somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

লকডাউন শিথিল করে দিন, কাজ করে বাচঁতে দিন

২১ শে এপ্রিল, ২০২০ বিকাল ৪:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :





বাঙ্গালী হলো সংগ্রামী জাতি। আমরা লড়াই করেই বেচেঁ আছি। আশা করি করোনার সাথে লড়াই করেও বাচঁতে পারব ইনশাআল্লাহ। কেননা আমরা ভেজাল খাবার খাই, ভেজাল ঔষধ খাই, ভেজাল চিকিৎসা পাই, ভেজাল শিক্ষা পাই, নেতাদের কাছ থেকে ভেজাল কথা শুনতে পাই। সবই হজম করে আমরা বেচেঁ আছি। একটা সময় দেশে যক্ষা হলে রক্ষা নাই, কান্সারের কোন এনছার নাই এবং ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ায় আমরা নাজেহাল ছিলাম। এই সব রোগ এখন আমাদের কাছে খুবই স্বাভাবিক। আমার বিশ্বাস করোনার ভাইরাসও একসময় আমাদের বডিতে স্বাভাবিক হবে এবং এন্টিবডি তৈরি হবে। তাই এ বিষয়ে খুব বেশী ভীতি সৃষ্টি না করাটাই বেশি যুক্তিযুক্ত বলে মনে হয়। আমাদের দেশ তো আমেরিকা কিংবা ইতালি নয় যে অসুস্থ হলে ১০ মিনিটের মধ্যে আমার বাসায় এ্যাম্বুলেন্স চলে আসবে। আসবেই বা কিভাবে ইচ্ছা থাকলে ওপারবে না কারণ আমি কোথায় থাকি , কি করি, কিছুই সরকার জানে না। যেহেতু ভোটার লিস্টে নাম ছাড়া আর কোন তথ্য সরকারের কাছে নেই অতএব আমাদের বাসায় বাসায় প্রনোদনার টাকা, চাল সহ ত্রাণের জিনিস পেীছে যাবে তা বলা বোকামী ছাড়া আর কিছুই নয়। আর যাদের মাধ্যমে পেীছাবে সেই জনপ্রতিনিধিগণ তো নিজেরাই ???? কি বলে সম্বোধন করব বুঝতে পারছি না । যারা ত্রাণ বিতরণের ছবি তোলা শেষে ত্রাণ কেড়ে নেয়, যারা নিজ ঘরে ত্রাণ মাটিচাপা দেয়, যারা ত্রাণের তেল খাটের নিচে লুকিয়ে রাখে এই সব চরিত্রের লোক দিয়ে কখনো এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব হবে না। স্বাস্থ্যমন্ত্রি বললেন করোনার ৮০% রোগী এমনিতেই ভালো হয়ে যায় যদি তাই হয় তবে ২০% লোকের জন্য ৮০% লোককে বেকার ঘরে বসিয়ে রেখে দেশের শিল্পকারখানা বন্ধ রেখে অর্থনেতিক ভাবে ধ্বংস না হয়ে সকল কিছু খুলে দেওয়াই যুক্তিযুক্ত বলে আমি মনে করি। কারণ রাস্তার পাশে বট গাছের নিচে একটি বক্স নিয়ে সাইকেল মেরামত করতে দেখে পুলিশ বলল দোকান খুলেছিস কেন? লোকটি বলল স্যার কাজ না করলে বউ বাচ্চা নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে, কবে করোনা আসবে আমাকে হাসপাতালে নিবেন তারপর মরতে হবে কিন্তু স্যার তার আগে তো কাজ না করলে কালকেই না খেয়ে মরতে হবে । পুলিশ কোন উত্তর না দিয়ে চলে গেল। আমরা কাজ করে খাই,নিজে বাচিঁ আর দেশকে এগিয়ে নিতে চাই। এভাবে এক/দুই মাস চলতে থাকলে মানুষ এমনিতেই ঘরে খাদ্য ও চিকিৎসার অভাবে পুষ্টিহীনতায় ধুকে ধুকে মারা যাবে। সরকার এই অবস্থা রোধ করার জন্য প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষনা করায় আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রি জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু আমার মনে প্রশ্ন এই প্রনোদনার টাকা আসবে কোথা থেকে? ব্যাংক থেকে , ব্যাংক টাকা পাবে কোথায় জনগণের কাছ থেকে, জনগণ টাকা পাবে কোথায় মালিকদের কাছ থেকে, মালিক আয় করবে কি করে, প্রতিষ্ঠান সচল রেখে। কিন্তু প্রতিষ্ঠান তো বন্ধ। তবে ? শিল্প প্রতিষ্ঠান না চললে সরকারের রাজস্ব আয় হবে কিভাবে? রাজস্ব আয় না হলে মুখ থুবড়ে পড়বে অর্থনীতি। ভাবছেন বিশ্ব ব্যাংক দিবে , না বিশ্ব ব্যাংক আজ ঋন দিতে অক্ষম কারণ সারা বিশ্বই আজ অচল। তাহলে সরকার প্রণোদনার এই টাকা পাবে কোথায় আর কতদিনই বা দিতে সক্ষম হবে। তাই সরকারকে এবিষয়ে চিন্তা ভাবনা করে দ্রুত সিন্ধান্ত নেওয়ার জন্য সবিনয় অনুরোধ করছি। আমি মনে করি ১৬ কোটি মানুষের ৩২কোটি হাত চললে এদেশ ও দেশের মানুষ বাচঁবে , না হলে সরকারকে এক কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে যা আমরা কল্পনাও করিনি কোন দিন। একটি আহবান রেখে আমি শেষ করতে চাই-
এসো রাখি হাতে হাত
দিধা ভয় দুরে যাক
করব মোরা সবাই কাজ
করোনা সব নিপাত যাক
ভরসা রাখি আল্লাহতে
মরলে ভয় কি তাতে।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে এপ্রিল, ২০২০ বিকাল ৪:২৬
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পেটে লাথি মারলে, স্লোগান তো উঠবেই !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৬


