somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশে স্বাধীন মতপ্রকাশ পুরোপুরি রুদ্ধ করা হয়েছে

০৩ রা মে, ২০১৭ রাত ১:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছেন বাংলাদেশে গত তিন চার বছর ধরে স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার পুরোপুরি কেড়ে নেয়া হয়েছে রুদ্ধ করা হয়েছে করা হয়েছে সাধারন মানুষের স্বাধীন মতামত। দিল্লিতে আজ এক বিশেষ প্রতিবদেন প্রকাশ করে তারা দাবি করেছেন আতঙ্ক আর দমনপীড়নের চাপে পড়ে আজকের বাংলাদেশে প্রতিবাদী কন্ঠস্বর পুরোপুরি রুদ্ধ। সরকার ধর্মনিরপেক্ষ ব্লগারদের রক্ষা তো করতে পারেছেনিনা বরং নতুন একগুচ্ছ আইন তৈরি করে সাংবাদিক এবং সাধারন ব্লগারদের স্বাধীন কাজকর্মকে অপরাধের তকমা দিতে চেয়েছেন বলেও সে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।বাংলাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কতটা বিপদমুখী তা নিয়ে অ্যামনেস্টি তাদের রিপোর্টটি ঢাকাতেই প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন,কিন্তু এই মানবাধিকার সংগঠনের একাধিক কর্মকর্তা বাংলাদেশের ভিসা পাননি তাই তাদের প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করতে হল ভারতের রাজধানী দিল্লিতে। এই নিয়ে অ্যামনেস্টি আজ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে রাজি হননি কিন্তু নাম না প্রকাশ করার শর্তে বিবিসিকে তারা বলেন বাংলাদেশে স্বাধীন মতামত প্রকাশের পরিবেশ যে আদৌ নেই, এই ঘটনাই তা সহজ ভাবে দেখিয়ে দিচ্ছে। অ্যামনেস্টির রিপোর্টের মূল কথাটি কি বিবিসিকে সে প্রশ্নের জবাবে রিপোর্টের মূল লেখক ওলফ ব্লমকভিস্ট বলেছেন আমরা দেখেছি ২০১৪ সাল থেকে বাংলাদেশে সাধারন মানুষের মতামতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে জোরদার অভিযান চলছে। ব্লগারদের রক্ষা করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় তারা অসহায়ভাবে প্রাণ হারিয়েছেন। মিডিয়া আর সুশীল সমাজের ওপর ক্রমাগত বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। আর যেহেতু সরকারও চলছে কার্যত কোনও রাজনৈতিক বিরোধী দলকে ছাড়াই তাই তারা সমালোচকদের আক্রমণ করার জন্য কার্যত ঢালাও লাইসেন্স দিয়ে দিয়েছে।


অ্যামনেস্টির বাংলাদেশ গবেষক ব্লমকভিস্ট আরো মনে করেন বাংলাদেশে টানা বহু বছর ধরে একটা সংসদীয় গণতন্ত্র থাকলেও সেটা স্বাধীন মতপ্রকাশের রাস্তাকে আজও পরিষ্কার করতে পারছে না। রিপোর্টে বহু দৃষ্টান্ত দিয়ে তারা দেখিয়েছেন ঢাকাতে অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নাজিমুদ্দিন সামাদ আক্রান্ত হওয়ার পর কীভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেই হামলার দায় তার ওপরই চাপিয়ে দিয়েছেন। কিংবা খুনের হুমকি পাওয়া ব্লগারদের অভিযোগ পর্যন্ত পুলিশ নিতে চায় না। আর অ্যামনেস্টির মতে মুক্ত সাংবাদিকতাকে তো সরকার যেন একটা অপরাধ বলেই গণ্য করছেন। পরিস্থিতিতে আরও জটিল করে তুলেছে একগুচ্ছ ভীতিকর আইন।অ্যামনেস্টির দক্ষিণ এশিয়া ডিরেক্টর বিরাজ পট্টনায়ক বলছেন ঠিক ভারতের এফসিআরএ আইনের ধাচে বাংলাদেশও সম্প্রতি এফডিআরএ নামে একটি আইন প্রণয়ন করছে যাতে এনজিও গুলোর বিদেশি তহবিল পাওয়ার রাস্তা বন্ধ হয়। বাংলাদেশ ভারতের চেয়ে আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেছে কোন এনজিও যদি রাষ্ট্রের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন আচরণ করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আরো কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। একইভাবে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মাধ্যমেও সরকার যাদেরকেই প্রতিপক্ষ মনে করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পথ করা হচ্ছে। শুধু বাংলাদেশ নয় দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশই যেন পাল্লা দিয়ে এই ধরনের আইন তৈরি হচ্ছে।


রিপোর্ট প্রকাশের অনুষ্ঠানে অ্যামনেস্টি ইন্ডিয়ার প্রধান নির্বাহী আকার প্যাটেল প্রস্তাব দিয়েছেন, বাংলাদেশে যে সব সেকুলার প্রগতিশীল ব্লগার তাদের লেখালেখির কারণে বিপন্ন বোধ করছেন ভারতের উচিত হবে তাদের রাজনৈতিক আশ্রয় দেয়া।প্যাটেল বলছেন ভারত সরকারের নীতি হল প্রতিবেশী দেশগুলোতে যারা ধর্মীয় কারণে নির্যাতিত সেই ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের তারা আশ্রয় দেবে। কিন্তু এটা শুধু হিন্দু বা পার্সি শরণার্থীদের জন্যই কেন সীমাবদ্ধ থাকবে ? আমরা মনে করি একই যুক্তিতে ভারতের উচিত পাকিস্তানের আহমদিয়াদের বা বাংলাদেশের সেকুলার ব্লগারদের এই দেশে গ্রহণ করা উচিত। তবে এটা একটা সাময়িক সমাধানের পথ হলেও বাংলাদেশে যারা মুক্তচিন্তার চর্চা করছেন তাদের রক্ষা করার প্রাথমিক দায়িত্ব সে দেশের সরকারেরই এটাও অ্যামনেস্টি মনে করিয়ে দিয়েছেন। এবং তারা আরও বলেছেন এই ক্ষেত্রে ধর্মীয় সহিষ্ণুতা বা সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় আবেগে আঘাত লাগার দোহাই দিয়ে যে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে কিছুতেই আপস করা যাবে না।

সূত্রঃ বিবিসি
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা মে, ২০১৭ রাত ১:৪৯
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেয়ালের ছবি আর বই এর পাতায় আধিপত্য দেখে ! অথচ বন্দর আর কড়িডোরের অসম চুক্তিতে সব শিয়ালের এক রা॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:১২


দেশ বিক্রির পরীক্ষিত ঠিকাদার....



দেয়ালের ছবি দেখলেই ভারতীয় আধিপত্য, আর বন্দর বেচে দিলে নীরবতা কেন?

দেয়ালে একটা ছবি আঁকা দেখলেই যাদের মুখে ফেনা উঠে যায় - "বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কিন সেনা কর্মকর্তা কর্মকর্তার মেজর নিদাল্ল হাসানের মৃত্যুদণ্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



নিদাল হাসান (পুরো নাম: নিদাল মালিক হাসান) হলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন সাবেক মেজর এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist)।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে সংগঠিত এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×