বাবা-মায়েরা তাদের ইচ্ছেমতো গুণাবলিসম্পন্ন সন্তান জন্ম দিতে পারবেন। প্রক্রিয়াটা এ রকম- দম্পতির উভয়ের ডিএনএ (এ ধরনের ডিএনএকে দাতা ডিএনএ বলা হয়) নিয়ে বিশ্লেষণ করে দেখা হবে এর মধ্যে কী কী ঘাটতি বা ত্রুটি আছে। মানুষের পক্ষে খালি হাতে কিংবা সাধারণ যন্ত্রে এমন সূক্ষ্ম আণবিক পর্যায়ের কাজটি কষ্টসাধ্য। এই কষ্টসাধ্য কাজটি সহজ করবে কম্পিউটার কিংবা বলা যেতে পারে একটা সফটওয়্যার।
ভাবতে অবাকই লাগে, ডিএনএর গঠন বিষয়টা রসায়নের ব্যাপার। সে রসায়ন নিয়ন্ত্রণ করবে কম্পিউটার। কোথায় কম্পিউটার আর কোথায় রসায়ন, জ্ঞান-গবেষণায় আকাশ-পাতাল যেন মিলেমিশে একাকার! ২০১৩ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন দুই কম্পিউটারবিজ্ঞানী!
সফটওয়্যারে সন্তান
এই সফটওয়্যারের কাজ হবে দাতা ডিএনএর ভাঁজের মধ্যেকার ত্রুটিবিচ্যুতিগুলো খুঁজে খুঁজে চিহ্নিত করা। ধরা যাক, দম্পতি রোগবালাইমুক্ত সন্তান চান। তাহলে তাদের ডিএনএকে হতে হবে রোগবালাইমুক্ত। কারণ, ডিএনএ হচ্ছে জীবনের ধারক ও বাহক, বংশপরম্পরায় এরই ভেতর দিয়ে মা-বাবা থেকে সন্তানে দোষ-গুণ প্রবাহিত হয়।
সফটওয়্যারটি দাতা ডিএনএর ভেতরে সাঁড়াশি তল্লাশি চালিয়ে সেই সব জিনকে খুঁজে বের করবে, যারা মানবদেহে রোগবালাই সৃষ্টি করে। এবার দাতা ডিএনএ হতে এসব জিনকে সরিয়ে উপযুক্ত প্রোটিন যোগ করে দেওয়া হবে। ফলে এই দম্পতির যে সন্তান হবে, তার ডিএনএ হবে রোগবালাই সৃষ্টিকারী জিনমুক্ত।
কেউ চাইতে পারেন তার সন্তানের চোখ হোক নীল, কণ্ঠ হোক মধুর, চুল হোক ঘন-কালো, উচ্চতায় লম্বা। এসব গুণের জন্য প্রয়োজনীয় জিনগুলোকে ইতিমধ্যে চিনে ফেলেছেন বিজ্ঞানীরা। ফলে দাতা ডিএনএর ভেতর এসব জিনকে উপযুক্ত কায়দায়, উপযুক্ত সন্নিবেশে ঢুকিয়ে দিলেই হলো, চাহিদামতো সন্তান জন্ম নেবে।
এ মাসের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি ক্লিনিকে এই পদ্ধতির পরীক্ষামূলক যাত্রা শুরু হতে পারে। এতে প্রযুক্তি সহায়তা দেবে জিনপিকস নামের একটি কোম্পানি। যুক্তরাষ্ট্রে সফলভাবে পরিচালনা করা গেলে এই প্রযুক্তি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে চায় জিনপিকস।
সূত্র: প্রথমবার্তা
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই এপ্রিল, ২০১৪ সকাল ১০:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



