
অথচ ১৩সালের দিকে ইউরোপে বাংলাদেশ চিংড়ি পাঠাতো। সেখানে হালকা শিসা থাকায় আর কোন প্রকার মাছ ওই দেশে আর নেয়না। সমস্ত চুক্তি বাতিল।
অনেক দেশ আছে যেখানে খাদ্যে ভেজাল দিলে মৃত্যু দন্ড হয়। আর আমাদের দেশে ২০০০টাকা জরিমানা। খাবার নিয়ে ফালায়ে দেয়। এই হলো শাস্তি।
এখন জনগন যারা অপরাধ করে তাদের বিচারের আগে প্রশাসনকে আইনের আওতায় আনাউচিৎ এবং প্রকাশ্য জিজ্ঞাসাবাদা করতে হবে কোন কম্পানি থেকে কত খেয়েছে।
প্রাণের মতো মাল্টিন্যাশনাল কম্পানির খাবারেও ভেজাল।
সবচেয়ে বিপদের কথা হলো শিশু খাদ্য ভয়াবহ ভেজাল। সরকার ও তার সংস্থা কি করে? এরাকি কোন এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে? আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মতো শেষ হয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশে খাদ্য ও ঔষধে ভেজাল আজ শুধু একটি অনিয়ম নয়; এটি এক ভয়াবহ সামাজিক দুর্যোগে পরিণত হয়েছে। মানুষের জীবন রক্ষার জন্য যে খাদ্য ও ঔষধ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, সেই ক্ষেত্রেই প্রতিনিয়ত চলছে প্রতারণা, মুনাফালোভ এবং দায়িত্বহীনতা। সাধারণ মানুষ বাজার থেকে যা কিনছে, তার কতটুকু নিরাপদ—এই প্রশ্ন আজ সর্বত্র। দুধে ডিটারজেন্ট, ফলে রাসায়নিক, মসলায় রং, মাছ-মাংসে ক্ষতিকর পদার্থ, এমনকি জীবনরক্ষাকারী ঔষধেও নকল ও নিম্নমানের উপাদান—এসব এখন আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং একটি ভয়াবহ বাস্তবতা।
বাংলাদেশে খাদ্য ও ঔষধ নিয়ন্ত্রণের জন্য একাধিক সরকারি সংস্থা রয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ, ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর, বিএসটিআই, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত—সব মিলিয়ে বিশাল প্রশাসনিক কাঠামো বিদ্যমান। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এত সংস্থা থাকার পরও ভেজাল কেন থামছে না? জনগণের চোখে এ সংস্থাগুলোর কার্যক্রম অনেকাংশে আনুষ্ঠানিক ও সীমিত। মাঝে মাঝে অভিযান পরিচালনা, কিছু জরিমানা, সংবাদমাধ্যমে প্রচার—এসবের বাইরে স্থায়ী ও কার্যকর পরিবর্তন খুব কমই দেখা যায়। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে যে, ভেজাল নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো শতভাগ ব্যর্থ।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো—এই ভেজালের প্রভাব সরাসরি মানুষের স্বাস্থ্যের উপর পড়ছে। শিশুদের অপুষ্টি, কিডনি রোগ, ক্যান্সার, লিভারের জটিলতা, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ নানা রোগ অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। একজন মানুষ অসুস্থ হলে চিকিৎসকের কাছে যায় সুস্থ হওয়ার আশায়; কিন্তু যদি সেই ঔষধও ভেজাল বা নিম্নমানের হয়, তবে তা মানুষের জীবনের সাথে নির্মম প্রতারণা ছাড়া আর কিছু নয়। একটি রাষ্ট্রের জন্য এর চেয়ে বড় ব্যর্থতা আর কী হতে পারে, যেখানে নাগরিক নিশ্চিত হতে পারে না যে সে নিরাপদ খাদ্য ও কার্যকর ঔষধ পাচ্ছে কি না।
ভেজাল বৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি কারণ স্পষ্টভাবে কাজ করছে। প্রথমত, অসাধু ব্যবসায়ীদের সীমাহীন মুনাফার লোভ। দ্বিতীয়ত, আইনের দুর্বল প্রয়োগ ও শাস্তির অভাব। তৃতীয়ত, দুর্নীতি ও প্রভাবশালী চক্রের ছত্রচ্ছায়া। অনেক সময় দেখা যায়, অভিযান হলেও কিছুদিন পর আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায় বাজার। এতে বোঝা যায়, সমস্যার মূল জায়গায় আঘাত করা হচ্ছে না। এছাড়া সাধারণ মানুষের সচেতনতার অভাবও একটি কারণ। মানুষ অনেক সময় কম দামের পণ্য কিনতে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ খাদ্য গ্রহণ করে।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য কেবল সাময়িক অভিযান যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন কঠোর ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা। ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠন, বড় অঙ্কের জরিমানা ও কঠোর কারাদণ্ড নিশ্চিত করতে হবে। খাদ্য ও ঔষধ পরীক্ষাগারকে আধুনিক ও স্বাধীন করতে হবে। বাজার তদারকিতে রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। একইসঙ্গে গণমাধ্যম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় মঞ্চ থেকে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। জনগণকেও ভেজালবিরোধী সামাজিক আন্দোলনে অংশ নিতে হবে।
একটি সভ্য রাষ্ট্রে নাগরিকের নিরাপদ খাদ্য ও ঔষধ পাওয়ার অধিকার মৌলিক অধিকার হিসেবে বিবেচিত হয়। বাংলাদেশেও সেই অধিকার বাস্তবায়ন জরুরি। অন্যথায় ভেজাল শুধু মানুষের শরীর নয়, রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থা পর্যন্ত ধ্বংস করে দেবে। তাই এখনই সময়—দায়িত্বহীনতা ও ব্যর্থতার সংস্কৃতি ভেঙে একটি নিরাপদ, জবাবদিহিমূলক এবং মানবিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে মে, ২০২৬ সকাল ৯:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



