somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

স্বঘোষিত মিসির আলী
মিসির আলি একজন মানুষ, যাঁর কাছে প্রকৃতির নিয়ম-শৃঙ্খলা বড় কথা, রহস্যময়তার অস্পষ্ট জগৎ যিনি স্বীকার করেন না।

রিতা-মিতা ২০০৫ এবার সেই রিতা-মিতা ২০১৩

২৬ শে জুন, ২০১৩ দুপুর ১:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাজধানীর মিরপুরের মানসিক বিকারগ্রস্ত চিকিত্সক-প্রকৌশলী সেই দুই বোন সাহারা হেলেন ফেরদৌস সুজানা ওরফে মিতা এবং সাহারা জয়ী ফেরদৌস ওরফে রিতাকে আবার উদ্ধার করা হয়েছে। গত রোববার বগুড়ার একটি আবাসিক হোটেল থেকে তাঁদের উদ্ধার করা হয়। প্রায় চার মাস ধরে তাঁরা ওই হোটেলে ছিলেন।
গত ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে দুই বোন পরিচয় গোপন করে বগুড়া শহরের সদর থানাসংলগ্ন আকবরিয়া আবাসিক হোটেলের একটি কক্ষে ছিলেন।
আগের ঘটনা
এর আগে ২০০৫ সালের ৭ জুলাই মিরপুর ৬ নম্বর সেকশনের সি-ব্লকের ৯ নম্বর রোডের একটি বাড়ি আমার পিছনের বাসা থেকে তাঁদের উদ্ধার করা হয়েছিল। সেখানে তাঁরা দীর্ঘ নয় বছর রহস্যময় জীবনযাপন করে আসছিলেন। তাঁদের বিশ্বাস ছিল, সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে তাঁদের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। সব নাগরিক সুবিধাহীন বাড়িটি এতটাই ভগ্ন আর মনুষ্য বসবাসের অনুপযোগী ছিল যে এলাকাবাসী এটিকে ভূতের বাড়ি বলত। তবে শুরু থেকেই মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বলে আসছিলেন, দুই বোন জটিল মানসিক রোগে আক্রান্ত।
মিতা-রিতার উদ্ধার-কাহিনি
হোটেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসান আলী জানান, এ বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টার দিকে পুলিশের একজন সদস্য ওই দুই বোনকে হোটেলে পৌঁছে দেন। হোটেলের নিবন্ধন খাতায় (রেজিস্টার) তাঁরা নিজেদের নাম আইনুন্নাহার (৪৯) ও নুরুন্নাহার (৪৫) এবং বাবা মৃত শরফুদ্দিন খান উল্লেখ করেছেন। ঠিকানা মণ্ডলগ্রাম, নাসিরনগর, বি-বাড়িয়া। হোটেলের তিনতলার ২১ নম্বর কক্ষে থাকতেন তাঁরা। এ পর্যন্ত তাঁরা ভাড়া বাবদ প্রায় ৭০ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন।
হোটেলের ম্যনেজার লিটুনুর রহমান বলেন, তাঁরা প্রায় সারা দিন হোটেলকক্ষে অবস্থান করতেন। কারও সঙ্গে কথা বলতেন না। কারও সাহায্যও নিতেন না। মাঝেমধ্যে একজন বাইরে এসে খাবার নিয়ে যেতেন। কিন্তু এক সপ্তাহ ধরে হোটেলের ভাড়া পরিশোধ না করায় তাঁদের খোঁজ করা হয়। এ সময় তাঁরা অসংলগ্ন ও আধ্যাত্মিক কথাবার্তা বলেন। কয়েক দিন ধরে দরজা বন্ধ করে দিলে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
বগুড়া সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন বলেন, আজ সকালে হোটেলে গিয়ে ওই দুই নারীকে অনেক ডাকাডাকি করলেও কক্ষ খোলেননি। পরে বিষয়টি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির নেতাদের জানানো হয়।
মহিলা আইনজীবী সমিতির জ্যেষ্ঠ সদস্য শাহাজাদী লায়লা ওই দুই নারীর সঙ্গে কথা বলেন। তাঁরা যে রাজধানীর মিরপুরের সেই দুই বোন রীতা ও মিতা, সেটা নিশ্চিত হন। শাহাজাদী লায়লা বলেন, অনেক ডাকাডাকির পরও তাঁরা হোটেলকক্ষের দরজা খোলেননি। তাঁদের অনুরোধ করে বলা হয়, ‘আপনারা কিছু খান।’ তাঁরা বলেন, ‘হোটেলের সব শয়তান, সব দোজখে যাবে, বাংলাদেশ শয়তানে ভরে গেছে, সব দোজখে যাবে। আল্লাহর হুকুম ছাড়া দরজা খোলা যাবে না।’
প্রায় পাঁচ মিনিট পরে দরজা খুঁলে মিতা বলেন, ‘ম্যাডাম, ওনার হুকুম হয়েছে, আপনার সঙ্গে যাওয়ার, চলুন, আমরা যাব। একটু দাঁড়ান ও (বড় বোন) ছাত্রী পড়াচ্ছে, পড়ানো শেষ হলেই যাব।’
আইনজীবী সমিতির ওই নেত্রীর সহযোগিতায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দুই বোনকে হোটেল থেকে শহরতলির বারপুর সামাজিক প্রতিবন্ধী পুনর্বাসনকেন্দ্রে নেওয়া হয়। কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আবদুল মানিক বলেন, ‘দুই বোন অত্যন্ত ক্লান্ত ও অসুস্থ ছিলেন। এ জন্য তাঁদের বিশ্রামে রাখা হয়েছে। তবে দুপুরের দিকে সামান্য খাবার খেয়েছেন তাঁরা।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে জুন, ২০১৩ দুপুর ১:৪৪
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×