somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নিলু হাসান
আমি সুন্দর মনের মানুষকে ভালবাসি আর ঘৃনা করি মিথ্যাকে ।

একটু সেক্রিফাইস

১৬ ই জানুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ১২:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
[img|http://s3.amazonaws.com/somewherein/pictures/nilohasan/nilohasan-1452925365-e6d11b4_xlarge.jpg

‘‘ভোগে নয় ত্যাগেই প্রকৃত সুখ’’ এই কথাটি আমরা প্রত্যেকেই জানি কিন্তু বাস্তবে আমল করেছি কতজন ? আমরা যদি ত্যাগ করা শুরু করি তবে দেখব সত্যিই কত সুখ।

ঢাকা থেকে বাড়ি যাচ্ছি গাড়িতে করে। গাড়ির প্রায় প্রতিটি সিটে একজন করে পুরুষ বসে আছেন। উত্তরা থেকে এক দম্পতি উঠল। পোশাক দেখেই বুঝা যাচ্ছে নতুন বিয়ে হয়েছে। তাই দুজন দুজনকে কাছে পাওয়ার আকাংখা থাকাটাই স্বাভাবিক। এরপর আবার সুন্দরী বউ হলে পাশে বসাতে না পারলে মনটা চিন চিন করে। গাড়িতে উঠার পর একত্রে বসার মত কোন সিট পেল না । ভদ্র লোকটি অনেককে অনুরোধ করলেন কিন্তু কেউ তার সিট ছেড়ে অন্য সিটে গিয়ে বসতে রাজি হলো না। অনেকে মজা করে না কথা বলে ফেললেন। বাধ্য হয়ে দুজনকে আলাদা সিটে বসতে হলো। কিছুক্ষণ পর পর একজন আরেক জনের দিকে শুধু তাকিয়ে থাকে। তাদের কষ্টটা বুঝতে পেরে আমি আমার সিট থেকে উঠে তাদের একত্রে বসার ব্যবস্থা করলাম। ভদ্র লোকটি আমাকে ধন্যবাদ দিয়ে তার সহধর্মীনিকে নিয়ে বসে যে তৃপ্তির হাসিটা হাসলেন তখন অমার খুব ভাল লাগল আর তখই আমি বুঝতে পারলাম ত্যাগের প্রকৃত সুখ। এমনি ভাবে প্রতিদিন কেউ মাকে নিয়ে, কেউ বোনকে নিয়ে,কেউ তার সহধর্মীনককে নিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে। আমরা যদি একটু সেক্রিফাইস করি তবে আমাদের কোন ক্ষতি হবে না কিন্তু কিছু লোকের মুখে হাসি ফুটবে। আবার অনেক সাহসী পুরুষ (?) আছেন যারা গাড়িতে ওঠে মহিলা সিট দখল করে ব্যাপক যুক্তিতর্ক করেন। আমার কথা হলো যুক্তি তর্কের প্রয়োজন নেই মা বোনদের শারীরিক নিরাপত্তার জন্যই তাদের সিট ছেড়ে দেওয়া উচিত। তাহলে হয়তো আপনার মা বা বোনকে অন্য কেউ সিট ছেড়ে দিয়ে বসতে দিবেন।

বিদ্যুৎ বিল দিতে গিয়ে লাইনে দাঁড়াতে হয় । আমাদের দেশে অধিকাংশ জায়গায় এখনো মহিলাদের জন্য আলাদা কাউন্টার হয়নি। আমি বিল দিতে দাঁড়িয়েছি লাইনে খানিকপর একজন মহিলা এসে লাইনে না দাড়িয়ে কাউন্টারের কাছে চলে গেল তখন সামনে দাড়িয়ে থাকা লোকজন বলতে শুরু করল পেছনে যান নারী পুরুষ সমান অধিকার। নানা রকম মন্তব্যে তিনি কিছুটা লজ্জাবোধ করলেন। তিনি লাইনের পেছনে গিয়ে দাঁড়ালেন আমি তার বিলটা আমার কাছে নিয়ে বললাম খালাম্মা আপনি বসুন আমি বিলটা দিয়ে দিচ্ছি। উনার বিলটা দিতে হয়তো আমাকে কয়েক মিনিট দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে তাতে আমার তেমন কষ্ট হয়নি কিন্তু এই সামান্য ত্যাগের বিনিময়ে যখন তার মলিন মুখটা হাসিতে ভরে উঠল তখনই আমি প্রকৃত সুখ অনুভব করলাম।

