somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পাকিস্তান কেন ভারতের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলো?

১৬ ই ডিসেম্বর, ২০২৪ রাত ১০:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পাকিস্তানের সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল নিয়াজী বলেছিলেন, "মরলেও আত্মসমর্পণ করবো না"। সেই নির্লজ্জ বেহায়াটা ৩০ লক্ষ বাঙালির রক্তে স্নান করে অবশেষে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছিলেন, তা দেখে হেসেছিলো সারা দুনিয়া।

তিনি আত্মসমর্পণ করেছিলেন মিত্রবাহিনীর কাছে। মিত্রবাহিনীর প্রধান ছিলেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর জেনারেল অরোরা। যেহেতু আমাদের দেশটি তখনও স্বাধীন হয়নি, তাই জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী আমাদের সেনাপ্রধান জেনারেল এম,এ,জি ওসমানির কাছে পাকিস্তান আত্মসমর্পণ করেনি, করেছে মূলত ভারতের সেনাবাহিনীর কাছে। কেননা দুটি স্বাধীন দেশের মধ্যে এই কনভেনশন অনুযায়ী চুক্তি হতে পারে। পাকিস্তান আর ভারত তখন দুটি স্বাধীন দেশ ছিলো।

আজকের দিনটিকে ভারতও বিজয় দিবস হিসেবে পালন করে। বাংলাদেশের একটি দল ভারতে গেছে এই উৎসবে অংশ নিতে, দুটি দেশের সম্পর্কের এই চরম অবনতির মাঝেও। ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, এই দিনে পাকিস্তান ভারতের কাছে যুদ্ধে পরাজিত হয়েছিলো। কথাটি ভুল নয়। কারণ ৮+ মাস ধরে চলে আসা পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যকার যুদ্ধে ভারতও সরাসরি জড়িয়ে পড়েছিলো এবং জয়লাভ করেছিলো। আমাদের দৃষ্টিতে এটি আমাদের জয়, আবার তাদের দৃষ্টিতে এটা তাদেরও জয়। আমরা মিলিতভাবেই জয়লাভ করেছি। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সাথে সম্পর্কর অবনতি নাহলে আমার বিশ্বাস মোদিজি তাঁর উক্ত পোস্টে বাংলাদেশ-ভারতের মিলিত জয়ের কথাই লিখতেন। কিন্তু, বাংলাদেশের অনেকে ইদানিং বলা শুরু করেছে-- মুক্তিযুদ্ধ ছিলো ভারতীয় ষড়যন্ত্র, আমরা নিজেরাই স্বাধীন হয়েছি ভারত কিছু করেনি ইত্যাদি। তাদের জন্যই তিনি বাংলাদেশের কথা এড়িয়ে গেছেন বলে মনে হচ্ছে।

১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর পাকিস্তান সবচেয়ে বড় ভুলটি করে ভারতের মাটিতে হামলা করে। ভারতের বিদেশনীতি অনুযায়ী আক্রান্ত নাহলে তারা পালটা হামলা করতে পারে না। তাই ১ কোটি শরনার্থীদের আশ্রয়, খাবার, চিকিৎসা দান করলেও, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী সারা বিশ্বের কাছে বাংলাদেশে গণহত্যার কথা তুলে ধরে জনমত সংগ্রহ করলেও, মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিং দিলেও, মুজিবনগর সরকারকে আশ্রয় দিলেও ভারত সরাসরি আমাদের জন্য অস্ত্র নিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়তে পারছিলো না। পাকিস্তান হামলা করে তাদেরকে যুদ্ধে সরাসরি আহবান করলো। আর মাত্র ১৩ দিনেই ভারত ও বাংলাদেশের মিলিত মিত্রবাহিনী পাকিস্তানকে হারিয়ে দিলো। আমাদের পাশে ছিলো রাশিয়া, পাকিস্তানের পাশে ছিলো আমেরিকা। এটাই ইতিহাস, এটাই সত্যি। বাইরের হেল্প না পেলে ৯ মাস কেন, ৯ বছরেও প্রবল পরাক্রমশালী পাকিস্তানি আর্মির সাথে আমরা জয়ী হতে পারতাম না। কারণ আমাদের না ছিলো ট্রেনিং, না ছিলো অত্যাধুনিক অস্ত্র। লাঠি নিয়ে একে৪৭ এর বিরুদ্ধে লড়াই করা যায় না।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ায় ভারতের লাভ হয়েছে এটাও সত্যি। লাভ ছাড়া কেউ কিছু করে না। লাভ ছাড়া ভারতের এত সেনাই বা প্রাণ কেন দিবে, কেনই বা এক কোটি শরনার্থীকে আশ্রয় দেবে? বর্ডারের দুই দিকে শত্রুভাবাপন্ন দেশ থাকার চেয়ে একদিকে অপেক্ষাকৃত বন্ধুদেশ থাকা ভালো। এটাই তাদের লাভ। আর আমাদের লাভ তাদের হেল্প নিয়ে আমরা স্বাধীন দেশ পেয়েছি, বঞ্চনা-নির্যাতনের অবসান হয়েছে। আমরা পাকিস্তানের চেয়ে সবদিক দিয়েও অনেক এগিয়েছি। আজ পাকিস্তানের বাসিন্দাদেরই অবস্থা চরম খারাপ, আমরা একসাথে থাকলে আমাদেরকে লুটেপুটে খেতো আরও।

