somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

এন ইসলাম রনি
পুরো নাম মুহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম রনি, জন্ম- যশোর, পৈত্রিক নিবাস- ঝিনাইদহ। পড়ালেখা করছি বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এ। ঠিকানা- https://www.facebook.com/nasirul.rony

শহরের দিনলিপি ও একটা হারানো বছর

১৯ শে মে, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১।
একটা নরম মেঘ সকালটা কে ধরে রেখেছে ভোরের খুব কাছাকাছি,
নিরব রাস্তার বৈদ্যুতিক তারে বসে মাঝে মাঝে ডেকে উঠছে দু একটা বিস্মৃত শালিক
আজ এই শহরের সব ঘড়িগুলো বন্ধ হয়ে গেলে কোন বিকেল না রেখেই রাত নেমে যাবে ঝুপ করে।
আমি চাইছি সকাল টা দীর্ঘ হোক, এক সহস্র বছরের সমান দীর্ঘ!
অথচ হয়তো সেটা দু প্রহরের বেশি দীর্ঘ হলেই
দরজা খুলে চেয়ে বসবো একটা কড়মড়ে বাঁশ পাতা খামের মতো হলুদ দুপুর!


২।
অবশেষে বৃষ্টি নামলো, অন্ধকার ঘর,
চোখ বন্ধ করে দেখি-
ভিজে রাস্তা, জুবুথুবু দেবদারু
একাকী বুড়ো ক্যাসেলের ব্রিজ,
নবগঙ্গায় ঝড় এলেই নিখোঁজ হবার স্বপ্ন দেখা
বৈঠাহীন সেই পাগল ডিঙি..


৩।
ইচ্ছে করে পৃথিবীটাকে দুহাতে ধরে দলাই মলাই করেদিই,
বদলে দিই এর মানচিত্র,
যেখানে কোন দেশ নেই,
একটি মাত্র মহাদেশ, একটা সাগর।
ছেড়ে দিই কিছু পরিব্রাজক, দু চারটা সুখি মানুষ,
এঁকে দিই মেঘেঢাকা একটা চির বর্ষার অক্ষাংশ,
একটা চির বসন্তের,
একটা আলোছায়া বন....


৪।
হতাশার কোন সঙ্গী হয় না, কষ্টের কোন বন্ধু।
দুঃখ বরাবর ই এক নীলকালো আকাশ
ইলেকট্রিসিটিহীন শহরে একটা মরা চাঁদের ঘোলা আলো,
খোলা ছাদে গল্পরত কিছু মুখ
একাএকা ফ্রস্ট থেকে কিছু উচ্চারণ
হঠাৎ অনুজের কন্ঠে অপার্থিব হয়ে ওঠছে রবীন্দ্রনাথ..
বিনা অভিযোগে থেমে গেছে সব গল্প, সব কোলাহল,
এমন সব হারানো সময়...


৫।
খড় রং রোদ দেখে চোখ জ্বলে
বাতাসর স্পর্শে কাঁপে দেহ,
শার্টটাকে জড়িয়ে ধরতে চাই দু হাত,
কোথা থেকে জেনেছে তারা উষ্ণতা মানে শুধু জড়িয়ে ধরা!
খক খক শব্দে বিজাতীয় ভাষায় কথা বলে উঠে ও কে, অসুস্থ সময়?
শুনি কিয়ামত সন্নিকটে,
অথচ এখনো কোন খবর না দিয়ে চলে আসা মৃত্যুকে আমার অসম্ভব মনে হয়।


৬।
সেই কখন থেকে দাঁড়িয়ে চোখ রাঙাচ্ছো পারদ স্কেলের ৯৮.৩ দাগে
সীমান্ত রেখায় আর কতক্ষণ?
ওপাশে জাহান্নাম এপাশে বধ্যভূমি (তোমার অথবা আমার)
এসো চুমু খাই, আগুন চুমুতে দেখি কতটা তোমার বিষ?
তুমি না আমি..দেখি কে কাকে পায়?


৭।
বনের মাঝে নিঝুম একটা সরোবর,
যার নীরবতা কে চুরমার করে জলে ছায়া ফেলে উড়ে গেল একটা মাত্র পাখি....
এমন তীব্র দুপুরে এর নাম মন খারাপ!
এর নাম অসীম অকারণ!


