somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফিতনা-এ-মওদূদিয়াত_(৬)

২৯ শে নভেম্বর, ২০২৫ দুপুর ১:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সপ্তম অধ্যায় – ফাসল ৬
ইসলামকে রাজনৈতিক বিপ্লবী দল বানানো এবং তাসাওউফ-তাকওয়া-আখলাককে গৌণ করে দেয়া
(পৃষ্ঠা ১৭৯-২১০ – প্রায় ৩২ পৃষ্ঠা)

শায়খ যাকারিয়া রহ. এখানে লিখেছেন:
“মওদূদী সাহেবের আরেকটা সবচেয়ে বড় ফিতনা হলো – ইসলামকে শুধু একটা রাজনৈতিক বিপ্লবী আন্দোলন বানিয়ে দেয়া। আর নামায-রোযা-তাকওয়া-তাসাওউফ-আখলাক-যিকির-আযকার – সবকিছুকে পটভূমিতে ঠেলে দেয়া। যেন ইসলামের আসল কাজ ক্ষমতা দখল, বাকি সব গৌণ। এটা ইসলামের মুখ উল্টে দেয়া।”

মূল অভিযোগ ও উদ্ধৃতি:

১. ইসলাম মানে শুধু রাজনৈতিক বিপ্লব
মওদূদী সাহেব লিখেছেন (“জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ”, “ইসলামী রিয়াসত”):
“ইসলামের মূল লক্ষ্য হলো পৃথিবীতে আল্লাহর হুকুমত কায়েম করা। যে পর্যন্ত রাষ্ট্রক্ষমতা মুসলিমদের হাতে না আসবে, সে পর্যন্ত নামায-রোযা-হজ-যাকাত কোনোটারই পূর্ণ সওয়াব হবে না।”

শায়খ বলেন:
“এর মানে মক্কার ১৩ বছরের ইবাদত-তাকওয়া সব বেকার ছিল? সাহাবারা ক্ষমতাহীন অবস্থায় যে নামায পড়েছেন তা অসম্পূর্ণ? এটা কুরআন-হাদীসের সরাসরি বিরুদ্ধে।”

২. তাসাওউফ ও খানকাহকে “ইসলামের শত্রু” বলা
মওদূদী সাহেব লিখেছেন (“তানকীহাত”, “তহরীকে ইসলামী কি ইখলাকী বুনিয়াদে”):
“তাসাওউফ, খানকাহ, যিকিরের মজলিস – এগুলো ইসলামের শত্রুদের তৈরি করা ফাঁদ। এর মাধ্যমে মুসলিম যুবকরা রাজনৈতিক সংগ্রাম থেকে পালিয়ে যায়।”

শায়খ যাকারিয়া বলেন:
“তাসাওউফ তো জুনায়েদ বাগদাদী, সিররী সাকাতী, বায়যীদ বোস্তামী, আব্দুল কাদির জিলানী, শাহ নকশবন্দ, ইমাম গাযযালী রহ.-এর পথ। এদেরকে ‘ইসলামের শত্রু’ বলা মানে সাহাবা-তাবেয়ীনের পরের পুরো উম্মতকে গালি দেয়া।”

৩. ফযায়েলে আমালকে “গল্পের বই” ও “বিদআত” বলা
জামায়াতের পত্র-পত্রিকায় ও খুতবায় বার বার বলা হয়েছে:
“ফযায়েলে আমাল, ফযায়েলে দুরূদ, ফযায়েলে যিকির – এগুলো গল্পের বই, বিদআতী কিতাব। এতে কোনো দলীল নেই।”

শায়খ বলেন:
“আমি নিজে এই কিতাবগুলো লিখেছি। এতে শুধু বুখারী-মুসলিম-তিরমিযী-আবু দাউদের হাদীস। হাদীসকে বিদআত বলা মানে হাদীসের সঙ্গে দুশমনি।”

৪. জামায়াতে ইসলামীতে বায়আত করাই ইসলামের প্রথম স্তম্ভ
জামায়াতের তা’লীমী কিতাবে লেখা আছে:
“ইসলাম কবুল করার প্রথম ধাপ হলো জামায়াতে ইসলামীতে বায়আত করা। তারপর নামায-রোযা শিখতে হবে।”

শায়খ বলেন:
“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর আগে জামায়াতে ইসলামীতে বায়আত? এটা কোন শরীয়তের কিতাবে আছে?”

