায়দাহ, আয়াত নাম্বার ৩)

কুরআন ও সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরা এবং খোলাফায়ে রাশেদীন ও তাবেয়ীদের প্রদর্শিত পথে চলার ভিতরেই রয়েছে একমাত্র মুসলমানদের জন্য ইহকালীন ও পরকালীন কল্যাণ ও মুক্তি। কারণ আল্লাহর রাসূল সাল্লালাহু আলাহসি ওয়াসাল্লাম আমাদের নির্দেশ দিয়ে গেছেনঃ
“তোমাদের জন্য আবশ্যক আমার ও আমার পরবর্তী হেদায়াতপ্রাপ্ত খোলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাতকে এমনভাবে আঁকড়ে ধরা যেভাবে দাঁত দিয়ে কোন জিনিস দৃঢ়ভাবে কামড়ে ধরা হয়। আর শরীয়তে নিত্য নতুন জিনিস আবিস্কার করা হতে বেঁচে থাকো। কেননা সকল নবসৃষ্ট বস্তুই বিদআত। আর প্রত্যেক বিদআতই গোমরাহী।“ (সূত্রঃ সূনানে আবু দাউদ, অধ্যায় ৩৫/সুন্নাহ, হাদিস নাম্বার ৪৬০৭)

বর্তমানে ধর্মকে ব্যবসা বানিয়ে আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে এইসব হুজুররা টাকাপয়সা নিয়ে মিলাদ, ফাতিহা, ওয়াজ, নসিহত, মৃতের জন্য জানাযার দোয়া সহ ধর্মীয় বিভিন অনুষ্ঠানের আয়োজনে তাগাদা দেয়, যার কোন শরীয়ত ভিত্তি নেই। ইসলামকে পুঁজি করে আগুনখোর এই ধর্মজীবিরাই কুরআন এবং সুন্নাহ থেকে সবাইকে দূরে সরিয়ে রেখে নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করছে। যারা আল্লাহর আয়াতকে বিকিকিনির পণ্য বানায় তারা ধর্ম ব্যবসায়ী, যারা সত্য প্রচারের জন্য পারিশ্রমিক নেবার উসিলা বানায় তারাই স্রষ্টার দৃষ্টিতে পথভ্রষ্ট।

সম্মানিত পাঠকবৃন্দ-
১। খুলাফায়ে রাশিদীনের প্রথম খলিফা হচ্ছেন হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু, যাকে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম নিজের বন্ধু হিসেবে ঘোষনা করে গেছেন।
মিলাদ যদি মহানবীর সম্মানের জন্য করা হয়, কেন হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু তার বন্ধুর জন্য এই আয়োজন করেনি?

২। খুলাফায়ে রাশিদীনের দ্বিতীয় খলিফা হচ্ছেন হযরত উমর ইবন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু। স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম নিজেই বলে গেছেন শয়তান পর্যন্ত হযরত উমর ইবন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু’কে ভয় পেতেন। যিনি ইসলামী খিলাফতে শরীয়ত আইনের সর্বোচ্চ বাস্তবায়ন করে গেছেন।
মিলাদ যদি মহানবীর সম্মানের জন্য করা হয়, কেন হযরত উমর ইবন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু এই আয়োজন করেননি?

৩। খুলাফায়ে রাশিদীনের তৃতীয় খলিফা হচ্ছেন হযরত উসমান বিন আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু। উনার উপাধি ছিল ‘জুন্নুরাইন’ যার অর্থ ‘দুই আলোর অধিকারী’, উনি মহানবীর দুইজন কন্যাকে বিবাহ করেছিলেন।
মিলাদ যদি মহানবীর সম্মানের জন্য করা হয়, তাহলে কেন হযরত উসমান বিন আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু নিজের শ্বশুরের জন্য এই আয়োজন করেননি?

৪। খুলাফায়ে রাশিদীনের চর্তুথ খলিফা হচ্ছেন হযরত আলী ইবন আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু। স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাহিস ওয়াসাল্লাম তাকে আপণ সন্তানের মতো করে নিজের ঘরে লালন পালন করেছেন এবং নিজের সবচেয়ে আদরের কন্যা হযরত ফাতিমা জাহরা রাদিয়াল্লাহু আনহার সাথে বিবাহ দিয়েছেন। বলা হয়ে থাকে মহানবী যদি জ্ঞানের নগরী হন তাহলে হযরত আলী ইবন আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু সেটাতে প্রবেশের দরজা।
মিলাদ যদি মহানবীর সম্মানের জন্য করা হয়, তাহলে কেন হযরত আলী ইবন আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু পিতৃতূল্য শ্বশুরের জন্য এটার আয়োজন করেননি?

