somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ক্যাডার বৈষম্যবিরোধীদের মহাসমাবেশে যাওয়ার আগে কিছু পরামর্শ

০৩ রা জানুয়ারি, ২০২৫ রাত ১:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

খুব বড় মুখ করে বলেছিলাম (লিখেছিলাম) "শুধু একটা ডাক দেন, অসুস্থ শরীর নিয়েও সীমান্ত থেকে চলে আসবো"। কিন্তু আমি যেতে পারছি না বলে ক্ষমাপ্রার্থী। শ্রদ্ধেয় অধ্যক্ষ স্যার আমাকে কর্মস্থল তথা লালমনিরহাটেই থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। কারো প্রতি আমার কোনো ক্ষোভ নেই। আজকাল সবকিছু মেনে নিতে শিখে গেছি। নিশ্চয়ই স্যার যা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা আমার ভালোর জন্যই এবং তা শিরোধার্য।

২০১৭ সালেও একবার এমনটা হয়েছিলো। শহীদ মিনারের প্রোগ্রামে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকলেও আমাকে না নিয়েই চলে যান ফরিদপুর সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের প্রিয় সহকর্মীগণ। সেই অভিমানে ফরিদপুরের বাড়িতে বসেই প্রথম আলো পত্রিকায় লিখে ফেলি "বিসিএস ছাড়া ক্যাডার নয়" শীর্ষক লেখাটি। পরের দিনই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী মহোদয়কে আত্তীকৃতদের জন্য আলাদা নীতিমালা করার নির্দেশ দেন মর্মে প্রথম আলোতেই রিপোর্ট করেন মোশতাক ভাই। তারপর শ্রদ্ধেয় শিক্ষাসচিব সোহরাব হোসাইন স্যারের হাত দিয়ে হয় 'আত্তীকরণ বিধিমালা-২০১৯"। ঘরে বসেই যদি এমন কিছু করা যায়, যা সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণীদের কানে পৌঁছায়, তাহলে সশরীরে না যাওয়ার কষ্ট লাঘব হয়, প্রয়োজনীয়তা ফুরায়।

আজও আমার সেই দিনের মতোই কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু অভিমান করার মতো ছোট এখন আর আমি নেই। আমিও মোটামুটি সিনিয়র হয়ে গেছি। তাই শিক্ষা ক্যাডারের যারা আগামীকাল ঢাকায় মহাসমাবেশে থাকছেন, তাঁদের প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা রাখছি। আশা করছি আপনারা এই দুর্যোগ থেকে আমাদের উদ্ধার করবেন। তবে কয়েকটা পরামর্শ দিতে চাই ছোট মুখে--

১. অবশ্যই অন্তত আগামীকালের কর্মস্থল ত্যাগসহ ছুটি নিয়ে যাবেন। ছুটির কাগজটা পকেটেই রাখবেন, যাতে কেউ চাইলে দেখাতে পারেন।

২. কথাবার্তায় সংযত আচরণ করবেন। কোনো বেফাঁস কথা বলা যাবে না। বিশেষ করে মিডিয়ার সামনে একেবারেই না। গুছিয়ে অল্প সময়ে টু দ্য পয়েন্টে বক্তব্য পেশ করতে হবে। যুক্তি দিয়ে কথা বলতে হবে। সাংবাদিকদেরকে যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে বলতে হবে। কোনো অবস্থাতেই উস্কানিতে ধরা দিয়ে উত্তেজিত হয়ে কিছু বলা বা করা যাবে না।

৩. এমন কিছু বলা বা করা যাবে না বা লেখা যাবে না যা চাকরিবিধি পরিপন্থি। আর কাউকে যেন বরখাস্ত করার সুযোগ না পায়।

৪. এত বিশাল একটা সমাবেশকে সুন্দরভাবে নিয়ন্ত্রণেও রাখতে হবে, যেন কোনো বিশৃংখলা না হয়। চেয়ারে বসা নিয়ে মারামারি ইত্যাদি হলে তা মিডিয়ার ক্যামেরায় ধরা পড়বে আর আমাদের আসল উদ্দেশ্য মাঠে মারা যাবে। আবার চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মতো কেস যেন না হয়। আপনার সমাবেশে কেউ এমন কিছু যেন না করে যা রাষ্ট্রদ্রোহীতা বা সরকারবিরোধীতা বা 'রুল অ্যান্ড রেগুলেশনস'-এর একেবারে ব্যাত্যয় হয়ে যায়।

৫. কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কেউ সচিবালয়ে প্রবেশ করবেন না। পুলিশকে ম্যানেজ করেও না। একজন এখন এমন কিছু করলে গোটা আন্দোলন মাঠে মারা যাবে।

৬. শান্তিপূর্ণ সমাবেশ শেষে প্রয়োজনে প্রেসক্লাবের সামনে বা শাহবাগে বা শহীদ মিনারে মানববন্ধন করা যায়। একেবারেই অবস্থা বেগতিক হলে অনশনও করা যায়। কিন্তু সেই স্তর এখনও আসেনি। আপাতত শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সমাবেশই যথেষ্ট।

