somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রধানমন্ত্রী আজ তিনটি প্রাণের ঘাতক, শত-সহস্র ঘন্টার অপব্যয়কারিনী ধিক!! ধিক!! এ ধরনের রাজনৈতিক কালচারকে

২৭ শে মার্চ, ২০১১ রাত ১২:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একদিন একটি নিউজ পড়ে খুবই দুঃখ পেয়েছিলাম। যার সারমর্ম ছিল- কোন একটি স্কুলে একজন মন্ত্রীর আগমন উপলক্ষ্যে তাকে অভ্যর্থণা জানানোর জন্য চৈত্র মাসের রোদের মধ্যে দাড়িয়ে থাকতে বাধ্য করা হয়েছিল কয়েক’শ ছাত্রছাত্রীকে। এমন কি রোদের প্রকোপে অনেক শিক্ষার্থী চরমভাবে অসুস্থও হয়েছিল।এবং আমাদের দেশে এইটা একটা খুবই স্বাভাবিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি। কিন্তু মাত্র একজন মন্ত্রীর মনকে একটুখানি খুশি করার জন্য এমন ধরনের বর্বরোচিত কাহিনীর অবতারনা করার কি কোনই দরকার আছে?

আমাদের দেশের এমনই কিছু আবালমার্কা রাজনৈতিক সংস্কৃতির স্বীকার দেশের আবালমার্কা জনগন। আজ হয়তবা এই আবাল মার্কা সংস্কৃতির শিকার হয়ে প্রাণ হারাতে হল আমার এক বন্ধুর বাবাকে। আমাদের প্রধানমন্ত্রির আগমন উপলক্ষ্যে ঢাকা আরিচা মহাসড়ক প্রায় দুই হাত পরপর একেকটা গেট দিয়ে সাজানো হয়েছিল। কিন্তু আজকের সন্ধার ঝড়ের কারনে প্রায় অর্ধেক গেট রাস্তার উপরে পড়ে যায়। থেমে যায় হাজার হাজার গাড়ী। যার শিকার হয় আমার বন্ধুর মুমূর্ষ বাবাকে বহন করা এ্যাম্বুলেঞ্চটি। জ্যামে আটকা পড়ে রাস্তায়ই প্রাণ হারান তিনি। আমি বন্ধুকে শান্তনা দিতে পারছিলাম না। ওর একটাই কথা “বাবাকে হয়ত সঠিক সময়ে হাসপাতালে নিলে আমাকে বাবাহীন সন্তান হতে হতনা”। এছাড়াও শুনলাম আরো দুইজন নাকি ঐ সকল গেট ভেঙে পড়ে মারা গেছেন।

ক্ষমতাশীন সরকার একটা দিবস পাইলেই রাস্তা সাজানোর প্রতিযোগীতায় লিপ্ত হয়। সাথে যুক্ত হয় আমাদের প্রধানমন্ত্রী সহ হাজার হাজার চেলা, পুটি মার্কা নেতাদের নামের আর ছবির বিজ্ঞাপন। মনে হয় ব্যানারের কোন চিপায় পুটিমার্কা নেতাদের নাম বা ছবি থাকা মানেই সে পুটি থেকে তিমি মাছ হয়ে যাবে। আজকের ২৬ শে মার্চ উপলক্ষ্যে কয়েক লাখ টাকা খরচ মহাসড়ক সাজানো হয়েছিল। যে দেশের মানুষ দুই বেলা ভালোমত খাইতে পারেনা সে দেশে এত হুদাই সাজসজ্জার কতটুকু প্রয়োজন আছে সেটা একবার ভাববার বিষয়।

প্রধানমন্ত্রিকে বলছি, আমার বন্ধুর বাবার কপালে হয়ত মৃত্যুর লেখা ছিল তাই তিনি মারা গেছেন। কিন্তু আজকে রাস্তার এই অবস্থার কারণে যে অন্য যে দুটি প্রাণ নিভে গেল আপনি কি পারবেন এই প্রাণগুলিকে ফিরিয়ে দিতে? আপনি কি পারবেন জ্যামে আটকে থাকা হাজার হাজার যাত্রীর হাজার হাজার ঘন্টার সময়ের মুল্য দিতে? আপনি কি পারবেন অসংখ্য অসুস্থ মানুষের অসহ্য যন্ত্রণা ফিরিয়ে নিতে?............................
১৭টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গল্পঃ প্রত্যাবর্তন

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৮ ই জুন, ২০২৬ ভোর ৬:৪৪


চন্দ্রা পশ্চিমের বারান্দায় উদাস হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।আকাশে ছড়ানো ছেটানো  মেঘ, সেই মেঘের মতই তার মনটা আজ  বিক্ষিপ্ত ।
ইদানীং মা কি সব সন্দেহ করে তাকে।অকারণই মনে হয় তার কাছে। তারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যুদ্ধে কেউ জয়ী হয়না, যুদ্ধ বন্ধ হলে মানবতার জয় হয়।

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৩

যুদ্ধে কে জয়ী হয়েছে?

আমার উত্তর খুব সহজ- কেউ না।
যুদ্ধের প্রকৃত বিজয়ী বলে কেউ থাকে না। যুদ্ধ যখন শুরু হয়, তখন শুধু সৈনিক নয়; মায়ের বুক খালি হয়, শিশুর ভবিষ্যৎ ভেঙে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ষো-ল-ব-ছ-রঃ আর কি বর্ষপূর্তি পোস্ট লেখা হবে?

লিখেছেন আমি তুমি আমরা, ১৮ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:০৬



অবাক হয়েই চেয়ে দেখি
কখন এমন হলো?
এইতো আমার ব্লগবাড়ীটার
বয়স হল ষোল।

দুরুদুরু বুকে তখন
খুলেছিলাম ‘নিক’।
ফেলতে পলক, পেরিয়ে গেল
ষোল বছর ঠিক।

ফেসবুক আর ইউটিউবের
আছড়ে পরে ঢেউ।
সামুপাড়ায় এখন কি আর
উঁকি মারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কটা দুলাল

লিখেছেন শেরজা তপন, ১৮ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪১



বাল্য বন্ধু শফির ফোন পাইলেই টেনশনে থাকি। কোন একটা দুঃসংবাদ নিশ্চিত। আর সেটা যদি হয় সকাল বেলা তবে তো কথাই নেই। যদিও আমাদের মধ্যে আন্তরিকতার ঘাটতি নেই মোটেও তবুও... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন পর্ব -১

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ১৮ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫২



(শালবন ভ্রমণ)
২০১২ সাল। সদ্য পাশ করে বের হয়েছি। কঠিন সময় পার করছিলাম। এদিক-সেদিক স্টেজ শো করে যে পেমেন্ট পেতাম, বাড়িতে ফিরতে ফিরতেই প্রায় শেষ হয়ে যেত। সকালে মায়ের হাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×