গ্রামীণফোন নাকি ৪জিবি ফ্রি ইন্টারনেট দিচ্ছে শুধুমাত্র ফেসবুক ব্যবহারের জন্য! শুনে আমার জ্ঞান হারানোর উপক্রম। কোন মতে নিজেকে সামলে নিয়ে *500*88# ডায়াল করে দুই-তিনবারের চেষ্টায় ৪জিবি পেলাম। এরপর এক ছোট ভাই জানালো, চাইলে নাকি যতবার খুশি ততবার নেয়া যায়! কেউ কেউ নাকি ১০০জিবি পর্যন্ত নিয়েছে?! বাউরে, আমিও নিলাম ১২জিবি। এরপর আর নেয়া গেলো না, আমাকে জানানো হলো, আমি নাকি এই অফারের যোগ্য নই! একজন "গোল্ড স্টার" গ্রাহক হয়েও আমি যোগ্য নই! সেটা কথা না। কথা হল, এক মাসে এই ১২জিবি ফুরাবো কিভাবে? এরপর অপেরা দিয়ে ফেসবুকে ঢুকে দেখি ফ্রি অ্যাকাউন্ট থেকে ভলিউম না কেটে কাটছে আসল অ্যাকাউন্ট থেকে! মানে কি? আজ ফার্মগেট কেয়ারে গিয়ে জানলাম, এই ফ্রি ফেসবুক নাকি শুধু ফেসবুকের অ্যাপ থেকেই ব্যবহার করা যাবে!
বাঙ্গালি নাকি সস্তা/ফ্রি পেলে আলকাতরাও খায়! আমিও তো বাঙ্গালি! পহেলা বৈশাখের আগের দিন প্রথম আলোতে বড় করে বিজ্ঞাপন ছাপা হলো, স্টারদের জন্য ৯৯৯টাকা রিচার্জে একটা ৩জি মডেম ফ্রি! আমি দু-তিনবার চোখ কচলে তাকালাম। ঠিক দেখছি তো? কাজের ফাঁকে সকাল ১১টার দিকে ফার্মগেট জিপি কেয়ারে গিয়ে মডেম চাইলাম। আমাকে জানানো হলো, মডেম নাকি শুরুর দিকে ঘন্টাখানেকের মাঝেই সব শেষ হয়ে গেছে! আমি অবাক হয়ে জানতে চাইলাম, মাত্র এই কয়টা মডেমের জন্য এত ঢাকঢোল পিটিয়ে এত বড় বিজ্ঞাপন দিয়ে ফ্রি দেয়া দেখানোর মানে কি? প্রতিনিধি অনেক পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে কূটনৈতিকদের মতো কথা বলতে শুরু করলেন। থামিয়ে, জানতে চাইলাম, কবে পাব? তিনি আমার নাম্বার রেখে দিয়ে, বললেন মডেম আসলে আমাকে জানানো হবে। এরপর ৫দিন গেলো, ফোন বা মেসেজ এলো না। হটলাইনে ফোন দিয়ে জানতে চাইলে জানালো, এটা নাকি তাদের দেখার বিষয় নয়, তবু নাম্বার যেহেতু রেখেছে অপেক্ষা করেন! খুব ভালো কথা। ৬দিন পর আবার গেলাম। আপুটা দেখতে সুইট, বয়স ৩০ এর উপরে হবে। রাতে ঘুমান না বলেই হয়তো চোখের নিচে অনেক মোটা কালির দাগ। তিনি হয়তো ভেবেছিলেন আমি আর আসব না। কিন্তু আমি যে নাছোড়বান্দা! একবার কোনকিছুর পিছে লাগলে শেষ না দেখে ছাড়ি না। আপু জানালেন, এতদিনেও নাকি একটা মডেম আসেনি! আমি জানতে চাইলাম, তাহলে স্টার স্ট্যাটাস এবং নববর্ষের উপহার -এসবই কি ফাজলামো? আপু বললেন, আপনি কাল/পরশু আসলে আমি একটা রাখার ট্রাই করতে পারি, আর আপনি একটা কমপ্লেইন দিতে পারেন চাইলে। আমি বললাম, দুইদিন পর এসে না পেলে অবশ্যই দেবো।
এরপর আজ গিয়ে দেখি সেই আপু নেই! ছুটিতে আছেন। অন্য একজন এর সাথে কথা হলো। তার কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে মডেম নেই বলে জানালেও পরে আপুকে ফোন দিয়ে একটা মডেম বের করলেন। তবে আমাকে বাড়তি শর্ত দেয়া হলো- "যেহেতু আপনাকে ফ্রি মডেম ও ইন্টারনেট সিম দেয়া হচ্ছে, তাই আপনাকে একটা ইন্টারনেট প্যাকেজ নিতে হবে কমপক্ষে ৪০০টাকার"। আমি প্রতিবাদ করলাম, বললাম, "এমন তো কোন শর্তের কথা আপনাদের বিজ্ঞাপনে লেখা ছিল না! ফ্রি দেবেন বলে ডেকে এনে, তিনদিন ঘুরিয়ে এখন আবার কী শুরু করলেন?" এবার তিনি নরম স্বরে বললেন, "আচ্ছা স্যার, এটা আমাদের অনুরোধ যে..." আমি ব্রাঞ্চ ম্যানেজারের রুমে ঢুকলাম। তিনি বললেন, "ভাই, এই সিম নিয়ে সবাই ফেলে রাখে, কেউ টাকা ভরে না। তাই...আপনি ছোটমোট একটা প্যাকেজ চালু করলেই হবে। আমার কথা বলবেন।" আমি এবার সিম ও মডেমের জন্য সব কাগজপত্র পূরণ করে জমা দিলাম। আর ১১৭টাকার ২৫০এমবি প্যাকটা নিলাম। আর ৯৯৯টাকা স্টার সিমে তো রিচার্জ করলামই! এখন বিল যে পে করব, আমার কার্ড নাকি তাদের মেশিন রিড করতে পারেনা। অগত্যা পাশের বুথে গিয়ে টাকা এনে তবেই দিতে হলো। শেষে যা বুঝলাম, তাহলো, ফ্রি মানেই ফ্রি নয়। আসলে সবই ব্যবসা, সম্পর্কের কথা উপহার -সবই ভন্ডামি। আমাদের আর উপায়ও তো নেই। এদের চেয়ে ভালো নেটওয়ার্ক সার্ভিসও আর কারো থেকে পাইনা। যদিও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে বারবার কল ড্রপসহ নানা সমস্যার কথা বারবার জানিয়েও ফল হয়নি। তবুও, তাই এতকিছুর পরেও ১০ বছরের বেশি সময় ধরে গ্রামিণফোনের সাথেই আছি! ধন্যবাদ গ্রামীণফোন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


