somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জামায়াতের দ্বিচারিতায় পরিপূর্ণ রাজনীতি

২২ শে জুলাই, ২০২৬ ভোর ৫:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


১৯৪১ সালে ব্রিটিশ ভারতের লাহোরে ইসলামী চিন্তাবিদ সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদূদী ‘জামায়াতে ইসলামী’ গঠন করেন। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর এটি ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। আকিদাগতভাবে অন্যান্য ইসলামি দলের সাথে পার্থক্য আছে জামায়াতে ইসলামীর। ইসলামী আন্দোলন ও হেফাজত তো দলটাকে তো ইসলামী দল হিসেবেই মানে না। তারপরও বলতে হবে বাংলাদেশে সবচেয়ে শক্তিশালী ইসলামী দল।

জামায়াত ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠারও বিরোধিতা করে। শুধু তাই না, নিজস্ব বাহিনী গঠন করে পাকবাহিনীকে সহায়তা করেছে। খুন, ধর্ষণ ও লুটপাটে তাদের সহায়তা করেছে। অথচ এরাই এখন সবচেয়ে বড় দেশপ্রেমিক সাজে। পাকিস্তান ভাঙা ভুল ছিল বারবার বলেও তারা দেশপ্রেমিক। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তীতে তো তারা পুরোপুরি ফর্মে আছে। শোনা যায় তাদের ক্ষমতায় আনতে ডিপস্টেটের প্রচেষ্টা ছিল। যদিও সেটা সম্ভব হয়নি।

জামায়াতে ইসলামের শীর্ষ স্থানীয় নেতারা দলটির রাজনীতির সঙ্গে নিজেদের সন্তানদের যুক্ত হতে দেন না। এমনকি তাদের সন্তানদের মাদ্রাসার শিক্ষাও দেন না।

সদ্য জামায়াত ত্যাগ করা জামায়াতের জনৈক রুকন লিখেছেন, জামায়াতে ইসলামীর ব্যাপারে আমার প্রথম আপত্তি: ‘ইসলামী দল’ কিন্তু নেতৃত্বে আলেম নেই, সন্তানদের গন্তব্য পাশ্চাত্য! এরা সাধারণ মানুষকে দ্বীন কায়েমের আবেগ দেখিয়ে দলে টানে। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, এদের মূল নীতিনির্ধারণী বা শীর্ষ নেতৃত্বে কোনো প্রকৃত ও বরেণ্য আলেম নেই। দল চালায় মূলত কর্পোরেট ধাঁচের কিছু চতুর রাজনীতিবিদ।

সবচেয়ে বড় দ্বিচারিতা হলো, যে পশ্চিমা শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে এরা দিনরাত গালমন্দ করে, নিজেদের সন্তানদের কিন্তু তারা আলেম বানাতে মাদ্রাসায় পাঠায় না। নেতাদের সন্তানেরা পড়ে দেশের সবচেয়ে দামি ইংরেজি মাধ্যমে এবং উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমায় সেই ইউরোপ-আমেরিকায়, যাদের এরা ‘ইসলামের শত্রু’ বলে গালি দেয়।

যেমন: গোলাম আজম (সাবেক আমির): পশ্চিমা শিক্ষা ও সংস্কৃতির কট্টর সমালোচক ও ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থার প্রবক্তা। অথচ উনার ছেলেদের প্রায় সবাই যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন পশ্চিমা দেশে উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন এবং সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। এদের কেউ প্রচলিত ধারার মাদ্রাসায় পড়েননি।

মতিউর রহমান নিজামী (সাবেক শীর্ষ নেতা): স্যেকুলার শিক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আজীবন কড়া বক্তব্য দিয়েছেন। কিন্তু উনার সন্তানরা পশ্চিমা এবং আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত। উনার এক মেয়ে ঢাকার নামী ইংরেজি মাধ্যম স্কুল থেকে পড়াশোনা করে পরবর্তীতে বিদেশে থিতু হয়েছেন।

দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী (সাবেক নায়েবে আমির): উনার ওয়াজ বা বয়ানের মূল ভিত্তিই ছিল পশ্চিমা সংস্কৃতির ধ্বংসাত্মক রূপের সমালোচনা করা। অথচ উনার ছেলেরা আধুনিক ব্যবসায়িক ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত। উনার নাতি-নাতনিরা দেশের নামী ইংলিশ মিডিয়ামে পড়েছেন এবং বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য গেছেন।

বর্তমান শীর্ষ নেতৃবৃন্দ: বর্তমানের শীর্ষ ও সমমনা দলগুলোর কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরার অধিকাংশ নেতার সন্তানরা মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ, এমবিএ বা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছেন।

এই দ্বিচারিতা থেকে আমার উপলব্ধি: এ কেমন ইনসাফ? সাধারণ মানুষের সন্তানরা রাজপথে আবেগ বিলিয়ে দেবে, হামলা-মামলার শিকার হয়ে জীবন ধ্বংস করবে, আর নেতাদের সন্তানেরা পাশ্চাত্যের বিলাসবহুল স্যেকুলার জীবন উপভোগ করবে—এ কেমন ইসলামী ইনসাফ? যে শিক্ষা ব্যবস্থা নেতাদের নিজেদের সন্তানদের জন্য “উত্তম ও ক্যারিয়ার গড়ার মাধ্যম”, সেই একই শিক্ষা ও সংস্কৃতি সাধারণ মানুষের জন্য কেন “জাহেলিয়াত” হবে?

মূল কথা হচ্ছে ধর্মের ফতোয়া এবং দ্বীন কায়েমের এই আবেগ এদের কাছে কেবলই সাধারণ মানুষকে সম্মোহিত করে রাখার একটি হাতিয়ার। মূল লক্ষ্য ক্ষমতার অংশীদার হওয়া এবং নিজেদের আখের গোছানো। এদের এই মুখোশটা চিনে রাখা প্রতিটি সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব।

এ অভিযোগ শুধু বাংলাদেশের জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধেই নয়, জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা আবুল আ’লা মওদূদীর বিরুদ্ধেও রয়েছে। তাঁর নয় সন্তানের মধ্যে একজনকেও তিনি জামায়াত কিংবা এর ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করেননি। মওদূদীর সন্তানেরা পড়েছেন পশ্চিমা আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থায়। মওদূদীর নাতনি সোফিয়া ফারুক মওদূদী আমেরিকান রিপাবলিক পার্টির নেত্রী। ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নির্বাহী সভাপতি শাহরিয়ার কবিরের নির্মিত “জিহাদ উইদাউট বর্ডার” নামের এক তথ্যচিত্রে উঠেছে এসেছে এ সত্য।

জানা যায়, ওই তথ্যচিত্রে একটি সাক্ষাৎকারে আবুল আলা মওদুদীর ছেলে সৈয়দ হায়দার ফারুক মওদূদী ধর্মীয় রাজনীতির নামে জামায়াতের ভণ্ডামীর নানা ঘটনা তুলে ধরেন। সৈয়দ হায়দার ফারুক বলেন, আমার বাবা আবুল আ’লা মওদূদী জামায়াতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা। কিন্তু আমার কোনো ভাইবোন জামায়াত বা এর ছাত্র সংগঠন তুলাবা ইসলামিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকেননি। আমাদের পরিবারের সদস্যরা জামায়াত ও তার ছাত্র সংগঠনের ধারে-কাছেও যায়নি, এমনকি আমরা সমর্থকও ছিলাম না।

যদি আমার বাবা জামায়াতের কোনো মিটিংয়ের আশপাশে আমাদের দেখতেন তখন তিনি আমাদের বলতেন, তোমরা এখানে এসেছ কেন? তিনি সব সময় আমাদের জামায়াত থেকে দূরে রাখতেন। তিনি জামায়াত থেকে সব সময় এমনভাবে আমাদের আলাদা রাখতেন যেন জামায়াত ইসলাম হেরোইনের মতো ড্রাগ। আর ড্রাগ ভরা এ ব্যাগ বাড়ির বাইরে কোথাও লুকিয়ে রাখতে হবে। বাবা তাঁর সব রাজনৈতিক দর্শন বাড়ির সদস্যদের থেকে দূরে রাখতেন।

