somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বড় বেদনার মত বাজে !

১২ ই অক্টোবর, ২০১৫ সকাল ১০:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



এখন রাতের ঘুমানোর আগের সময়টুকু আমার জীবনের সবচেয়ে মধুর সময় ! এ সময় আমার ছোট্ট বাবাই সোনা আমার গলা জড়িয়ে কোল ঘেঁষে শুয়ে রাজ্যের গল্প টুক টুক করে করতে থাকে তারপর কখনও ও আগে বা আমি ঘুমিয়ে পড়ি ।বেশির ভাগ গল্পই প্রশ্নোত্তর টাইপ । আজকের বিষয় - মা তুমি বুড়ো হলে তোমাকে কে দেখে রাখবে ? আমি বললাম , বাবা তুমি বল - উত্তর এল আমি তোমাকে দেখে রাখব মা ( হয়ত কখনও বলেছিলাম সেটাই সে মনে রেখেছে !) ।তারপরের প্রশ্ন - বাবা বুড়ো হলে ? আমি বললাম , তোমাকেই দেখে রাখতে হবে সোনা । আমাকে সবাইকে দেখে রাখতে হবে! জী বাবা তোমাকেই সবাইকে দেখে রাখতে হবে । কিছুক্ষণ পর - মা , আমি বুড়ো হলে কে দেখে রাখবে ?( বেশ একটা দুঃখ দুঃখ ভাব নিয়ে ) আমার বুকের কাছে কেমন একটা দলা পাকিয়ে ওঠে , কিছুক্ষণ সময় নিয়ে উত্তর দিলাম -তোমার ছেলেমেয়েরা দেখে রাখবে বাবা ! (বলতে পারলে খুব ভাল লাগত , আমি তোমাকে দেখে রাখব বাবা । ) তারপর পর্ব দীর্ঘায়িত হতে থাকে ......

স্নেহ নাকি নিম্নগামী ! তা যে কতটা সত্যি , আমার ছেলেকে দেখে বুঝতে পারি ।না হলে ‘আমাকে কে দেখে রাখবে মা ’কথাটি শুনে কেন বুকের মধ্যে এত হাহাকার জন্মাবে ? আমার বাবার বয়স সত্তরের কাছাকাছি , মা পঁয়ষট্রিই‍ হবে। এ বয়সেও তারা সংসারের সমস্ত দায়িত্ব পালন করে চলেছে । নিজের চাকরি , সাংসারিক দায়িত্ব এসব পালন করে পারছিনা তাদের প্রাপ্য সময়টুকু দিতে । তারাও নিজেদের সংসার ছেড়ে এসে থাকতে পারছেন না আমার কাছে । ভাবি , দু’বোন তো আছে তাদের পাশে তারা নিশ্চয়ই ঠিকঠাক দেখে রাখবে ।

আজকাল একটি বিষয় বেশ ভাবায় , এইযে আমার মত শিক্ষিত নারী (?) যারা পড়াশুনা করে চাকরি করছে , নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছে , নারী অধিকার / নারী স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলছে - আমরা আসলে কতটুকু সফল হয়েছি ? আমি আমার জীবন এবং চারপাশ থেকে যা দেখেছি তা হচ্ছে , আমার জন্মের পর থেকে বিয়ের আগ পর্যন্ত আমার মা যেমন আমার সব দায়িত্ব পালন করতেন , বিয়ের পরও সন্তান জন্মাবার পর যেহেতু আমি চাকরি করি আমার বাচ্চাদের , সংসার আগলে রাখার দায়ও যেন তারই ।এমনি ভাবেই হ্য় মা , নয় শাশুড়ি মা অথবা বাসার সাহায্যকারী মানুষটির বিনিময়ে আমি আমার চাকরির সুযোগটুকু পাচ্ছি অথবা বলা যায় আরেকটা নারীর অধিকার লঙ্ঘন করে !

