উপহার বাংলা মেলা উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকাতে বের হওয়া আমার লেখাটি এখানকার পাঠকদের জন্য তুলে দিলাম। প্রবাসে বাংলাদেশী ছেলেমেয়েদের বাংলা শেখানোর উপায়-উপকরণ নিয়ে এ লেখা। বাংলা চর্চার জন্য সামহোয়্যার ইনকে ব্যবহার করা যেতে পারে তা বেশ জোরালভাবে এখানে বলা হয়েছে। আশা করি, ছোটদের জন্য ছড়া ও গল্প সাজিয়ে আপনারা সাহায্য করতে পারেন আমাদের সবাইকে। ধন্যবাদ।
"প্রতি বছরের মতো ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রো এলাকায় বাংলা স্কুলের উদ্যোগে উপহার বাংলা মেলা উদযাপন হতে যাচ্ছে মে মাসের 20 তারিখে। বাংলা স্কুলের ছোট বড়ো ছেলেমেয়েরা গান, নাচ, অভিনয় ও কবিতা আবৃওি দিয়ে মুগ্ধ করে রাখবে আমাদের সবাইকে। বাংলা স্কুল সুদূর ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রো এলাকায় বাংলা চচর্ার এক অনন্য সুযোগ সৃস্টি করেছে। কিন্তু বাংলা চচর্ার এই ধারাকে এগিয়ে নিতে হলে আমাদের সবাইকে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে হবে। শুধু স্কুলে আসলেই ছেলেমেয়েরা বাংলা শিখবে এবং বাংলা ভাষায় পারদর্শী হবে এটা ভাবলে আমাদের সবাইকে খুব হতাশ হতে হবে। কারণ, শুধু স্কুলে বসে কোন ভাষা শেখা সহজ নয়। আমরা যারা বিদেশী ভাষা শিখেছি এবং শিখছি তারা খুব ভাল করেই জানি বিদেশী ভাষা রপ্ত করতে হলে তার জন্য সাধ্য-সাধনা স্কুল-ঘর ও সর্বএ করতে হয়।
ভাষা শেখার সবচেয়ে ভাল সময় হচ্ছে জীবণের প্রথম ক'টি বছর। এ কথা আমার নিজের নয়, বরং ভাষাতাতি্বক ও শিক্ষাবিদদের কথা। ভাষাবিদরা তাদের গবেষণার মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন যে, শিশুরা বেশ ক'টি ভাষা একই সাথে শিখতে পারে যদি তাদের বুদ্ধিবৃওিক মতা স্বাভাবিক থাকে (বার্কো গি্লডসন, 2005)। কিন্তু সেজন্য প্রথমেই প্রয়োজন মাতৃভাষার উপর দক্ষতা। কিন্ডারগার্টেন শুরু করার আগেই শিশুরা যদি তাদের মাতৃভাষায় দক্ষতা অর্জন করতে পারে ও অনর্গল বলতে পারে, তাহলে তার পাশাপাশি অন্য ভাষা শেখাও তাদের জন্য অনেক সহজ হয়ে যায়। ছেলেমেয়েদের বয়স যতো বাড়তে থাকে তাদের প েঅন্য ভাষা শেখা তত কঠিন হতে থাকে। পাশাপাশি, তারা যদি তাদের নিজস্ব ভাষাটি নিয়মিত চর্চা না করে, তখন তারা ভুলতে থাকে তাদের রপ্ত করা ভাষাটি। আমাদের সমস্যাটা ঠিক এখানেই। অনেক অভিভাবকরা ভাবেন, বাংলা শিখলে তাদের ছেলেমেয়েরা ইংরেজী বা বিদেশী ভাষায় পারদর্শী হতে পারবে না। তারা যে শুধু ভুল করছেন তাই না, বরং তারা নিজ হাতে ছেলেমেয়েদের একাধিক ভাষা শেখার সুযোগকে একেবারেই বন্ধ করে দিচ্ছেন। তাই ভাষার ব্যাপারে বাবা-মায়ের সচেতনতার খুব প্রয়োজন। ভাষা শেখার জন্য স্কুলের প্রয়োজন আছে, কিন্তু তাকে এগিয়ে নিতে হলে দরকার বাবা-মা ও পরিবারের সবার একান্ত অংশগ্রহণ।
