আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় কোচিং একটি বিষফোঁড়া। এই বিষফোঁড়া এর মাঝে সব চেয়ে খারাপ হচ্ছে ভর্তি কোচিং। লক্ষ লক্ষ ছেলে মেয়ের অসহায়ত্ব এর সুযোগ নিয়ে কিছু সুবিধাবাদী মানুষ কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে মাত্র ৩/৪ মাস এর মাঝে। এই কোচিং নিয়ে কত ঘটনা আমাদের দেখতে হয়েছে,হচ্ছে।কেবল কোচিং ব্যবসা বন্ধ করার জন্য পুরো মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা উঠিয়ে দেবার মত ঘটনা দেখার দুর্ভাগ্য আমাদের হয়েছে।
বর্তমান যুগ বিজ্ঞান প্রযুক্তির যুগ, ইন্টারনেট এর যুগ।এখন আমরা স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি এর বিখ্যাত শিক্ষকদের লেকচার পাচ্ছি বাংলাদেশের গ্রামে বসে। শ্রদ্ধেয় রাগিব হাসান ভাই বাংলায় উচ্চশিক্ষা্র জন্য শুরু করেছেন শিক্ষক ডট কম।
আমরা কি পারি না এই রকম কোন সাইট শুরু করতে যেখানে আমাদের ছোট ভাইবোনরা অনলাইনে পাবে ভর্তি পরিক্ষার সকল কিছু যা কোচিং গুলো দিয়ে থাকে। যদি আমাদের শিক্ষার্থীরা ঘরে বসে কোচিং এর সুবিধাগুলো পায় আমার মনে হয় তারা আর মানসিক ভাবে বাধ্য হবে না কোচিং করতে।কোচিংগুলো ছাত্রছাত্রী দের কি সুবিধা দেয় একটু দেখা যাকঃ
১। লেকচার শিট, গাইড , বিগত অনেক বছর এর প্রশ্ন পত্র
২। লেকচার শিট এর উপর ক্লাস লেকচার
৩। ছোট বড় প্রস্তুতি পরীক্ষা
৪। কিছুটা দিক নির্দেশনা
এখন দেখা যাক, অনলাইনে কতটুকু সাহায্য করা যাবে ছাত্র-ছাত্রীদের।
১।লেকচার শিট, গাইড , বিগত অনেক বছর এর প্রশ্ন পত্র ফ্রি ডাউনলোড।বই আকারে বিক্রির ব্যবস্থা করা যায় যাতে যাদের পক্ষে সারাক্ষণ ইন্টারনেটে থাকা সম্ভব না তারা পড়তে পারে।
২। ক্লাস লেকচার এর বিকল্প হিসাবে ভিডিও লেকচার এবং তা হবে বিভিন্ন ইউনিভার্সিটি এর ভাল ছাত্র দের লেকচার।
৩। পরীক্ষা বা মডেল টেস্ট এর বিকল্প হিসাবে আমরা অন লাইন পরীক্ষা ব্যবস্থা করতে পারি। কারণ কেবল ইঞ্জিনিয়ারিং ছাড়া মোটামুটি সব ভর্তি পরীক্ষা OMR ।OMR পদ্ধতি সহজেই অনলাইনে ব্যবস্থা করা যায়।ইঞ্জিনিয়ারিং এও কম পক্ষে ৫০% OMR।
ডাটাবেস থাকবে যেখানে পরীক্ষার্থীদের ডাটা সংরক্ষণ করা হবে যাতে যে কেউ দেখতে পারে আসলেই সে অন্যদের তুলনায় কেমন করেছে। এতে সারা দেশ এর পরীক্ষার্থীদের মাঝে তার অবস্থান কেমন সে বুঝবে।
যে মেডিকেল পরীক্ষা নিয়ে এত কিছু,তার পুরো প্রস্তুতি পর্যায়কেই অনলাইন করা যায় কারণ এখানে ১০০% OMR। পরীক্ষার্থীরা অনলাইনে ছোট বড় প্রস্তুতি পরীক্ষা দিবে এবং সাথে সাথে মার্ক দেখতে পাবে।
৪। বাকি থাকল দিক নির্দেশনা। এর জন্য অনলাইন এর চেয়ে ভাল মাধ্যম মনে হয় কিছু হতে পারে না।
আমাদের দেশে ইন্টারনেট এখন দ্রুত প্রসার লাভ করতেছে। আশা করা যায়, আগামী ৩/৪ বছরে ইন্টারনেট আরও সহজ লভ্য হবে। এই রকম একটি ব্যবস্থা কি আমাদের বিশাল সংখ্যক ছাত্রছাত্রীদের কিছুটা হলেও উপকার করবে না?
কোচিং হয়ত বন্ধ করা যাবে না।কিন্তু আমরা কি ছোট ছেলে-মেয়েগুলোকে বিকল্প পথ দেখাতে পারি না? যাদের ঢাকা থাকা সমস্যা, যাদের অর্থ সমস্যা তাদের কি কাজে আসবে না?
আগামী বার আমার ছোট বোন ভর্তি পরীক্ষা দিবে।আমাদের বাসা নারায়ণগঞ্জ। ঢাকা এসে কোচিং করা আসলেই খুব কঠিন ওর জন্য।এই সব নিয়ে ভাবতে ভাবতে এই চিন্তা মাথায় আসল।
আমি সবার মতামত আশা করতেছি।
[ আমার লেখা প্রথম ব্লগ।ভুল হলে ক্ষমাপ্রার্থী]

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


