ম্যাডাম বেশ হ্যাডম নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে তাঁর সংশয়ের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এই নিয়ে "বিতর্ক" আছে। একজন 'স্বশিক্ষিত' মহিলাকে, তাও আবার একাধিকবার নির্বাচিত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে কে কীভাবে বোঝাবে যে, একাত্তরে দেশটায় এমন একটা যুদ্ধ চলছিলো, যেটা ছিল অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই, যেটা ছিলো মায়ের ইজ্জত বাঁচানোর, আপনজনের রক্তের বদলা নেবার সংগ্রাম। এই যুদ্ধে কতজন মারা গেলো, আর কতজনের সম্ভ্রমহানি হলো, সেটা গুনে রাখা সম্ভব ছিলো না। সবাই তখন নিজের জীবন বাজি রেখে লড়াইয়ে ব্যস্ত ছিলো। আলাদা করে কোন গণক রাখা সম্ভব হয়নি, সম্ভব নয়।
হ্যাঁ, তবে এটা ঠিক, পেয়ারে পাকিস্তানিদের "পেয়ার" যারা অপরিসীম 'সুখ'-এর সাথে "উপভোগ" করেছিলেন, তাঁরা সেইসব দিনের সুখস্মৃতি ভুলবেন না- এটাই স্বাভাবিক। তাঁরা হয়তো নিজেদের গোপন ডায়েরিতে সেই "সুখভোগের" দিনগুলোর কথা রোমান্সের শব্দের গাঁথুনিতে লিখেও রাখবেন, সাথে আরও কতজন সাথী সেখানে ছিলেন, সেটাও গুনে রাখতে পারেন। এ নিয়ে কোন বিতর্কের সুযোগ নেই।
"বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উল্লেখ না করে খালেদা জিয়া দাবি করেন, তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি। তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা না দিলে মুক্তিযুদ্ধ হতো না।" (প্রথম আলো)
তাঁকে কে বোঝাবে, এটাও এক ধরণের রণকৌশল। আপোষে সবকিছু আদায় হলে রক্তারক্তিতে কে যায়? আপোষে যদি বঙ্গবন্ধুকে আসন ছেড়ে দেয়া হতো, তিনি যথেষ্ট প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিমান নেতা, অবশ্যই তিনি একদিন না একদিন কৌশলে বাংলাকে স্বাধীন করতেনই। আপোষে কাজ হলো না বলেই তো মুক্তিযুদ্ধে লিপ্ত হতে হলো, নেতাকে দীর্ঘ কারাভোগ করতে হলো, তাজউদ্দিনের মতো সহযোদ্ধাদের দৃঢ়চেতা নেতৃত্বে, মিত্রদের সহায়তায় লাখো প্রাণের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জিত হলো। আর যেখানে মুক্তিযোদ্ধা মেজর জিয়া নিজ কন্ঠে বলে গিয়েছেন, 'on behalf of Sheikh Mujibur Rahman", সেখানে মুজিবকে ডিঙ্গিয়ে জিয়াকে ক্রেডিট দেয়ার বৃথা চেষ্টা শুধুমাত্র রাজনীতির মাঠে টিকে থাকার চেষ্টা- এটা বাংলার সচেতন জনগণ এখন ভালোই বোঝে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