৫. পুরানো উলামা-মাশায়েখকে “জাহেল” ও “পলায়নবাদী” বলা
মওদূদী সাহেব ও তাঁর অনুসারীরা বলতেন:
“দেওবন্দ-সাহারানপুর-রায়বরেলির মৌলবীরা জাহেল। তারা শুধু মাদ্রাসা-খানকাহে বসে আছে। তারা ইসলামের আসল কাজ বোঝেনি।”

শায়খ বলেন:
“যে লোক হাকীমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ., মাওলানা খলীল আহমদ সাহারানপুরী রহ., মাওলানা হুসাইন আহমদ মাদানী রহ.-কে গালি দেয়, তার দ্বীনের কী হাল বোঝা যায়।”

অধ্যায়ের শেষে শায়খ লিখেছেন:
“ইসলাম আগে তরবিয়তের দ্বীন, তারপর তহযীবের দ্বীন, তারপর হুকুমতের দ্বীন।
মওদূদী সাহেব সব উল্টে দিয়েছেন – আগে হুকুমত, তারপর বাকি সব।
এতে ইসলামের আলো নিভে গিয়ে শুধু রাজনীতির আগুন জ্বলছে।
এই পথে যে চলে, শেষে তার ঈমানও থাকে না, আখলাকও থাকে না।”

ফাসল ৬ শেষ।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে নভেম্বর, ২০২৫ দুপুর ২:০৩
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জয়তু এ আই: পৃথিবী বদলে যাচ্ছে

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৫ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৭:২৭


An Outstanding Scientific Odyssey:

আমরা যারা ল্যাবে কাজ করি, তারা খুব ভাল ভাবেই জানি একটা জীবন রক্ষাকারী ঔষুধ বা মানবজাতির জন্য উপকারী মেথড/ম্যাটেরিয়াল ডেভেলপ করতে কত বছর ধরে রিসার্চ, সাধনা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাথারের ফসল

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৫ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:০৪


সেই গ্রামের আইল পাথারে
বেড়ে ওঠা আমি এক মানুষ;
কখনো হাল চাষ করা হয়নি
তবু মাটির গন্ধে যে ফাল্গুন!
স্মৃতির আকুতি কন্ঠের সুর
সবুজ শ্যামলা মাটির ঘান-
বয়ে যায় এক বিস্মৃতির নগর;
যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

উর্দু ভাষা ও তার উৎপত্তি

লিখেছেন কিরকুট, ১৫ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:১৩

উর্দু ভাষার আসলে নিজস্ব কোনো স্বতন্ত্র লিপি নেই। এটি মূলত আরবি ফারসি উৎসের লিপি ব্যবহার করে লেখা হয়। ঐতিহাসিকভাবে উর্দুর বিকাশ ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম শাসনামলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। মুঘল সাম্রাজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

চরিত্রহীন

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৫ ই মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৬


নিপীড়িত ভেবে যাকে করে যাবে মায়া,
সর্বস্ব বিলিয়ে দেবে যার উপকারে;
কলির সন্ধ্যা কাটলে পাবে না তো তারে,
সে তখন হয়ে যাবে নিশ্চিন্ত প্রচ্ছায়া।
যাবে না ধরা হাঁটলেও সে কাছে-ধারে;
ভুজঙ্গের ন্যায় দেখাবে বিষাক্ত কায়া,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্ব রাজনীতি, শক্তির খেলা এবং ন্যায়ের প্রশ্ন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৫ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:৩৫

বিশ্ব রাজনীতি, শক্তির খেলা এবং ন্যায়ের প্রশ্ন

বিশ্বরাজনীতির ইতিহাসে বারবার এমন অভিযোগ উঠেছে যে শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো অনেক সময় নিজেদের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ রক্ষার জন্য দুর্বল বা উন্নয়নশীল দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×