মওদূদীপুত্র হায়দার ফারুক আরো বলেন, আমরা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়েছি। আমাদের সঙ্গে জামায়াতের রাজনীতির কোনো সম্পর্ক ছিল না। আমাদের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাজীবনের কোনো সময় জামায়াত অথবা তার ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। এমনকি জামায়াতকে আমরা ভালো রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবেও মনে করতাম না। কারণ তাদের ভণ্ডামি আমরা কাছ থেকেই দেখেছি।

সৈয়দ হায়দার মওদূদী তাঁর সাক্ষাৎকারে বলেন, একদিন মাওলানা আজাদ আমাদের এখানে আসেন। তিনি আমার বাবাকে জিজ্ঞেস করলেন, আমি শুনেছি তুমি নাকি একটি ইসলামিক পার্টি গঠন করতে যাচ্ছ? বাবা উত্তরে ‘হ্যাঁ’ বললে মাওলানা আজাদ জামায়াতে ইসলামের খসড়া গঠনতন্ত্র দেখতে চান। খসড়া গঠনতন্ত্রটি মাওলানাকে দেওয়া হয়। তিনি তা পড়েন এবং এ বিষয়ে পরে আলাপ করবেন বলে বাবাকে জানান।

মাওলানা আজাদ দুই দিন পর আবার ফিরে আসেন। তিনি আমার বাবাকে জামায়াতের গঠনতন্ত্র সম্পর্কে বলেন, এর আলোকে পার্টি গঠন করা হলে এটি একটি ফ্যাসিবাদী পার্টি হবে। আমি তোমাকে অনুরোধ করছি, তুমি জামায়াতে ইসলামী তৈরি করার চিন্তা বাদ দাও। এসব অপ্রয়োজনীয় কাজ। আমি বিভিন্ন সময় অনেক কিছু করার চেষ্টা করেছি। এমনকি বেড়াল-কুকুরও এক সঙ্গে থাকে। কিন্তু ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলো কখনো এক হয় না। তুমি তাদের ঐক্যবদ্ধ করে কিছুই করতে পারবে না।

মওদূদীর পরতে পরতে ছিল ভণ্ডামি আর চাতুর্য। ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত হয়ে ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্র গড়ে ওঠে ১৯৪৭ সালে। এ সময় পাকিস্তানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিলেন মওদূদী। এ প্রসঙ্গে তাঁর ছেলে বলেন, আমার বাবা পাকিস্তানের বিরোধিতা করেছিলেন। পাকিস্তানের ব্যাপারে আমার বাবা বলতেন, পাকিস্তান একটি নাপাক, অপবিত্র ভূমি। মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ সম্পর্কে তিনি বলতেন, যে তাঁর ছয় ফুটের শরীরে ইসলাম কায়েম করতে পারে না, সে কি করে সারা দেশে ইসলাম কায়েম করবে? কিন্তু পাকিস্তান কায়েম হওয়ার পর সুর পরিবর্তন করে ফেলে তিনি বলেন, আমরাই পাকিস্তান বানিয়েছি। আল্লামা ইকবাল, জিন্নাহ ও মাওলানা মওদুদী পাকিস্তান বানিয়েছেন।

পাকিস্তানে তালেবানদের বিস্তার প্রসঙ্গে সৈয়দ হায়দার মওদূদী বলেন, একটা সময় আফগানিস্তানে রাশিয়ার অবৈধ অনুপ্রবেশের অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্রও সেখানে তাদের নাক গলাতে শুরু করে। ওসামা বিন লাদেনকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই তৈরি করেছে। লাদেন মার্কিনিদের কেনা গোলাম ছিল। এখানকার সব ধর্মীয় গ্রুপ যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে দাঁড়ায়। কিন্তু আফগানিস্তানের জেহাদ শেষ হওয়ার পর জামায়াতের আমির (১৯৭২ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত) মিয়া তোফায়েল মোহাম্মদ এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, কী ঘটতে পারে সে সম্পর্কে আমাদের ধারণা না থাকার কারণে আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বারা ব্যবহৃত হয়েছি।