এটা সর্বসম্মতিক্রমে একনিষ্ঠভাবে প্রমানিত যে, বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ২৩ বছর, খুলাফায়ে রাশেদীনের আনুমানিক ৩০ বৎসর, এরপর প্রায় ২২০ হিজরী পর্যন্ত তাবেঈন, তাবে তাবেঈনের যুগ, এরপর প্রায় ৪০০ হিজরী পর্যন্ত ইমাম ও মুজতাহিদীনের যুগ, এরপর প্রায় ৬০৩ হিজরী পর্যন্ত ইসলামের স্বর্নযুগেও প্রচলিত মিলাদ কিয়াম এর কোন অস্তিত্ব ছিল না। সর্বপ্রথম ৬০৪ হিজরী মোতাবেক ১২১৩ খৃষ্টাব্দে আনুষ্ঠানিকভাবে এই মিলাদের প্রচলন হয়।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআন শরীফ শুরুই করেছেন ইকরা অর্থাৎ পড়ো দিয়ে। তিনি আমাদের জ্ঞান অর্জন করার জন্য সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন। এই পার্থিব জগতের বহু বিষয়ই তো শিখলেন, বুঝলেন। অথচ অনন্তর যে জীবন আমাদের কাটাতে হবে তার জন্য প্রায় কিছুই শিখছেন না। আপনার কি মনে হয় নবীর সুন্নাহ এবং হাদীস প্রকৃতভাবে না মানলে পরকালের জীবন সুখের কাটবে? ইসলামের শত্রুরা অনেকদিন ধরেই এই অপচেষ্টা চালাচ্ছে যেন মুসলিমরা নবীর সুন্নাহ এবং হাদিস এর থেকে মুখ ঘুরিয়ে বিদআত নিয়ে ব্যস্ত হয়ে থাকে। তা না হলে ইসলামে ব্যাপক ক্ষতি করা কখনই সম্ভব না। ভেবে দেখুন নিজের অজান্তেই এই ভয়ংকর কাজে শরীক হয়ে যাচ্ছেন নাতো?

সুতরাং মহানবীর সহী হাদিস মোতাবেক নব্য আবিষ্কৃত এই মিলাদ-কিয়াম অনুষ্ঠানটি নিঃসন্দেহে চরমতম বিদআত ও সর্ম্পূণভাবে নাজায়েজ। এইসব বিদআত থেকে তওবা করে ফিরে আসার সময় এখনো সবার জন্য শেষ হয়ে যায়নি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে পথভ্রষ্ট হয়ে গেলে কী করতে হবে সেটাও বলে দিয়েছেনঃ
“হে মুমিনগণ, তোমরা আনুগত্য করো আল্লাহর ও আনুগত্য করো রাসূলের এবং তোমাদের মধ্য থেকে কর্তৃত্বের অধিকারীদের। অতঃপর কোন বিষয়ে যদি তোমরা মতবিরোধ করো তাহলে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে প্রত্যার্পণ করাও, যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখো। এটি উত্তম এবং পরিণামে উৎকৃষ্টতর”। (সূত্রঃ সূরা আন নিসা, আয়াত ৫৯)

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সবাইকে সিরাতুল মুস্তাকীমের পথে চলার তৌফীক দান করুন, আমীন।

সবাইকে ধন্যবাদ ও শুভ কামনা রইল।
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত @ নীল আকাশ, মে ২০২১

সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই মে, ২০২১ দুপুর ১২:০৫
২৮টি মন্তব্য ৩০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৬৪ জন ব্লগার চাই

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ১৩ ই জুন, ২০২১ দুপুর ২:৪৪




বাংলা ভাষার সবচেয়ে বড় ব্লগ হচ্ছে আমাদের প্রিয় সামু ব্লগ। কিন্তু জিনিস ইদানিং খুব ফিল করছি। এত বড় প্লাটফর্মে
কি বাংলাদেশের ৬৪ জেলার ৬৪ জন ব্লগার ব্লগিং করেন না... ...বাকিটুকু পড়ুন

চুপ !! ( একটি রম্য কবিতা)

লিখেছেন নূর মোহাম্মদ নূরু, ১৩ ই জুন, ২০২১ বিকাল ৫:১৬


চুপ !! (একটি রম্য কবিতা)
© নূর মোহাম্মদ নূরু

চুপ! চুপ!! চুপ পেলাপান, এক্কেবারে চুপ !!!
চ্যাচা মেচি করলে রাজা রাগ করিবেন খুব।
কথা বলো চুপি চুপি দাড়ি পাল্লায় মেপে
ওজন বেশী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সহজ ভাষায়ঃ কপি-পেস্ট দোষের কেন [একটি গল্প ফাও]

লিখেছেন আরইউ, ১৩ ই জুন, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:২৯




একটা গল্প বলিঃ ৯০ এর দশকের কোন এক সময় হবে, তখনকার। গ্রামের নাম নীলগন্জ। ঢাকা থেকে অল্প দূরে -- ধরা যাক ২৫ কি ৫০ কিলোমিটার হবে -- ছোট একটা গ্রাম।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর মহামারী ব্ল্যাক ডেথের গর্ভ হতে জন্ম নেয়া কিছু সাহিত্য ও শিল্প কর্ম নিয়ে একটি পর্যালোচনা।

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৩ ই জুন, ২০২১ রাত ৯:৩১


সুত্র : Click This Link
আমরা অনেকেই জানি ব্ল্যাক ডেথ ( Black Death) নামে পরিচিত মানব ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর একটি মহামারী অস্বাভাবিক মারণক্ষমতা নিয়ে প্যানডেমিক হয়ে ছড়িয়ে পড়েছিল সারা বিশ্বে। মধ্য এশিয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভিনদেশী গানের সুরের আদলে রবীন্দ্রসঙ্গীত

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ১৩ ই জুন, ২০২১ রাত ১০:১১


কৈশোর ও তারুণ্যের মাঝামাঝি বয়সে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কয়েক দিন আগের পোস্টে কিছু হিন্দি গানের লিংক দিয়েছিলাম যেগুলির সুর রবীন্দ্রসঙ্গীত থেকে ধার করা ছিল। এই পোস্টে কিছু রবীন্দ্রসঙ্গীতের সন্ধান... ...বাকিটুকু পড়ুন

×