৭. সমাবেশ শেষে আবার সবাই যথা সময়ে কর্মস্থলে ফিরে যাবেন। ইচ্ছা হলো, দুদিন ঢাকা ঘুরে যাই-- ভুলেও এটা করবেন না। সাবধান।

৮. সম্ভব হলে একটি প্রতিনিধি দল গিয়ে সরাসরি মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা, শিক্ষা উপদেষ্টা মহোদয়, আসিফ নজরুল স্যার ও নাহিদ ইসলামের সাথে এ বিষয়ে আলাপ করতে পারেন। বিএনপির সাথেও আলাপ করা যায়। এই মুহূর্তে নির্বাচন হলে তারাই জিতবে। তাদের সমর্থন দরকার আছে। সকল পত্রিকা ও চ্যানেলের সম্পাদকদের সাথে না পারলেও অন্তত নিউজ এডিটরদের সাথে একটি দল গিয়ে আলাপ করুন। তাতে অনেক বড় হেল্প হবে। জুলাই আন্দোলনের প্রকৃত মাস্টারমাইন্ড ফরহাদ মজহার। ইচ্ছা হলে তার সাথেও আলাপ করতে পারেন, তবে কতটুকু লাভ হবে তা বলতে পারবো না।

৯. লীগপন্থী কাউকে কাল সমাবেশে পেলে কিছু বইলেন না। এখন ঐক্যবদ্ধ থাকার সময়, ক্যাডার বাঁচানোর সময়। শনির দশা কাটলে প্রতিশোধ নেওয়ার বা অভিযোগ তোলার সময় পাবেন।

১০. যারা সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন, তাঁদের প্রতি সমবেদনা। তবে এই মুহূর্তে এ নিয়ে করার কিছু নাই। শোকজ দিলে পরামর্শ দিতে পারতাম জবাব কীভাবে লিখবেন, কিন্তু শোকজ তো দেয়নি! আপনারা আদালতে যেতে পারেন। তবে তাতেও কাজ হবে বলে মনে হয় না আপাতত।

সবার জন্য শুভকামনা।
জয়তু ৩৫।
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বরাজনীতি চলে স্বার্থের হিসেবে, আমরা চলি অন্ধ আবেগে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:২২


বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে সহজলভ্য জিনিস হলো বিশ্লেষণ। চাল, ডাল কিংবা তেলের দাম নিয়ে যতই হাহাকার থাকুক, ভূরাজনীতি নিয়ে জ্ঞানের কোনো অভাব নেই। চায়ের দোকানে বসে যিনি নিজের বাসার গ্যাস... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিছুই ভাল্লাগে না আজ তবু সময় বয়ে যায়

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৭:০৮


কিছুই ভাল্লাগে না আজ
মানুষের মুখে মানুষেরই রক্তের গন্ধ লেগে আছে
শিশুর কান্না আকাশ ছুঁয়েও
কোনো ক্ষমতার প্রাসাদের জানালা কাঁপে না।

বাংলাদেশ জেগে থাকে
গ্যাসের অপ্রতুলতা, দ্রব্যমূল্যের দীর্ঘশ্বাস,
বেকার যুবকের অনিদ্রা,
আর প্রতিদিনের অগণিত অসমাপ্ত প্রতিশ্রুতির পাশে।
সংবাদপত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

"জাগো বাহে কোনঠে সবাই"....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৩৬



ফেসবুক মেমোরিঃ
৩২ জুলাই এই পোস্ট লিখেছিলাম.....

"জাগো বাহে কোনঠে সবাই"....

ভালো থাকার চেষ্টা সবসময় করি, বেঁচে থাকার উপাদান খুঁজে নিতে চেষ্টা করি- পুঞ্জিভূত ক্ষোভ আর কিছু করতে না পারার আফসোস... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিনেমা সীমানা পেরিয়ে - বালির দাগে রাজনীতি

লিখেছেন রাজসোহান, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:০২



১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর রাতে পৃথিবীর ইতিহাসে রেকর্ড হওয়া সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। ভোলা সাইক্লোন। দশ মিটার উঁচু জলোচ্ছ্বাস উঠে আসে ব-দ্বীপের নিচু চরে। মৃতের সংখ্যা তিন থেকে পাঁচ... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশ ভ্রমনঃ মেহেন্দীগঞ্জ উলানিয়া_জমিদার বাড়ি

লিখেছেন মৌন পাঠক, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৭

আপনি যদি ঢাকায় থাকেন, তবে কোনো এক বিকেল কিংবা সন্ধ্যায় চলে যান সদরঘাটে। সেখান থেকে উলানিয়াগামী কোনো একটি লঞ্চে উঠে পড়ুন। লঞ্চের ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলে এক পাশের একটি কেবিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×