somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

এন ইসলাম রনি
পুরো নাম মুহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম রনি, জন্ম- যশোর, পৈত্রিক নিবাস- ঝিনাইদহ। পড়ালেখা করছি বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এ। ঠিকানা- https://www.facebook.com/nasirul.rony

শহরের দিনলিপি

২৮ শে আগস্ট, ২০১৭ সকাল ৮:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১।
বৃষ্টির এই অলৌকিক পতন জুড়ে আছে সমস্ত দুপুর। বর্ষার নিজস্ব সন্ধ্যা নেমেছে শহরে। এই উত্তাল বর্ষায়ও জীবনানন্দ কে খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাকে পাওয়া যাবে সেই কার্তিকে, যখন বর্ষা পেড়িয়ে কুয়াশা দখল নিতে থাকবে চারপাশ আর দূরন্ত নদী শান্ত হবে, আকাশের চাঁদ ছড়াবে শীতল জ্যোৎস্না। কিন্তু এই অন্ধকার করা দুপুর-সন্ধ্যা জুড়ে থাকা বর্ষায় রাবীন্দ্রিক রোমান্টিসিজম নয় আমি চাই বর্ষার নিজস্ব নিসর্গ লেখা হোক জীবনানন্দে।


২।
একটা সিগ্ধ চাঁদ নারিকেল গাছের পাতা বেয়ে উঠছে পূর্ব আকাশে। বরফের মত চাঁদ!
এক কোমল ছায়া-অন্ধকারজ্যোৎস্না ছড়িয়ে আছে ইলেকট্রিসিটিহীন শহরে।
ছাদে যে গান গাচ্ছে তার কন্ঠস্বর কোন অতীত গ্রামোফোন রেকর্ড থেকে উঠে আসছে যেন, মৃদু অথচ গভীর.....!


৩(ক)।
মধ্য আকাশের ঘোলাটে চাঁদের উপর দিয়ে তারস্বরে ডাকতে ডাকতে উড়ে গেল চার টা কাক। সমাপ্তি ঘটলো ভীষণ একটা রাতের। উৎসচিহ্নহীন আবছা একটা আলোয় স্পষ্ট হচ্ছে চারপাশ। এগিয়ে আসছে একটা সকাল। ক্লান্ত একটা সকাল..., যে সকালের জন্য জেগে থাকা শতাব্দী দীর্ঘ এই রাত…


(খ)।
এই যে কয়েক ঘন্টা আগেই আকাশ টাকে কি আপন মনে হয়েছিল
এখন তার দিকে তাকানোই যাচ্ছে না,
যে চাঁদ টা অন্ধকার ঠেঁলে ছায়া একেঁছিল আমাদের শরীরের
এখন সেখানে একটা গনগনে দানব নক্ষত্র..!


৪।
কিছুটা সময় আয়নায় মনোযোগ দেয়া উচিত নয়তো একদিন হঠাৎ বিস্ময়ে চমকে উঠবো নিজেকে দেখেই। নিজেকে নিজের আততায়ী বলে সনাক্ত করবো। ফটো এ্যালবামে নিজেকে খুঁজে পাবো না কোথাও। আমিতো ভুলেই গেছি নিজের চেহারা!! আর চেহারা শব্দটি ই অতীত-কাল যার কোন বর্তমান নেই।


৫।
সবার ই একটা নদী থাকে, একান্ত ব্যক্তিগত একটা নদী। সে ভাবে তার সবচেয়ে কাছের নদীটিই বুঝি সেটা। বাড়ির পাশের, শহরের পাশের অথবা গ্রামের কোল ঘেঁষে বয়ে যাওয়া নদী টি কে ধরে ভেতরে আর একটা নদী গড়ে ওঠে। চেনা অথচ সম্পূর্ণ ভিন্ন একটা নদী। খুব বেশি দূর তাকে দেখা যায় না, উৎপত্তি বা মোহনা কোন টা ই না।
ব্যক্তিগত নদীগুলো দৃষ্টির বাইরে গেলেই ফুরায়। আমারো একটা নদী আছে, সে প্রমত্ত পদ্মার মত নয়, বদ্ধ জলের কপোতাক্ষ ও নয়; ক্ষীণস্রোতা একটা নদী। যার দু তীরে পাখিদের গ্রাম, অনার্য বৃক্ষের সমাজ। আমি যাকে ভুল নাম নবগঙ্গা বলে চিনি।



৬।
এক একটা বাড়ি যত পুরনো হতে থাকে সেটা তত অদ্ভূত ভাবে জীবন্ত ও হতে থাকে। রাস্তার ধারের দুটো জানালাও মাঝে মাঝে এমন মায়া নিয়ে তাকিয়ে থাকে, চোখাচোখি হয়ে গেলে চোখ ফেরানো কঠিন। কোন চাকচিক্য নেই, নেই রঙচঙা জৌলুস, পুরনো বাড়ির যত যাদু তার ছায়াময় অন্ধকারে।



৭।
ঝড়! এই একযুগ আগেও ঝড় উঠলে ছাদে উড়ে আসতো কদম কড়ই জাম এর পাতা, শিমুল তুলো, আকন্দের বীজ.. মাঝেমাঝে অচেনা ফুল! তারও আগে প্রায় ই আসতো আহত আর পথভোলা পাখি.. আর এলেই চাল ছোলা রুটি, কৌটা করে পানি, বিস্কুটের বাক্স/ঝুঁড়িতে নরম কাপড় বিছিয়ে সিঁড়িঘরে রেখে দিতাম। কিন্তু এইসব পাখিরা খুব সন্দেহবাতিকগ্রস্থ হয়, এরা খাদ্য পানি কিছু ছুঁতোই না। এদিকে আমার সারারাত ঘুম হতো না পাখির চিন্তায়। সকালে দেখা যেতো পাখি উড়ে গেছে! তারপরও আমি অপেক্ষায় থাকতাম, কোন একদিন কোন এক পাখি থেকে যাবে এ বাড়ির চিলেকোঠা কে ভালোবেসে!


