somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মহাবংশের গল্প

১০ ই ডিসেম্বর, ২০২১ বিকাল ৪:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



মহাবংশ বৌদ্ধ ধর্মের প্রাচীন একটি বই। বর্তমানে এই বইটি আমি পড়ছি। বইটির নাম আমি পেয়েছি চার্লস এলেনের আশোকা বই এর রেফারেন্স থেকে। বৌদ্ধ ধর্ম সম্পর্কে আমি হিন্দু ধর্ম থেকে কম জানি, অথবা বলতে গেলে প্রায় কিছুই জানিনা। তবে ধর্ম গ্রন্থের রূপকথা পড়তে আমার ভাল লাগে। এর মাধ্যমে সে সময়কার জীবন চিত্রের কিছু রূপ মানষপটে ভেসে উঠে। মহাবংশ বইটিতে শ্রীলংকার রাজবংশের প্রতিষ্ঠা হবার গল্প পাওয়া যায়। শ্রীলংকার রাজবংশ প্রতিষ্ঠার গল্পের আরো চারটি ভিন্ন ভিন্ন ভার্শন রয়েছে। যার মধ্যে দ্বীপবংশ বই এবং মহাবংশ বই এ প্রথম রাজার নাম বিজয় , এবং বাকী দুই গ্রন্থে অন্য নাম রয়েছে। উল্লেখ্য যে দ্বীপবংশ বই টি মহাবংশ থেকেও প্রাচীন। এবং মহাবংশ বইয়ে প্রচুর জাদুমন্ত্র ভেল্কীবাজী এসবের উল্লেখ রয়েছে। মহাবংশ বইয়ের ছয় নম্বর অধ্যায় থেকে বিজয়ের গল্প শুরু হয়। এর আগের অধ্যায় গুলোতে প্রথ তিনটি বৌদ্ধ সম্মেলন কিভাবে এবং কেন সংঘটিত হয়েছিল তার বর্ননা আছে, যা খুব একটা ইন্টারেস্টিং নয়, শুধুমাত্র আশোকের পার্ট টুকু ছাড়া। সেই পার্টেও প্রচুর ভেল্কীবাজি রয়েছে। তা পরে আর কোন দিন আলাপ করা যাবে। আজ বিজয়ের গল্প আরম্ভ করছি।

বিজয়ের লংকায় আগমন
একদা বংগদেশে এক রাজা ছিলেন। রাজার রানী ছিলেন কলিংগ ( ওরিষ্যা) দেশের রাজকন্যা। তাদের এক কন্যা সন্তান জন্ম গ্রহন করে। সেই কন্যা সন্ত্যান জন্ম গ্রহন করার সময় দৈব বানী হয় যে এই কন্যা সিংহ ভোগ্যা হবে। তাই তার বাবা মা ত্তাকে কঠোর নিরাপত্তায় বন্দী রাখতেন। কিন্তু কন্যা ছিলেন স্বাধীনচেতা। তাই তিনি যৌবনবতী হবার সাথে সাথে রাজ্য থেকে পালালেন এবং মগধগামী এক বণিক কাফেলার সাথে দেশ বিদেশ ঘুরতে বের হলেন।
পথে সেই কাফেলা সিংহ দ্বারা আক্রান্ত হয়, এবং সেই কাফেলা সেই রাজকন্যাকে ফেলেই পলায়ন করে। সিংহ সেই রাজকন্যাকে খাবার উদ্দ্যেশ্যে বন্দী করেন। রাজকন্যা সেখান থেকেও পলায়ন করেন কিন্তু পথিমধ্যে সেই সিংহ রাজকন্যাকে আবার ধরে ফেলে এবং বন্দি করে। এবার সেই রাজকন্যার জন্মের সময়ের সেই দৈব বানী মনে পড়ে এবং সে সিঙ্ঘের হাতে নিজেকে সমর্পীত করে। সিংহ তাহে নিজের গুহায় নিয়ে যায় এবং তাদের মিলনে এক ছেলে ও এক মেয়ের জন্ম হয়। ছেলেটির নাম রাখা হলো সীহবাহু এবং মেয়েটির নাম রাখা হলো সমবলী। সীহবাহুর গায়ে অনেক শক্তি। সে তার মাকে জিজ্ঞেস করল যে তারা এই গুহার ভেতরে বন্দি কেন, তখন তাদের মা বললো যে তাদের বাবা একজন সিংহ এবং সেই সিংহ তাদের এই গুহার মুখে পাথর দিয়ে আটকে রেখেছে। তখন সীহ বাহু সেই পাথর তার হাত দিয়ে সরিয়ে দিল। এবং মা বোনকে নিয়ে পলায়ন করলো এবং এক গ্রামে আশ্রয় নিল। গ্রামবসী দয়াপরবশ হয়ে তাদের কাপর চোপড় এবং খাবার দিল। তারা সেই খাবার হাত দিয়ে ধরার সাথে সাথেই তা অনেক ভাল খাবারে পরিনত হলো, সেই কাপড় গায়ে পরার সাথে সাথেই তা মূল্যবান কাপড়ে পরিনত হলো। সেই দেশের রাজা দয়াপরবশ হয়ে সেই রাজকন্যা এবং তার পূত্র কন্যাকে আশ্রয় দিলেন।
এদিকে সেই সিংহ তার পুত্র কন্যা পলায়ন করেছে দেখে রাগে আশেপাশের গ্রামে হামলা করতে লাগলো । তখন গ্রামবাসীরা রাজার কাছে বিচার দিল। তাই রাজা ঘোষনা করলেন যে সে এই সিংহ কে হত্যা করতে পারবে তাকে অর্ধেক রাজত্ব ও অনেক ধনসম্পদ দেয়া হবে। অনেকেই চেস্টা করলো এবং বিফল হলো , অবশেষে সিহবাহূ এই সিংহ কে হত্যা করতে রাজী হলেন। সীহবাহুর মা তাকে অনেক বোঝালেন এবং বললেন যে পিতৃহত্যা মহা পাপ কিন্তু সীহবাহু তার মায়ের অপমানের প্রতিশোধ নিতে চাইলেন।

