পহেলা বৈশাখ বাঙ্গালীর স্বকীয়তা এবং ঐতিহ্যের ধারক । প্রতি বাংলা নববর্ষের শুরুর দিনটি আসে অন্যরকম এক আনন্দ নিয়ে, আসে সব বাঙ্গালীর হৃদয়কে একই সুতোয় গেঁথে দিতে । এই দিনটিতে আমরা প্রিয়জনকে সাথে নিয়ে ঘুরতে বের হই, পান্তা-ইলিশ খাই, নাগরদোলায় চড়ি, পুতুলনাচ দেখি । রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ উৎসবে কিংবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মঙ্গল শোভাযাত্রায়, চারুকলার বকুলতলায় যাত্রাপালা আর ভাটিয়ালি গানের দোলায় দোলে আমাদের মন । সারাবছরের ব্যস্ততায় খুব কমই সময় পাওয়া যায় নিজের সংস্কৃতিকে ধারণ করার । পহেলা বৈশাখ যেন সেই সুযোগটাই করে দেয় আমাদেরকে, একদিনের জন্য হলেও আমরা খাঁটি বাঙালি হবার চেষ্টা করি!
পহেলা বৈশাখের কথা মনে হলেই আমার ইচ্ছে হয় চিরায়ত বাংলার শ্যামল রূপে হারিয়ে যাই । ইচ্ছে হয় চলে যাই সুদূর কোন গ্রামে, যেখানে এখনও যাত্রাপালার স্থলে জায়গা করে নেয়নি টেলিভিশন, যেখানে আজও পাল্কিতে চড়ে বরের বাড়িতে যায় নববধূ! আমার না, সেইরকম এক গ্রামে যেতে ইচ্ছে করছে আজ । ইচ্ছে করছে, সেই গ্রামের বিস্তৃত তরমুজ ক্ষেতে এই দুপুরের প্রখর রোদের মাঝে কোন এক বটের ছায়ায় বসে ইচ্ছেমত তরমুজ খাই! ইচ্ছে করছে একটি কাঁচামরিচ আর এক টুকরো কাঁচা পিয়াজ কামড়ে কামড়ে পান্তাভাত খাই! আর, রাতে হাটের মঞ্চে যাত্রাপালা দেখি! তারপর ফিরে এসে চৈত্র সংক্রান্তির পিঠা-পায়েস খেয়ে প্রিয়জনের সাথে সুখের গল্প করতে করতে শান্তির ঘুম ঘুমাই!
আমার যে এতসব ইচ্ছে করে, তার কোনটাই পূরণ হয়না । এমনকি মফস্বলে আমার প্রিয় শহর ফরিদপুরেও যাওয়া হয়না । ব্যস্ততা আমায় দেয়না অবসর, তাই ঢাকা শহরেই কাটছে এবারের পহেলা বৈশাখটাও । তবে আমি ভাগ্যবান যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে থাকার সৌভাগ্য আমার হয়েছে । আমি ভাগ্যবান যে, আমি বাঙালি হয়ে জন্মেছি । আমি বাংলার সংস্কৃতিকে ভালোবাসি, ভালোবাসি বাংলার উৎসবকে । পহেলা বৈশাখ জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকল বাঙ্গালীর প্রাণের উৎসব হিসেবে পালিত হবে চিরকাল । কোন সাম্প্রদায়িক অপশক্তি শাস্ত্রের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে এই উদযাপন থামাতে পারবে না ।
প্রিয় বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষী প্রিয়জন, আপনাদের সবাইকে জানাই বাংলা নববর্ষের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন । শুভ নববর্ষ ১৪২১!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



