আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হরতাল কোনভাবেই গ্রহনযোগ্য নয়। কিন্তু হরতাল যে কোন কারণেই দেওয়া হয়, তার পক্ষ বিপক্ষ নিয়ে কথা বলাটা সমিচীন নয়। এর কারণ হল, যারা হরতাল আহ্বান করে তাদের কাছে হরতাল একটি গণতান্ত্রিক অধিকার। আর ক্ষমতাসীন সরকারের কাছে তা জন-দুর্ভোগের একটি কারণ। তবে হরতাল যে কারণেই পালন করা হোক না কেন, বা আহ্বান করা হোক না কেন, তা দেশের জন্য কোন ভাবেই মঙ্গলজনক নয়। তারপরেও হরতাল হয়েছে, হচ্ছে, এবং হবেও।
বাঙলাদেশের একদল সাম্বাদিক (উচ্চারন সাংবাদিক) আছেন, যারা ইতিহাসের পাতা ওল্টাতে জানেন না, পারেন না। তাদের সেই ইচ্ছাও দেখি না। এ বি এম মুসার লেখায় দেখেছি উনি ইতিহাসের পাতা থেকে কথা টেনে এনে বলতেন। অনেক সময়েই (খুব পক্ষপাত না থাকলে) খুব সুন্দর করেই লিখতেন। কিন্তু আজকে দেখলাম আমাদের হলুদ রঙের সাম্বাদিক ভাইয়েরা আসলেই তালকানা হয়ে পড়েছেন। তার একটা নমুনা হচ্ছে এই রিপোর্টটিঃ যে বছরের শুরু হল হরতাল দিয়ে ।
উনার বয়েস অনেক কম ছিল বিধায় উনার মনেই নাই যে ১৯৯৬ সালের শুরুটাও হয়েছিল এক চলমান রক্তক্ষয়ী একটানা অবরোধের (লক্ষ্য করুন তা কিন্তু হরতাল ছিল না, ছিল তার চেয়েও বেশি মাত্রার তান্ডব ঘটানো অবরোধ) মধ্য দিয়ে। এবং সেই সময় যে হয়েছিল, তা বাঙলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে লজ্জার ইতিহাস। সেই লজ্জার ইতিহাস ভুলতেই কি আজকে নতুন করে এই ইতিহাস লেখার অপচেষ্টা?
যারা সেই সময়ে মানুষ মেরেছিল, দেশের ক্ষতি করেছিল, তাদের কাছে সেই সময়ের অপকর্মের দায় স্বীকার ও ক্ষমা প্রার্থনা করে নাই। ক্ষমতাসীন যে কোন সরকারই যখন একনায়ক এবং স্বৈরাচারী ধরণের হয়ে ওঠে, তখন বেশি দিন জনগণের কাছে গ্রহনযোগ্য থাকতে পারে না। অতীতে পারে নাই, এখনও পারবে না, আগামীতেও পারবে না।
যাইহোক সাংবাদিক ভাইদের কাছে অনুরোধ, আমাদের একটু ইতিহাস থেকেও জানাবেন। আম্লীগের আমলে বিম্পি কি করল, এইটাই যথেষ্ট না! বিম্পির আমলে আম্লিগ কি করেছিল, তাও জানান। মানুষ জানে না, তা কিন্তু নয়। কিন্তু আপনারা জানালে আপনাদের গ্রহনযোগ্যতা আরো বেড়ে যাবে। আর সেইসাথে সংবাদ্গুলোও খুব ভালো লাগবে পড়তে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