ওরে বাবা অনেক লম্বা লেখা হয়ে যাচ্ছে , সীহবাহু সেই সিংহ রূপী বাপকে হত্যা করত্রে পারলো কিনা, সেই লিখা পরে আর কোনদিন লিখবো। আজ এই পর্যন্তই। হাত ব্যাথা করতেছে
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই ডিসেম্বর, ২০২১ বিকাল ৫:৩০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাল হাদাদ (Baal Hadad): প্রাচীন নিকটপ্রাচ্যের ঝড়দেবতা, রাজশক্তি ও ধর্মীয় ইতিহাসের এক বিস্তৃত বিশ্লেষণ (পর্ব–২)

লিখেছেন রাকিব আর পি এম সি, ২১ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:০১

অধ্যায় ৫ : হারিয়ে যাওয়া নগরীর প্রত্যাবর্তন — কীভাবে উগারিত আবার পৃথিবীর সামনে ফিরে এল

চিত্র ৩: প্রাচীন উগারিত নগরীর একটি শিল্পসম্মত পুনর্নির্মাণ (আনুমানিক খ্রি.পূ. ১৪০০–১২০০)

১৯২৮ সালের বসন্তে সিরিয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৭ জুনে বিয়ে, অথচ ২২ জুনের সিভিতে ‘অবিবাহিত’? এমপি সাহেবের এই গণিত কে মেলাবে?

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২১ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৮



ধরা খাইলেই “দ্বিতীয় বিবি”! কিন্তু ১৭ জুনের বিয়ার পর ২২ জুনের সিভিতে মাইয়া 'আনম্যারিড' থাকে কেমনে?
সাতক্ষীরার এমপি সাবের এই ভণ্ডামির জট ছাড়াইতে পারবেন তো, নাকি এআই (AI) এর ওপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আজ খুশি ভাগ করতে এসেছি=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২১ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:০৫



আসসালামু আলাইকুম। শুভ সন্ধ্যা। কেমন আছেন সবাই?

আলহা গত বৃহস্পতিবার আমি প্রমোশন পেয়েছি। অতিরিক্ত পরিচালক (৪র্থ গ্রেড)। খুশির সংবাদ জানাতে দেরি করে ফেলেছি সরি।

আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন, যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি 2G এর আমলে ফিরে যেতে চাই।

লিখেছেন ইমরোজ৭৫, ২১ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:২০


আমি 2G এর আমলে ফিরে যেতে চাই। ইন্টারনেট এর স্পিড খুবই কম। ফেসবুকে কেউ ভাইরাল হতে আসবে না। অল্প লেখায় নিজের মনোভাব ফেসবুকে পোস্ট করবে। কেউ আর পাকনা পাকনা কথা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জামায়াতের দ্বিচারিতায় পরিপূর্ণ রাজনীতি

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ২২ শে জুলাই, ২০২৬ ভোর ৫:২৮


১৯৪১ সালে ব্রিটিশ ভারতের লাহোরে ইসলামী চিন্তাবিদ সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদূদী ‘জামায়াতে ইসলামী’ গঠন করেন। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর এটি ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×