ভয়ের কিছু নেই। এখনো পরিস্থিতি খারাপ হয়নি । তবে সাধু সাবধান। দেশ জুড়ে স্লোগান দেওয়া শুরু হলে সবকিছু ভেঙে পড়তে খুব বেশি সময় লাগবে না।সরকার এখন ঢাকা সহ দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলামের জ্ঞানদীপ : যুক্তির আরব্য-ফারসী নবযাত্রা প্রজ্ঞার জয়ধ্বনি বিজ্ঞান ও যুক্তির মহাকাব্য -৩য় পর্ব

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:১৭

জাতীয় জন্মসনদে ভুলের ভূত আর সাভারের জালিয়াতি চক্র: সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কি কোনোদিন থামবে না?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:০০



আজ ৬ অক্টোবর, জাতীয় জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ঠিক করা হয়েছে—‘নির্ভুল নিবন্ধন, নিশ্চিত হবে সুশাসন’। অথচ বাস্তবতা যেন এই স্লোগানের একদম উল্টো! সরকারি নথিতে যখন সাধারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগ, উদ্বাস্তু এবং রোহিঙ্গা

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪২



দেশভাগের অনেক পরে আমার জন্ম।
আমি দেশভাগের ইতিহাস জানি। দেশভাগের পরে যা হয়েছে, অতি মন্দ সব ঘটনা ঘটেছে। লাখ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং হাজার হাজার নারী নির্যাতনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

এদেশে এখন শেখ হাসিনা প্রয়োজন- নাকি আমরা তাঁর সময়ের কিছু বাস্তবতাকে নতুন করে অনুভব করছি?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৭


এদেশে এখন শেখ হাসিনা প্রয়োজন- নাকি আমরা তাঁর সময়ের কিছু বাস্তবতাকে নতুন করে অনুভব করছি?

একটা সময় ছিল- শেখ হাসিনার নাম উচ্চারণ করলেই কারও চোখে ক্ষোভ, কারও মনে শ্রদ্ধা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×