তবে বিষয়টি কেবলই না জানার নয় বলে মন্তব্য করেন মওদূদীপুত্র। তিনি বলেন, প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে সে সময় যুক্তরাষ্ট্র থেকে অজস্র ডলার নিয়েছে পাকিস্তানের জামায়াতে ইসলাম। এই ডলারের জোরেই সব জেনে-বুঝেও তারা চোখ ও মুখ বন্ধ রেখেছিল।

জামায়াতের নেতারা জান্নাত পাবার আশায় আপনার সন্তানকে মাদ্রাসায় পড়তে বলবে কিন্তু, নিজেদের সন্তান-সন্ততিদের ইসলামি শিক্ষা / ইসলাম থেকে যোজন যোজন মাইল দূরে রাখবে। প্রত্যেকের সন্তান আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে আমেরিকা বৃটেনের নাগরিকত্ব নিয়ে সেখানে বসবাস করছে আর এরা বাংলাদেশে ধর্মের দোকান দিয়ে ব্যবসা খুলে বসেছে। জি/হা/দ আর ইসলাম প্রতিষ্ঠার নাম করে আপনার সন্তানের জীবন বিপন্ন করছে। এদের চরিত্র দ্বিচারিতায় পরিপূর্ণ।

সোমবার (২০ জুলাই) সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলামের একটি হোটেল কক্ষে তরুণীর সাথে অবস্থানের ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজ অথবা ভিডিওটি তো সবাই দেখেছেন। ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হয়, এটি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা। তবে ভাইরাল ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি নয়, বরং তা আসল বলে জানিয়েছে তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ‘দ্য ডিসেন্ট’ ও ‘রিউমর স্ক্যানার’।

এদিকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেছেন, ভিডিওতে দেখা যাওয়া ওই তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। লিখিত এক বিবৃতিতে গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেন, হিংসা ও ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে তাদের স্বামী-স্ত্রীর ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে ও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

গাজী নজরুল ইসলাম বিবৃতিতে আরো বলেন, গত ১৩ জুলাই আমার প্রথমা ও দ্বিতীয় স্ত্রী, যথাক্রমে মাকছুদা বেগম ও মরিয়াম বেগমকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতা মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক অফিসে যাই। সেখানে আমরা আনুমানিক সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করি।

বিবৃতিতে সংসদ সদস্য বলেন, আমরা উক্ত অফিসে অবস্থানকালে জোহরের নামাজ আদায়ের পূর্বে আমার গাড়িচালক ও আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ গাড়ি দেখার কথা বলে বাইরে যায়। পরবর্তীতে সে ৫/৭ জন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে আমাদের কক্ষে প্রবেশ করে এবং আমাদের জিম্মি করে ১ লাখ টাকা আদায় করে। আমি চলাচলের জন্য যে ভাড়া গাড়িটি ব্যবহার করি, ওবায়দুল্লাহর যোগসাজশে পরবর্তীতে সেটিও আটকে রেখে দফায় দফায় আমাদের কাছে

কয়েক লাখ টাকা দাবি করা হয়। আমরা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। আমি এসময় জানতে পারি, আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতা মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর পূর্বশত্রুতা ও পারিবারিক বিরোধের জের ধরেই এই ষড়যন্ত্রের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

নাটক খারাপ না, ১৮ বছরও হয়নি এমন তরুণী তারচেয়ে ৫৭ বছরের বড় একজনকে বিয়ে করেছে। সেটা অবশ্য করতেই পারে লোভে পড়ে অথবা ভয়ে। তবে ভিডিওতে আবার সময় দেখা যায় ২০২৩ সালের। সেটা হলেও বিপদ। মেয়েটি নাবালিকা।

