somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আসুন দৃষ্টিভঙ্গী এবার পাল্টাই....

০৫ ই অক্টোবর, ২০১৬ রাত ১:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তনু, রিশার পর আরেকটি আলোচিত হত্যাকান্ড হতে যাচ্ছে খাদিজা আক্তারের। মেয়েটির বাঁচার সম্ভাবনা খুবই কম, মাত্র ৫%। পূর্বেই বলে নিচ্ছি আমাকে কোন রাজনৈতিক বিষয়ের দিকে ঠেলে দিবেন না। আমি ছাত্রলীগের পক্ষ নিয়ে কথা বলতে আসিনি। ফেসবুকে ঢুকার সাথে সাথেই দেখলাম পুরো হোম পেজ ছাত্রলীগের বদনামে ভরপুর। সবাই ছাত্রলীগ ছাত্রলীগ বলে একপ্রকার হাঁপিয়ে যাচ্ছে। মোট কথা হল, সন্ত্রাসীদের সামাজিক, রাজনৈতিক, বা পারিবারিক কোন ধর্ম নেই। যদি থাকতো তাহলে বাবার হাতে সন্তানের খুন বা সন্তানের হাতে বাবা মার খুন হওয়ার মতো ঘৃণিত ঘটনার আলোকপাত সমাজে হত না। আরে ভাই নিজের সুবিধাটা পাগলেও বুঝে। কেউ শরীরে আঘাত করতে চাইলে সেগুলো যদি শরীরে পরিহিত জামা কাপড়ের উপর দিয়ে চলে যায় তাহলে সেটা কি ভাল নয়? অবশ্যই ভাল। শরীরের মত করে সন্ত্রাসীরাও চায় সমাজে তাদের অবস্থান পাকা পোক্ত করতে রাজনীতি নামক চাদরের অন্তরালে (কারন সমাজে এটাই সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়স্থল)। ছাত্র দল যখন ক্ষমতায় ছিল তখন কি এরকম ঘটানা ঘটেনি? অবশ্যই ঘটেছে। ভবিষ্যতে যদি এই দু’দলের চেয়ে ভাল কোন রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসে তাহলে যে এরকম ঘটনার জন্ম নেবে না তার গ্যারান্টি কি আপনি দিতে পারবেন? পারবেন না। সুতরাং এসব অহেতুক ছাত্রদল, ছাত্রলীগ বাদ দিয়ে মস্তিষ্ককে একটু অন্যদিকে ঘুরান। তনু, রিশার মত করে একটির পর একটি হত্যাকান্ড হয়েই চলেছে, আমরা দিনের পর দিন মানব বন্ধন করেই চলেছি। যখন ছাত্রলীগের কেউ হত্যাকান্ড করছে, তখন সবার আগে ছাত্রলীগ অমুক, আর ছাত্রদলের কেউ করলে ছাত্রদল তমুক আর হত্যাকারী যদি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত কেউ না হয়ে থাকে তাহলে সেদিকে আর আমাদের দৃষ্টিপাত যায় না। এটাই আমাদের পাবলিকদের মূল জাতিগত স্বভাব। আরে ভাই, এখন পর্যন্ত মানব বন্ধন করে কয়টা হত্যাকান্ডের বিচার করতে পেরেছেন? ২০১১ সালের ১ নভেম্বর, বহুল আলোচিত বাংলাদেশ তথা এশিয়া মহাদেশের স্বর্ণপদক প্রাপ্ত শ্রেষ্ঠ মেয়র নরসিংদীর লোকমান হোসেন হত্যাকান্ড। যেদিন ওনাকে হত্যা করা হয়েছিল, নরসিংদীর মাটিতে এমন একটি মানুষ নেই যে তার মৃত্যুতে কাঁদেনি। এটা আমার স্বচোখে দেখা। লোকমানের ভালবাসায় সিক্ত মানুষগুলো রাজপথে নেমেছিল, সুবিশাল মানব বন্ধন করেছিল তার হত্যার বিচারে দাবীতে। সমস্ত আসামীগুলোকে দুই দিনের ভেতরে ধরাও হয়েছিল। কিন্তু বিচার কতটুকু হয়েছে জানতে চাইলে জিজ্ঞাস করতে পারেন নরসিংদীবাসীর কাছে। আমাদের সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তন না ঘটালে এভাবেই দিনের পর দিন হত্যাকান্ড চলতে থাকবে। আসুন না আমরা একজন মানুষ সন্ত্রাসী হয়ে ওঠার মূল কারণ গুলোর দিকে দৃষ্টিপাত করি। সমাজে যারা সন্ত্রাস বা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালাচ্ছে তারা আপনার আমার মতোই হয় কারও ভাই, ছেলে বা পরিবারেরই কেউ একজন। পুরো দেশের দিকে দৃষ্টিপাত কোন লাভ নেই, দেশের জন্য আপনি কিছুই করতে পারবেন না। আপনার ভাই, সন্তান বা পরিবারের সদস্যটি কার সাথে মিশছে বা কোথায় যাচ্ছে সেই খবরটুকু নিন। অন্যের সমালোচনা করে সময় নষ্ট না করে নিজের পরিবারের দিকে তাকান। আপনার পরিবারের ভালমন্দ নিয়ে অন্যকারো মাথা ব্যাথা নেই, এটা একমাত্র আপনারই দায়িত্ব। সমাজের দায়িত্ব নেয়ার দরকার আপনার নেই। সমাজ নিজেই নিজে সে তার দায়িত্ব নিয়ে নিয়ে নেবে যখন সমাজের প্রত্যেকটি পরিবারের দায়িত্ব আমরা একজন করে নিতে পারবো। কয়েকটি পরিবার নিয়েই তো গঠিত হয় সমাজ। শুধু কয়েকটা সমাজ ঠিক হয়ে গেলেই ঠিক হয়ে যাবে আমাদের দেশ।
,
,
Written by:_________ নিস্তব্ধ অনুভূতি।

সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই অক্টোবর, ২০১৬ রাত ১:৪৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×