আমিতো খবরটা পড়ে এবং ছবিটা দেখে নিজের চোখের জল ধরে রাখতে পারছি না। কী সুন্দর তরতাজা দুটি প্রাণ! চোখে কত সম্ভাবনা জ্বলজ্বল করছে! ওদেরকে ঘিরে ওদের বাবা-মায়ের কতো স্বপ্ন, কতো আশা! সব শেষ হয়ে গেলো! একই পরিবহনের দুটি বাসের যাত্রী ওঠানোর প্রতিযোগিতার বলি হলো ওরা।
.
কেউ বলছে দুজন, কেউ বলছে চারজন মারা গেছে। আসলে তো মরেছি আমরা সবাই। আমরা সবাই আমাদের বিবেকের কাছে মরে গেছি। তা না হলে এমন ফুটফুটে ছেলেমেয়েরা, যারা দেশের ভবিষ্যৎ, এভাবে রাস্তায় বিনা অপরাধে মারা যাবে আর আমরা চুপ করে বসে থাকতে পারতাম?
.
ওদের কোনো দোষ ছিলো না। ওরা দেশের রাজনীতি বোঝে না, নির্বাচন নিয়ে ওদের কোনো মাথা ব্যথা নেই, দুর্নীতিবাজ মিথ্যেবাদী পরের ভাত মেরে খাওয়া লোক ওরা নয়। ওরা শুধু পড়ালেখা করে, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়, খেলাধুলা করে, বাবা-মায়ের কথা মেনে চলার চেষ্টা করে। হয়তো আজও কলেজ শেষে বাংলাদেশের গতকালের জয় নিয়ে গল্প করছিলো ফুটপাতে দাঁড়িয়ে আর অপেক্ষায় ছিলো বাসের। ওরা কি জানতো, এইদেশে গরু-ছাগল চিনলেই বাস চালানো যায়? ওরা কি জানে ঘন্টায় কয়টা টিপ না মারলে ঐসব চালকদের চাকরি যাওয়ার ভয় আছে? ওরা কি জানতো যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতার বলি হবে আজ ওরাই এখানে এই রাস্তায়? ওরা কি জানতো আজ আর ঘরে ফেরা হবে না, আর কোনোদিন মিলবে না মায়ের আদর?
.
কয়েক মাস আগে কোলকাতায় দেখে এলাম, বাস খুব দ্রুত চলে, একদম টাইম টু টাইম। রাস্তায় বাতি জ্বলছে, সিগন্যাল দেখে থামছে আবার চলছে যানবাহন। সেখানেও কি দুর্ঘটনা হয় না? হয়। কিন্তু এতো সহজে কেউ মেরে পার পেয়ে যায় কি? সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সচেতনতা সৃষ্টিতে ওরা বানায় সিনেমা, চালায় প্রচারণা। ওদের কড়া আইন-কানুন আছে, গরিব লোকটাও বড় বাবুর কাছে অভিযোগ জানায় সাহস করে, মামলা ঠুকে দেয়। কারণ ওদের ভরসা আছে । আমরাও ভরসা রাখতে চাই। আমরাও দেখতে চাই সিগন্যাল বাতি অনুযায়ী আবার ঢাকার রাস্তায় গাড়ি চলবে। আমরা দেখতে চাই ঐ জাবলে-নূরের গাড়িচালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়েছে। আর কোনো মায়ের বুক যেন এভাবে খালি না হয়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