ভারত যদি চাইতো, তখনই বাংলাদেশ দখল করে নিতে পারতো। কিন্তু তারা তা করেনি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব দেশে ফিরেই ইন্দিরা গান্ধীকে বলেছেন সেনা ফিরিয়ে নিতে। ভারত তাই করেছে। বিশ্বের আর কোনো দেশ থেকে এত দ্রুত কোনো বিজয়ী সেনা চলে যায়নি। এর জন্য চড়া মূল্য দিতে হয়েছে শেখ মুজিবকে তার ৪ বছর পরেই! ভারতীয় সেনাবাহিনী থাকলে বা অন্তত ভারতের গোয়েন্দা রিপোর্ট শুনে নিজদেশের জনগণের প্রতি এতটা অন্ধবিশ্বাসী নাহলে হয়তো তিনি সপরিবারে হ*ত্যার শিকার হতেন না। তবে এটাও ঠিক, তাঁর অনেক ভুলও ছিলো।

স্বাধীন দেশে আজ ৫৩ বছর পর এই ইতিহাসকে পালটে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। রাজাকাররা মুক্তিযোদ্ধা সাজতে চাইছে। রাজাকারের বাচ্চারা বিজয় দিবস উদযাপন করছে! তারা ভারতকে আরও একবার আক্রমণ করে ক্ষেপাতে চাইছে। এর পরিণতি কী হবে জানি না। তবে ১৯৪৭ সালে ধর্মের ভিত্তিতে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর (যুদ্ধ না করেই স্বাধীন হয় পাকিস্তান) আজ পর্যন্ত একটা যুদ্ধেও পাকিস্তান জিততে পারেনি। এটাই ইতিহাস। এটাই সত্যি। তারা আরেকবার ভারতে আক্রমণ করুক। ভারতকে শায়েস্তা করে দিক। একাত্তরের বদলা নিক! তা না করে বাংলাদেশকে উস্কানি দিচ্ছে কেন? কারণ পাকিস্তানের এখন যা অবস্থা, নিজেরাই খেতে পায় না, যুদ্ধ করবে কি? বিশ্বাস নাহলে যারা ভারত ভ্রমণ করেছেন, তারা একবার বিনা ভিসায় পাকিস্তান ভ্রমণ করে আসুন। নিজেরাই উত্তর পেয়ে যাবেন।
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গণজাগরণের ১৩ পেরিয়ে আজও অনিশ্চিত বাংলাদেশ ‼️ প্রজন্মের ভুল পথে চলা .....!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৫:৪৫


গণজাগরণ মঞ্চের শুরুটা খুবই অকল্পনীয় ছিল/ ব্লগারদের অতি ক্ষুদ্র একটি অংশ হঠাৎ করেই ডাক দিয়েছিলো। মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের বিচার সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা সংকটের কারণেই ছিলো এই জাগরণ।আমারও সৌভাগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

জামাত কি আদতেই বাংলাদেশে রাজনীতি করার অধিকার রাখে?

লিখেছেন এমএলজি, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:৫৯

স্পষ্টতঃই, আসন্ন নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি এবং জামাত। দুই পক্ষের কর্মীরা মাঠ পর্যায়ে যেমন সক্রিয়, একইভাবে ফেইসবুকেও সরব।

বিএনপি'র কিছু কর্মী বলছে, জামাত যেহেতু ১৯৭১-এ স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তাই,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহ্‌কে কীভাবে দেখা যায়?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৩

যে কোন কিছু দেখতে হলে, তিনটি জিনিসের সমন্বয় লাগে। সেই জিনিসগুলো হচ্ছে - মন, চোখ এবং পরিবেশ। এই তিন জিনিসের কোন একটি অকেজো হয়ে গেলে, আমরা দেখতে পারি না। চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শতরুপা

লিখেছেন মোঃ ফরিদুল ইসলাম, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫২

তুমি কি কোন স্বপ্ন রাজ্যের পরী?
কিভাবে উড়ো নির্মল বাতাসে?
ঢেড়স ফুলের মতো আখি মেলো-
কন্ঠে মিষ্টি ঝড়াও অহরহ,
কি অপরুপ মেঘকালো চুল!
কেন ছুঁয়ে যাও শ্রীহীন আমাকে?
ভেবে যাই, ভেবে যাই, ভেবে যাই।
তুমি কি কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভূমি-দেবতা

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৪৩


জমিজমা নিয়ে দ্বন্দ্বে ভাইয়ে ভাইয়ে
মারামারি-কাটাকাটি-খুনোখুনি হয়;
শুধু কি তাই? নিজের বোনকে ঠকিয়ে
পৈতৃক সম্পত্তি নিজ নামে করে লয়।
অন্যদের জমির আইল কেটে নিয়ে
নিজেরটুকু প্রশস্ত সময় সময়;
অন্যদের বাড়ি কব্জা- তাদের হটিয়ে
সেখানে বানায় নিজেদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×