somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভারতের পণ্য বয়কটের তামাশা বন্ধ করুন

০১ লা এপ্রিল, ২০২৪ রাত ৮:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একবার আমাদের মসজিদের ইমাম ভারতীয় পণ্য বর্জনের ঘোষণা দিলেন। শুক্রবারের খুতবায় অন্যদেরকেও এ কাজে উদ্বুদ্ধ করলেন। তিনি খাবার খেতেন আমাদের ঘরে। মাঝেমধ্যে দু'তলার একটি কক্ষে ঘুমাতেনও। আমার সাথে দেখা হতো কেবল খাওয়ার সময়।

একদিন খাবার টেবিল থেকে তিনি উঠে গেলেন। কারণ তিনি টের পেয়েছেন— তরকারিতে ইন্ডিয়ান পেঁয়াজ ব্যবহার করা হয়েছে। তার সামনেই নাকি আলুভর্তা মাখানো হচ্ছিলো ভারতীয় বড় পেঁয়াজ দিয়ে। অন্য বাড়ি থেকে তরকারি আনার পর তিনি খেলেন।

বিষয়টি আমার কানে এলো।

রাতের বেলা ইমাম সাহেবের কক্ষে গেলাম। বললাম— হুজুর, যে-জাজিমটিতে শুয়ে আছেন, সেটির তুলা ইন্ডিয়ান। যে-পাঞ্জাবী পরে আছেন, সেটির ইয়ার্ন ভারতীয় হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। যে-ভাত খেলেন, সেটি ইন্ডিয়ান মাহিন্দ্র ট্রাক্টর দিয়ে ফলানো। আমি কি এখন জাজিমটি ফেলে দেবো? আঙুল ঢুকিয়ে ভাতগুলো পেট থেকে বের করে আনবো? কোরাইশদের সাথে এতো বিরোধ থাকার পরও নবী কোরাইশদের পণ্য বয়কট করতে পারেন নি। আপনি খুতবায় যে-বইটি ব্যবহার করেন, খুতবাতুল আহকাম, সেটিরও মূল কিতাব ভারতের। কাবা শরিফের ইমাম ভারতীয় বাসমতি চাল খান। আরবের খেজুর বাগানগুলোর সিংহভাগ শ্রমিক ভারতের। আমার ঘরে কয়েক লাখ টাকার ইসলামি কিতাব আছে যা ভারত থেকে আনা, এগুলো কি পুড়িয়ে ফেলবো? আমার হাতে যে কোরানটি দেখতে পাচ্ছেন, আব্দুল্লাহ ইউসুফ আলির অনুবাদ, এটি দিল্লি থেকে আনা, ফেলে দেবো? আপনাকে ভারতীয় পণ্য বর্জনের বুদ্ধি কে দিয়েছে?

ইমাম সাহেব কিছুক্ষণ ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে রইলেন। তারপর বললেন— "আসলে অমুক দরবার শরীফের তমুক হুজুর আমাকে ইন্ডিয়ান জিনিস খেতে নিষেধ করেছেন। কিন্তু বিষয়টা যে এতো জটিল আমি বুঝি নি।"

দেশটা গোল্লায় যাওয়ার একটি বড় কারণ হলো— এখানে মানুষ নিজের আক্কেলের চেয়ে অন্যের আক্কেলে চলতে বেশি পছন্দ করে। অমুকে এটা করতে বলেছে, তাই আমাকেও এটি করতে হবে— এই হলো বাঙালি মুসলমানের আন্ধাগলির শেষ রাস্তা। নিজের মগজটা কিছুতেই খাটাতে চায় না। হুজুগ ও বাস্তবতার ভেতর কোনো পার্থক্য করতে জানে না।

লিখেছেন: Mohiuddin Mohammad
১২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নীল ড্রামের রহস্য

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


ঘরটি অন্ধকারাচ্ছন্ন। ক্ষণে ক্ষণে জানালার ওপাশ থেকে আসা দূরপথের সোডিয়াম বাতির একচিলতে আলো এসে পড়ছে ঘরের ভারী বাতাসের ওপর। ঘামের তীব্র গন্ধ আর উন্মুক্ত ত্বকের উত্তাপ ঘরের পরিবেশকে ভারী করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৮ বছর ১ সপ্তাহ পার !

লিখেছেন মেহবুবা, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৯


এমনি করে দিন চলে যায়। ১৮ বছর কখন পেরিয়ে গেল এখানে বুঝতে পারিনি। কত জনের কথা, কত ঘটনা মনে আসছে ! এমনি করে সূর্যাস্তের দিকে যেতে যেতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিজন দাদা, হারালে কোথায় ?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


নিত্য নতুন পোস্টের ভিড়ে
সেই চেনা মুখটি আজ আর দেখি না
কোথায় হারালে বিজন দাদা
ব্লগের উঠোনে তোমার সেই ছায়াটি আর মেলে না।

কোনো লেখা যখন সদ্য প্রসবের ব্যথায়
শব্দেরা যখন খুঁজত একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

সক্রেটিস ঈশ্বরের বাণী প্রচার করতেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৫



সক্রেটিস মানুষের সাথে কথা বলতে ভালোবাসতেন। তিনি যখনই সময়ে পেতেন, মানুষের সমাগম যেখানেই হতো, সেখানেই তিনি বক্তব্য দিতেন। সেই বক্তব্যগুলো ছিলো, সক্রেটিসের ভাষায়, 'দৈব বাণী' বাঁ 'ঈশ্বরের বাণী'। এজন্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১১

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লাল বদরঃ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া একটি নতুন ও রাজনৈতিক কটূক্তিবাচক শব্দ বা স্লোগান। কোটা সংস্কার আন্দোলন ও সরকার পতনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×