এদেশে এখনও আমরা নারীদের কাজ করার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারিনি । সরকারিভাবে মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাস হলেও বেসরকারি অনেক ক্ষেত্রেই এখনও ০৩ মাস অথবা নেই , অনেককে চাকরিও ছেড়ে দিতে হয় । সরকারি / বেসরকারি ভাবে ডে কেয়ার সহায়তাও তেমন নেই , নেই পার্ট টাইম কাজের সুযোগ অথবা পিতৃত্বকালীন ছুটি ! যাতে বাবা - মা সমানভাবে শিশু সন্তানটির যত্ন নিতে পারে । তাই স্বামী -স্ত্রী দুজনই যখন চাকুরীজীবী হন তখন বাচ্চার দেখা - শোনার ভার দাদা-দাদি , নানা -নানি অথবা বাসার সাহায্যকারী মানুষটির উপরই বর্তায় - তারপরও অনিশ্চয়তা থেকেই যায় । যেখানে দাদা-দাদি বা নানা - নানির তাদের নাতি- নাতনির সঙ্গে সুন্দর সময় কাটানোর কথা সেখানে তা তাদের উপর অর্পিত হচ্ছে দায়িত্ব হিসেবে !

জীবনের শেষ সময়টুকু সবাই চায় সুন্দরভাবে পার করতে এবং তাই হওয়া উচিত । বাবা - মার জন্য কতটুকু করতে পেরেছি / পারব জানিনা , নিজের জন্য যা ভাবি তা হচ্ছে ,যা দিনকাল পড়েছে , আজ থেকে ৩০/৩৫ বছর পর কি হবে কে জানে ? শেষ আশ্রয় হয়তো বৃদ্ধাশ্রমই হবে ! কিন্তু সাড়ে তিন বছর বয়সী বাচ্চার মুখে যখন শুনি , আমি বুড়ো হলে কে দেখে রাখবে মা ? - তখন বুকের মধ্যে কেমন তোলপাড় হয় । আহারে আমার বুড়ো খোকাটাকে যদি এভাবেই বুকে আগলে পারতাম । জীবন এত ছোট কেনে !
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই অক্টোবর, ২০১৫ সকাল ১০:৫৬
২১টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ক্যায়া হুয়া ? হুক্কা হুয়া; হুক্কা হুক্কা হুক্কা হুয়া

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২৫


২৪ বছর ধরে ঢাবিতে অনার্স পড়ছে; তা-ও নাকি ভাষা শিক্ষা বিভাগে উর্দূ নিয়ে !!! আজতক তার পড়া শেষ হয় নাই !!! এ ভার্সিটিতে নাম লিখালে পন্ডিত মশাই'রা কি কোনও... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুঃখ খচিত পতাকা আমার

লিখেছেন এম ডি মুসা, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র প্রাঙ্গণে
আজ হঠাৎ কার ছায়া নামে?
কার দুঃসাহসী কালো হাত
ইতিহাসের বুকের ওপর আঁকে পরাধীনতার নাম?

যে নাম একদিন ভাষার কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চেয়েছিল,
যে শাসন একাত্তরে ছড়িয়েছিল মৃত্যুর অন্ধকার
আজ কেন তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ হতো হায়দ্রাবাদ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫

।।হায়দারাবাদের নিজাম।।


১৯৪৭ সাল ভারতবর্ষের মুসলমানরা যখন নির্যাতনের শিকার অনেকগুলো গণহত্যা হয়েছিল দাঙ্গা হয়েছিল। ১৯৪৬ সালে বা তারও আগে এই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রাজনীতি শুরু করেছিল কংগ্রেসের রাজনীতি দিয়ে তিনি কংগ্রেসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বৃষ্টির ডায়েরি: অধ্যায় শূন্য

লিখেছেন চারাগাছ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৬




বৃষ্টির ডায়েরি: অধ্যায় শূন্য


​আজকের বৃষ্টিটার কোনো ছন্দ নেই। কোনো ব্যাকরণ নেই। স্রেফ আকাশ ভাঙা জল, যা এই শহরের বুকে সশব্দে আছড়ে পড়ছে। মানুষজন তাড়াহুড়ো করে ছাতা মেলছে, আশ্রয়ের খোঁজে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগীটি মারা গেলো

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩



বাংলাদেশে ডাক্তারদের অবহেলায় কি পরিমাণ প্রাণ অকালে ঝরে গিয়েছে তা কল্পনাতীত। এবং আমাদের দেশের ডাক্তার এই অপরাধে নূন্যতম অনুশোচনা বোধ করে না।

ডাক্তারদের অবহেলার কারণে দেশের পাঠ্য বই ইংরেজি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×