৮।
এ এক নিজের সাথে কথা বলা ছাড়া কিছু নয়।
প্রত্যাশায় দ্বিতীয় কেউ নেই যে বুঝতে সক্ষম,
এখন তো আয়নাতে যে সেও যথেষ্ট অপরিচিত অবয়ব নিয়ে দাঁড়ায়।
এখানেও কোন কথা নেই।
দীর্ঘ একটা নীরবতা একশত বছরের মতো,
তবে জড় স্থির নয় -
একটা বায়ুশূন্য টানেল দিয়ে ছুটে চলা শব্দহীন ট্রেনের মতো-
প্লাটফর্মের অপেক্ষার প্রত্যাশা বুকে নির্বাক,
যেখানে ভেতর টা চিৎকার করে যাচ্ছে উচ্চারিত হচ্ছে না কোন শব্দ!
মুক অভিনয়? হতে পারে, তবে অভিব্যক্তি প্রকাশ পাচ্ছে না একটুও..।


৯।
সময়ের উল্টো পিঠ থেকে উঠে এসেছে মুখোশের উল্টো পিঠ!
আমি কি জানতাম না মুখোশের কথা?
মুখোশের পর মুখোশের স্তর
আর মুখোশের পেছনে আর একটা মুখোশের আড়ালে থাকার গল্প?!


১০।
বিস্মৃতির ঘুমে জেগে আছে চোখ
সেখানে অন্ধকার প্রবেশ করছে জলপ্রপাতের মতো
আর সে জলস্রোতে ভেসে যাচ্ছে অধর,
ওষ্ঠ, হাত, হাতের আঙুল- পুরোটো অবয়ব,
ভেসে যাচ্ছে দিন রাত অতীত বর্তমান সময়ের হিসাব
চেয়ে আছি এক মুক অন্ধকারের ভেতর!


১১।
পৃথিবীর দীর্ঘতম রাতের অন্ধকারে জেগে আছে বাতিস্তম্ভ গুলো।
দু পাশের সারিবদ্ধ ইমারত সব ভূতের মতো ঈষৎ আলো অন্ধকার প্রলেপে।
এই রাতে একা ঘরে ফিরছে যে তার সামনে দাঁড়িয়ে এক অন্য শহর!


১২।
এখানে দুটো নদী মিলে তৃতীয়টির জন্ম
অথচ তিনটিরই এক নাম
একতীরে দেবদারু প্রাচীর, ওপাশে পাখিদের গ্রাম!
এই অন্ধকার ছায়া বক্রাকার পথে
যেখানে ডুমুর আর সুপারী বাগান-
মেঘের পাহারা এড়িয়ে জলে ছায়া ফেলে আছে পূর্ণিমা পেরনো চাঁদ,
টেলিফোনের তারে একটা ধূসর পেঁচা,
মাথার উপর কাব্যহীন বাতিস্তম্ভ
তবু আমরা এইখানে জীবন ও মৃত্যুকে ভুলে কিছুক্ষণ দাঁড়ালাম..



সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে মে, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৪৬
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের শাহেদ জামাল- ১০০

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৮



মাঝে মাঝে খুব অবিশ্বাস্য ব্যাপার সহজ ভাবে ঘটে যায়।
এই যে আমি শাহেদ। শাহেদ জামাল। রমিজ উদ্দীনের ছেলে। আমাকে একটা ঘরে বন্ধী করে রাখা হয়েছে। ছোট ঘর। ঘরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিশুর নিরাপত্তা কোনো প্রতিষ্ঠানের সুনামের চেয়ে বড়

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:০২



শিশুর নিরাপত্তা কোনো প্রতিষ্ঠানের সুনামের চেয়ে বড়

গতকাল এক বাবার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। অভিযোগ, তাঁর মেয়েকে একটি মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল যৌন নিপীড়ন করেছেন। বাবার প্রতিক্রিয়া সঠিক ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনেকটা পথ হেঁটে এসেছি

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:০৫




১৯৯৭ সাল।

আমি তখন ক্লাস নাইনে পড়ি।

স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে মামুন ভাইয়ের একটা অডিও ক্যাসেটের দোকান ছিল। পাশেই মির্জা ভাইয়ের কনফেকশনারি। টিফিনের সময় ওখানে প্যাটিস খেতাম।

সেই সময় অডিও ক্যাসেটের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশটাতো এখন রাজাকারদের....

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৮




একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে বাদী ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী (৮৭)। মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়ার প্রস্তুতি চলার সময় জামাতের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা শিক্ষা একটা কর্মবিমুখ শিক্ষা

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৫

এদেশের মাদ্রাসা শিক্ষারে আপনি একটা স্ক্যাম হিসেবে ধরতে পারেন। মাদ্রাসার বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে যে মাদ্রাসাগুলো আছে সেগুলো বাদ দিয়ে অন্য সব মাদ্রাসাই এই স্ক্যামের ভেতরে। এটা একটা ভিক্ষার সাইকেল, দারিদ্র্য'র দুষ্টু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×