১।
শীত রাতের মত মৃত একখন্ড আকাশ পড়ে আছে জলে ও স্থলে,
এক খন্ড নীল দখল করে আছে আলোড়নহীন পুকুর বাড়ি বিষাক্ত শহর,
এক ধূসর সময় পেড়িয়ে যাচ্ছে কুয়াশাচ্ছন্ন নেশাগ্রস্থ নদী,
আমরা শুধু মৃত্যুর বিষে নীল হচ্ছি ভেতরে ভেতরে;
আমরা সবাই আকাশ কে চেয়েছি- তার আপন শুন্যতা ভুলে
অথচ শুধুই নীল পর্দায় আকাশ এক বর্ণময় বিষণ্ণতা!
২।
কিছু কিছু ধ্বংস কে আমি পুন পুন অধিকার দিই পুনরায় ধ্বংস হবার
ওরা ভাঙ্গুক ভেঙে নিঃশেষ করুক সব নগর বন্দর সম্পর্ক প্রেম
ভরা পূর্ণিমার রাতে স্ফিত জোয়ারে প্লাবিক হোক পৃথিবীর বাকি উনত্রিশ ভাগ
বিলুপ্ত হোক সব শিল্প সৌধ
পুনজীবন মন্ত্র মুক্তির আশ্বাস অমরত্ব বাণী
শেষ হোক রাজতন্ত্র স্বৈরতন্ত্রের দাসত্ব, গণতন্ত্রের মানবিক মুখোশ,
উদ্ধারহীন খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে থাকা রাহুগ্রস্থ সময়।
৩।
একসময় ঢেউ গুলো গুনে গুনে আমি খুব অস্থির হতাম
আর রাতের আকাশে তারাদেরও গুনতাম,
তারপর দেয়ালের ক্যালেন্ডারে দিন মাস বছর
আর নিশুতি রাতের ঘড়ির সেকেন্ডের কাঁটায় মুহূর্ত ক্ষণ..
এখন আমার দেয়ালে কোন ক্যালেন্ডার নেই
আর ঘড়িটিও কাঁটাহীন -নিস্তব্ধতায় বলে যায় সময়।
৪।
ডানা ভাঙা পাখির মত ঘুরে ঘুরে পড়ে গেছি
চূড়া থেকে ঝরা পাতার সমতলে
এখন সহজে গ্রাস হবো শ্বাপদ অন্ধকারে,
কোন দুঃখ নেই কোন নিঃসঙ্গ রোদন,
আমার ডানায় তেইশ বসন্ত
পালকে আঠাশ পূর্ণ সূর্যালোক!
৫।
প্রতিধ্বনির মত ভেতরে ডেকে যায় কেউ নিয়ত বিরতিতে,
সে কে? সেকি আলপথ ধরে হেঁটে যাওয়া কুয়াশা ভাঙা প্রথম বকুল কুড়ানো মেয়ে?
একবার নতমুখে আড় চোখে দেখা সিক্ত বসনা যৌবন?
পাতার আড়ালে এক নীলকন্ঠপাখি?
কুমারী চাঁদের আলোয় উছলানো গাঙ?
সেকি সুদূরের শস্যগন্ধা বাতাসের আহ্বান?
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে নভেম্বর, ২০১৬ রাত ১০:২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




