somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সামিউল ইসলাম বাবু
অপরিকল্পিতভাবে যেমন সুন্দর বাগান তৈরী সম্ভব নয়,তেমনি অপরিকল্পিত শিক্ষাব্যবস্থা দিয়ে একটা সুন্দর জাতি তৈরী সম্ভব নয়।আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায়- কর্মমুখী,নৈতিকতা সমৃদ্ধ ও যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা চাই,বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় জাতির বোঝা তৈরী হয়, সম্পদ নয়।

খাদ্য অধিদপ্তর ও ঔষধ প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করা উচিৎ

১৯ শে মে, ২০২৬ সকাল ৯:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এই সংবাদ কি সরকার দেখেনা?
অথচ ১৩সালের দিকে ইউরোপে বাংলাদেশ চিংড়ি পাঠাতো। সেখানে হালকা শিসা থাকায় আর কোন প্রকার মাছ ওই দেশে আর নেয়না। সমস্ত চুক্তি বাতিল।

অনেক দেশ আছে যেখানে খাদ্যে ভেজাল দিলে মৃত্যু দন্ড হয়। আর আমাদের দেশে ২০০০টাকা জরিমানা। খাবার নিয়ে ফালায়ে দেয়। এই হলো শাস্তি।

এখন জনগন যারা অপরাধ করে তাদের বিচারের আগে প্রশাসনকে আইনের আওতায় আনাউচিৎ এবং প্রকাশ্য জিজ্ঞাসাবাদা করতে হবে কোন কম্পানি থেকে কত খেয়েছে।

প্রাণের মতো মাল্টিন্যাশনাল কম্পানির খাবারেও ভেজাল।

সবচেয়ে বিপদের কথা হলো শিশু খাদ্য ভয়াবহ ভেজাল। সরকার ও তার সংস্থা কি করে? এরাকি কোন এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে? আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মতো শেষ হয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশে খাদ্য ও ঔষধে ভেজাল আজ শুধু একটি অনিয়ম নয়; এটি এক ভয়াবহ সামাজিক দুর্যোগে পরিণত হয়েছে। মানুষের জীবন রক্ষার জন্য যে খাদ্য ও ঔষধ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, সেই ক্ষেত্রেই প্রতিনিয়ত চলছে প্রতারণা, মুনাফালোভ এবং দায়িত্বহীনতা। সাধারণ মানুষ বাজার থেকে যা কিনছে, তার কতটুকু নিরাপদ—এই প্রশ্ন আজ সর্বত্র। দুধে ডিটারজেন্ট, ফলে রাসায়নিক, মসলায় রং, মাছ-মাংসে ক্ষতিকর পদার্থ, এমনকি জীবনরক্ষাকারী ঔষধেও নকল ও নিম্নমানের উপাদান—এসব এখন আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং একটি ভয়াবহ বাস্তবতা।

বাংলাদেশে খাদ্য ও ঔষধ নিয়ন্ত্রণের জন্য একাধিক সরকারি সংস্থা রয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ, ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর, বিএসটিআই, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত—সব মিলিয়ে বিশাল প্রশাসনিক কাঠামো বিদ্যমান। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এত সংস্থা থাকার পরও ভেজাল কেন থামছে না? জনগণের চোখে এ সংস্থাগুলোর কার্যক্রম অনেকাংশে আনুষ্ঠানিক ও সীমিত। মাঝে মাঝে অভিযান পরিচালনা, কিছু জরিমানা, সংবাদমাধ্যমে প্রচার—এসবের বাইরে স্থায়ী ও কার্যকর পরিবর্তন খুব কমই দেখা যায়। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে যে, ভেজাল নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো শতভাগ ব্যর্থ।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো—এই ভেজালের প্রভাব সরাসরি মানুষের স্বাস্থ্যের উপর পড়ছে। শিশুদের অপুষ্টি, কিডনি রোগ, ক্যান্সার, লিভারের জটিলতা, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ নানা রোগ অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। একজন মানুষ অসুস্থ হলে চিকিৎসকের কাছে যায় সুস্থ হওয়ার আশায়; কিন্তু যদি সেই ঔষধও ভেজাল বা নিম্নমানের হয়, তবে তা মানুষের জীবনের সাথে নির্মম প্রতারণা ছাড়া আর কিছু নয়। একটি রাষ্ট্রের জন্য এর চেয়ে বড় ব্যর্থতা আর কী হতে পারে, যেখানে নাগরিক নিশ্চিত হতে পারে না যে সে নিরাপদ খাদ্য ও কার্যকর ঔষধ পাচ্ছে কি না।

ভেজাল বৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি কারণ স্পষ্টভাবে কাজ করছে। প্রথমত, অসাধু ব্যবসায়ীদের সীমাহীন মুনাফার লোভ। দ্বিতীয়ত, আইনের দুর্বল প্রয়োগ ও শাস্তির অভাব। তৃতীয়ত, দুর্নীতি ও প্রভাবশালী চক্রের ছত্রচ্ছায়া। অনেক সময় দেখা যায়, অভিযান হলেও কিছুদিন পর আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায় বাজার। এতে বোঝা যায়, সমস্যার মূল জায়গায় আঘাত করা হচ্ছে না। এছাড়া সাধারণ মানুষের সচেতনতার অভাবও একটি কারণ। মানুষ অনেক সময় কম দামের পণ্য কিনতে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ খাদ্য গ্রহণ করে।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য কেবল সাময়িক অভিযান যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন কঠোর ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা। ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠন, বড় অঙ্কের জরিমানা ও কঠোর কারাদণ্ড নিশ্চিত করতে হবে। খাদ্য ও ঔষধ পরীক্ষাগারকে আধুনিক ও স্বাধীন করতে হবে। বাজার তদারকিতে রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। একইসঙ্গে গণমাধ্যম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় মঞ্চ থেকে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। জনগণকেও ভেজালবিরোধী সামাজিক আন্দোলনে অংশ নিতে হবে।

একটি সভ্য রাষ্ট্রে নাগরিকের নিরাপদ খাদ্য ও ঔষধ পাওয়ার অধিকার মৌলিক অধিকার হিসেবে বিবেচিত হয়। বাংলাদেশেও সেই অধিকার বাস্তবায়ন জরুরি। অন্যথায় ভেজাল শুধু মানুষের শরীর নয়, রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থা পর্যন্ত ধ্বংস করে দেবে। তাই এখনই সময়—দায়িত্বহীনতা ও ব্যর্থতার সংস্কৃতি ভেঙে একটি নিরাপদ, জবাবদিহিমূলক এবং মানবিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে মে, ২০২৬ সকাল ৯:৩৭
৬টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধূসর ওয়ালেট

লিখেছেন মোহাম্মদ সজল রহমান, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৪৭

একটা ধূসর রংয়ের ওয়ালেট
সবুজাভ ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে বের হলো নীরবে
তার শান্ত হাতের উপর চেপে ধরতেই প্রশ্ন -
এটা আমার জন্য ?
ঘাড় নেড়ে সম্মতি দেখেই চঞ্চলতা ছুঁয়ে গেলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১

কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×