দৈনিক বাংলা মোড়ে দাঁড়িয়ে আছি বাসের অপেক্ষায় । বিকেলে বৃষ্টি হওয়ার কারণে রাসত্মা অনেক জ্যাম আবার অফিস সময় শেষ হওয়ার ফলে নারী পুরুষ সবাই ব্যসত্ম বাসায় ফেরা নিয়ে। বাস থামা মাত্রই মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ে গাড়িতে উঠার জন্য। পুরম্নষের শক্তির কাছে নারীরা একদম অসহায় হয়ে পড়ল। কোন মানুষই কোন নারীকে সম্মানতো দুরের কথা বরং সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে থাকার পরও তাদের ধাক্কা দিয়ে আগে গাড়িতে ওঠে যাচ্ছে। আমি এই দৃশ্য অবলোকন করে সিদ্ধান্ত নিলাম কিছু করার জন্য । আমি গাড়ি আসার সাথে সাথে গাড়ির হাতল ধরে কয়েকজন মহিলাকে উঠার ব্যবস্থা করলাম। তারা স্বস্তির নিঃশ্বাস ছেড়ে গাড়িতে উঠল। আমি একার পক্ষ হতে হয়তো সবাইকে তুলে দেওয়া সম্ভব না আমরা সবাই যদি একটু সহযোগীতা করি তবে আমার খেটে খাওয়া বোন গুলোর বেশ উপকার হতো ।

এমনি ভাবে প্রতিদিন নানা কাজে আমরা একটু ত্যাগ স্বীকার করলে হয়তো আমার তেমন কোন ক্ষতি হবে না কিন্তু কিছু মানুষের উপকার হবে অনেক বেশী। একজন মনীষি বলেছেন, ‘‘চল আমর মোমবাতির মত বাঁচি নিজেকে বিলিয়ে অপরকে আলো দিয়ে’’।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জানুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ১২:২৩
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীবর্গের দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত নয় কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৪

"হে কাবা! তুমি কতই না উত্তম, তোমার সুঘ্রাণ কতই না চমৎকার! তোমার মর্যাদা কতই না মহান! তবে সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের জান,... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্পর্শে_ _ _ _ _

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০

-কি পাও আমার মাঝে ?
-দুটি চোখ।
যেখানে আমার সর্বসুখ নিহিত,
ছমছমে সন্ধ্যা, ভয় জাগানিয়া অন্ধকার রাত,
এসব বৃথা হয়ে যায়,
তোমার একটি ছোঁয়ায়।
তোমার চোখের একটি পলক, আমার হাজার বছর,
আর কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মরীচকাি ও নক্ষত্র

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:১০


মেয়েটি অত্যন্ত শান্ত ভঙ্গিতে টিস্যু পেপার দিয়ে ঠোঁটের কোণ মুছে নিল। তারপর সরাসরি আমার চোখের দিকে তাকিয়ে অবলীলায় বলল, "নীল, আমি প্রেগন্যান্ট!"
আমি তখন চায়ের কাপে সবেমাত্র একটা অসতর্ক চুমুক দিয়েছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেসুরো গলায় গান গাওয়ার অপরাধে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৯


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পপুলিস্ট দিক ও ন্যায়বিচারের দিক উভয়ই খেয়াল রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নীল গ্রহের শেষ প্রেম // কেয়া এবং আমি।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৪ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯



আমি ভেসে আছি মহাশূন্যে।
আমার শরীরে রূপালী স্পেসস্যুট।
চারপাশে অসীম অন্ধকার।
আর আমার সামনে দূরে জ্বলছে এক নীলাভ-সবুজ গ্রহ—
Earth-666।
এই গ্রহেই আমার জন্ম।
এই গ্রহেই আমি প্রথম প্রেমে পড়েছিলাম।
আর এই গ্রহই আমার কাছ থেকে সবকিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×