৮।
প্রতিরাতে জীবনানন্দের কিছু লাইন আউড়ে যেতে ইচ্ছে করে। এমন কিছু লাইন যাতে অচেনা এক শুন্যতা জমে আছে। তীব্র গাঢ় একটা শুন্যতা। এককালে সমস্ত জীবনানন্দ পড়েও আমি ভুলে গেছি জীবনানন্দ শুধু বিষণ্ণতা জাগায় কি না!


৯।
আহত মৃত নক্ষত্রের মত শেষ আলোটুকু আগলে দাঁড়িয়ে থাকতে চাই- শব্দ, চিহ্ন, সৃষ্টিহীন..
নিজেকে আলোকরে অদৃশ্য, অন্ধকারে-
সমূহ গ্রহ উপগ্রহ গ্রহাণুর সুসজ্জিত বাগান গুটিয়ে আত্মমগ্ন কৃষ্ণবিবর।



১০(ক)।
খুব মোটা তুলি দিয়ে একটা ছবি আঁকতে ইচ্ছে করে, আলো-চকচকে নয় বরং ছায়া ছায়া অন্ধকার। নিখূঁত নয়, তবে খুঁজলে নিখূঁতভাবে ধরা দেবে পুরোটা। আর আঁকার পর ঢুকে যেতে ইচ্ছে করে ছবির ভেতর।

(খ)
সেখানে কোন দিন নেই, -বার মাস রাত, কোন তীব্র পূর্ণিমা নেই, এক ঘোলাটে সিগ্ধ চাঁদ জেগে জলে ও অন্তরিক্ষে। সেখানে জ্যোৎস্না থেকেও বেশি নক্ষত্র প্রভা। বাতাস ও সেখানে রাতের মতই মৃদু ও কোমল.....মানচিত্র জুড়ে এক জীবনানন্দের মালয় সাগর!





সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে আগস্ট, ২০১৭ সকাল ৮:০৪
৫টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আশা রাখি: কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ রাষ্ট্রপতি হবেন

লিখেছেন অপলক , ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৪০



আমার দেখা সকল রাষ্ট্রপতিগন ছিলেন ডায়াবেটিকস রোগীদের মত। যাদের রাজনৈতিক জীবনীশক্তি ছিল না বললেই চলে। প্রধানমন্ত্রীর অলিখিত আজ্ঞাবহ মাত্র। ফর্মালিটি আছে কিন্তু কাজের স্বকীয়তা ছিল না। কোন আইকোনিক ডিসিশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৫৬৩৫-৩৬

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৪৯

মন কথনিকা-৫৬৩৫
খেতে খেতে গেল জীবন, নজর যে নাই স্বাস্থ্যের পানে
খেয়ে গেছি যা পেয়েছি, যা পেয়েছি বামে ডানে
বাড়লো চর্বি, কমলো যে জোর, শান্তি হারাই পদে পদে
এই না জীবন পার করতে চাই,... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাত ৮ টায় বিপণিবিতান-দোকানপাট বন্ধের নির্দেশ | দেশজুড়ে বইছে গণতন্ত্রের সু-বাতাস

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:৩৫



দেশজুড়ে বহু বহু করে বয়ে যাচ্ছে গণতন্ত্রের সু-বাতাস, চারিদিকে পতপত করে উড়ছে গণতন্ত্র নামক শান্তির পতাকা- সারা বংলায় এমন শান্তিময় পরিবেশ স্বাধীনতা পরবর্তীকালের ইতিহাসে আর দেখা যায়নি কখনো; এরই ধারাবাহিকতায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০০১ সালেও বিএনপিকে ডোবানোর দায়িত্ব নিয়েছিল টুকু!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৫১


ভয়াবহ লোডশেডিং। মধ্যরাতে ঢাকবাসীর হাঁসফাঁস। হঠাৎ করে এতো লোডশেডিং হওয়ার কোন কারণ নেই অথচ মধ্যরাতে ভয়াবহ লোডশেডিং। গ্রামে বিদ্যুৎ থাকেনা বললেই চলে। গ্রামে বিদ্যুৎ যাওয়ার সময় আছে কিন্তু আসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বাষ্ট্রপতি নির্বাচন নাকি রাষ্ট্রীয় খরচে তামাশা!!!

লিখেছেন শাহিন-৯৯, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


বাংলাদেশে সম্মানিত রাষ্ট্রপতি (হবু)


নির্বাচন, এই শব্দটি শুনা মাত্র যে বিষয়টি আমাদের মাথায় আসে তা হচ্ছে ভোট প্রদানের যোগ্য ভোটারদের স্বাধীন ভোটের মাধ্যমে একজন যোগ্য ব্যাক্তিকে দায়িত্ব অর্পণের জন্য নির্বাচিত করা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×