somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

২১ ফেব্রুয়ারী ও আমরা!

১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ বিকাল ৩:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১২ মাসে তের পার্বণ কথাটা অন্য যেকোন জায়গায় ভুল হতে পারে, তবে এই দেশে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা নাই একদমই। দিবসের শেষ তো আর হয়ই না, বরং বাড়ে।
আসছে, ২১ ফেব্রুয়ারী। দেশে জাতীয় শহীদ দিবস, যা আন্তর্জাতিকভাবে পালিত হয় মাতৃভাষা দিবস হিসেবে।
আগে ছোট থাকতে, আমি মাঝে মাঝে যেতাম শহীদ মিনারে, পরের দিকে যাওয়া হতনা আর আলসেমী করে। বাঙ্গালীজাতি ভাষার জন্য কি করতে পারে, এটা একটা বড় উদাহরণ। ছোটবেলায় মাঝে মাঝে ভাবতাম, সেই লোকগুলো কি ভেবেছিলো? কেনই বা গিয়েছিলো? শুধু ভাষা কি এতোই দামী? বুঝতাম না। ভাষা তো ভাষাই, জীবন কেন দিতে হবে?
বড় হলাম। কম্পিউটার আসলো বাসায়। যেদিন গুগলে প্রথম বাংলা লেখা দেখি, সেদিন নিজের মধ্যে কি জানি হয়ে গিয়েছিলো! পরে নিজের কম্পিউটারে বাংলা লেখার জন্য সফটওয়্যার আসলো। আস্তে আস্তে ফোনেও লেখা শুরু করলাম। এই সময়গুলোতে বুঝতাম, ভাষা কি আর কেন?
কাজের প্রয়োজনে অনেক ইংরেজী ব্যবহার করতে হয়। ইমেইল, চিঠি, নোটিস সবই দিতে হয় ইংরেজীতে। তারপরেও যখন বাংলায় কিছু লেখার বা পড়ার জন্য পেয়ে যাই, তখন আপন লাগে সবকিছু।
যাহোক, যে কথা বলার জন্য আজকের এতো কথা সেইটা হলো, আমরা কি আসলেই ভাষাকে সেই সম্মানটা দিতে পারছি? এই দিনে যে মানুষগুলো জীবন দিয়েছে তারা কি ভেবেছিলো আজকের দিনের কথা?
আরং, সাদাকালো, রঙ, নগরদোলা সহ অনেকেই ২১ ফেব্রুয়ারী উপলক্ষে তাদের নতুন ডিজাইনের কাপড় বাজারজাত করেছে। দামটাও কিন্তু কম না। আমার একটাই প্রশ্ন, এইটা কি ব্যবসার দিন? সবকিছু নিয়েই কি ব্যবসা করতে হবে? অন্তত এই দিনটাকে বাদ দিলেও তো হয়। স্বাধীনতা দিবসের আগের রাতে কত মানুষ তার জীবন দিয়েছে, সেটার হিসাব নেই। সেইটা নিয়ে ব্যবসা।
এইসব না করে একবার ভাবেন, কত মানুষ বাংলাটা পড়তে পারেনা, কত মানুষ লিখতে পারেনা। কত মানুষ শিক্ষার আলো থেকে বিচ্ছিন্ন। নিজের দোকানের নামটা ইংরেজীতে না লিখে বাংলায় লিখুন। রাস্তার আশেপাশের লেখাগুলো বাংলায় লিখুন।
নিজের ভাষার সম্মান, কাপর বিক্রি করে হয়না। কিংবা কালো কাপড় পরে হয়না।
একটু দোয়া করেন তাদের জন্য, যারা জীবনটা দিয়ে দিয়েছে। বাংলা ভাষাকে সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে দিন। ভালো ভালো বিদেশী বইগুলোকে বাংলা ভাষায় রুপান্তর করে ভর্তুকি দিয়ে বিক্রি করুন। কিছুই না পারলে অন্তত শুদ্ধ বাংলায় কথা বলুন।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ বিকাল ৩:৪৪
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাংসের ভুলচুক

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:০৬


বারে কুত্তার চোখ রঙিন
স্বপ্ন দেখে তাই ঘিন ঘিন
তাই দেখে হাড্ডি হাসে
পিন পিন, নাকের পুহান ঘুম
রক্ত হবে সুরেশ এই চুম;
ঐ গুরুজনে কইছে কথা
কুত্তার পেটে ঘি করে ব্যথা
স্বপ্ন তো দেখবেই ভুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×