বর্তমানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে আর বিএনপি-জামায়াত জোটবদ্ধ থাকলে ঘটনাটা মনে হয় ধামাচাপা দেওয়া সহজ হতো। মামুনুল যেমন শহিদুল ভাইয়ের বউকে নিয়ে রিসোর্টে গিয়ে মানবিক বিয়ের গল্প ফেঁদেছিলেন, এই গাজী নজরুলও এই গল্প ফাঁদতে পারতেন। যদিও চেষ্টা করেছেন, তবে নাটক ঠিকমতো জমানো যায়নি।

দেখা যাক ঘটনার প্রতিক্রিয়া কী দেখায় জামায়াত। জানা যাচ্ছে, তারা নাকি তদন্ত করছে। তদন্ত চলাকালীন পরিমনির সাথে রাত কাটিয়ে পুলিশের মেধাবী এসপি সাকলাইন চাকরি হারালেন সম্প্রতি, নজরুল সাহেবের সাথে কী হয় সেটা দেখতে আমরা আপাতত পপকর্ণ নিয়ে গ্যালারিতে বসলাম।

ছবি ও তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট, ফেসবুক ও জাতীয় পত্রিকা
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জুলাই, ২০২৬ ভোর ৫:২৯
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অবশেষে শেষ হলো! কিন্তু তিনি ফিরবেন কবে?

লিখেছেন ঋণাত্মক শূণ্য, ২০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩৫

আমি সর্ব প্রথম আগ্রহ নিয়ে ফুটবল ওয়ার্ল্ডকাপ দেখেছিলাম ১৯৯৮ তে। তখন আমি ক্লাস ৮এর ছাত্র।



আমার বড় ভাইয়ের তখন ফ্রান্সে যাবার কথা আমার আম্মার এক আত্মীয়ার বরের ব্যবসা ছিলো ফ্রান্সে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অহনার কীর্তিকলাপ, কিংবা পাগলামি, কিংবা ভালোবাসা

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২১ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১:২১

অহনা খুব জ্বালাতন করতো, অর্থাৎ খুব জ্বালাত,
বা বিরক্ত করতো আমাকে, যেমন, হঠাৎ হঠাৎ মাঝরাতে
মোবাইলে কল করে বলতো, ‘তুই যে ঘুমিয়েছিস, ঘুমানোর
আগে কি আমার কথা ভেবেছিস? বল, কতবার ভেবেছিস?
তাহলে একবার... ...বাকিটুকু পড়ুন

FIFA বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ এর ফাইনাল খেলা নিয়ে আমার সামান্য কিছু কথা

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২১ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ৯:২৮

গতকালের FIFA বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ এর ফাইনাল খেলায় মেসি অত্যন্ত নিষ্প্রভ ছিলেন। দর্শকদের তাকে মাঠে খুঁজতে হয়েছে, তিনি তার চিরাচরিত স্বভাব অনুযায়ী এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে, মাঠের সর্বকোণে বল... ...বাকিটুকু পড়ুন

চেতনা, ৭১ , পাকিস্তান ঘৃনা ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২১ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:০৫


যুদ্ধে ক্ষতবিক্ষত বাংলাদেশ ও যুদ্ধবিধ্বস্ত ভিয়েতনাম দুটো দেশের অর্থনৈতিক যাত্রা শুরু হয় প্রায় একই সময়ে কিন্তু তুলনামূলক ভিয়েতনামের চেয়ে বাংলাদেশের অবস্থান অনেক ক্ষেত্রে ভালো ছিল। বাংলাদেশে ছিল অনেক ভারী... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকে আমার মন ভালো নেই

লিখেছেন সামিয়া, ২১ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:০৯



দুঃখের সময়ে নানান মানুষের কথা মনে পড়ে। খুব কাছের মানুষের কথা মনে পড়ে আবার অনেক দূরের মানুষের কথাও মনে পড়ে। রক্তের আপন মানুষের কথা তো মনে পড়েই তবু একদিন কীভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×