বাংলা ভাষা শেখার জন্য অনেকেই বাংলা স্কুলে আসেন। তাদের বাংলা শেখার চেস্টাকে আরও অর্থবহ করে তুলতে হলে ভাষা শিক্ষার জন্য প্রযুক্তি ও প্রচার মাধ্যমের ব্যবহার করতে হবে। বাংলা শিখতে হলে বাংলা চর্চার আবহ তৈরী করতে হবে। বাসায় বাংলা বলুন। বাইরেও ছেলেমেয়েদের সাথে বাংলায় কথা বলুন। বাঙ্গালী আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদেরকেও বাংলায় কথা বলতে অনুপ্রাণিত করুন। বাংলা নাটক ও ছোটদের অনুষ্ঠান দেখতে দিন এবং তাদের সাথে যোগ দিয়ে অনুষ্ঠান উপভোগ করুন। ভাষা শেখার জন্য ফনোলজিকাল এওয়্যারনেস তৈরী করতে একটি সমন্বিত কর্মসূচী দরকার। এতে সবার অংশগ্রহণ দরকার। যারা আমেরিকায় বড়ো হচ্ছে তারা ইংরেজী শিখবে খুব সহজে, কিন্তু তাদেরকে বাংলা শেখানো অনেক কঠিন হবে যদি না আমরা সবাই মিলে অংশগ্রহণ না করি।
বাংলা চর্চায় প্রিন্ট এওয়্যারনেস তৈরী করতে হবে। সবার অংশগ্রহণমূলক কারিকুলাম তৈরী করতে হবে। শুরুতেই বাংলা শেখানোর জন্য যে শুধু কাগজ-কলম ও বই_খাতার দরকার তাই নয়, বরং তার পাশাপাশি এটিকে খেলার মাধ্যমেও শেখানো যেতে পারে (ম্যাচিং লেটারস, কার্ড গেম, ছবি দিয়ে অর শেখা, এলফাবেট পাজল ইত্যাদি)। এ ব্যাপারে তাদেরকে উৎসাহ দিতে হবে। বাংলা বই নিয়মিত পড়ে দিতে হবে। যাতে তারা বাংলায় শুনল, দেখল ও বুঝতে চেস্টা করল। পাঠ্যচক্র তৈরী করতে হবে। ছোটদের জন্য বাংলা বইয়ের সংগ্রহ বাড়াতে হবে স্কুলে ও বাসায়। তাহলেই ভাষা শেখার জন্য ফনোলজিক্যাল এওয়্যারনেস তৈরী করা সম্ভব হবে।
বাংলা ভাষা শেখার সুযোগ দিন দিন বাড়ছে। এজন্য বাবা-মায়েরা কম্পিউটার ও ওয়েবব্ল্লগের ব্যবহার করতে পারেন। ইদানীং বাংলা ব্ল্ল্লগ তৈরী করার খুব সহজ ব্যবস্থা হয়েছে, এব্যাপারে সামহোয়্যার ইন ব্ল্লগ ব্যবহার করা যেতে পারে http://www.somewhereinblog.net। শিশুদের বিনোদনের জন্য উপযোগী বাংলা ব্ল্লগ তৈরী করতে হবে যাতে ছেলে-মেয়েরা উপযোগী বিনোদনমূলক গল্প-ছড়া হাতের নাগালে সবসময়ই পেতে পারে। এধরণের ব্যবস্থা সহায়ক রিডিং রিসোর্স তৈরী করবে যা সহজে অভিভাবকরা ব্যবহার করতে পারবেন। মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশ আর বাংলা আমাদের ভাবনায় ও চর্চায় অবিচ্ছেদ্য। তাহলেই হবে বাংলা চর্চা সার্থক এই সুদূর প্রবাসে"।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মে, ২০০৬ রাত ১০:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



