বাবা সরকারী চাকুরিজীবী হওয়ার সুবাধে আমার বেড়ে ওঠা জেলা শহর গুলোতে। আমার শৈশব কৈশরের পুরোটা সময় ছিলো আদিগন্ত মাঠ, শান বাধানো পুকুর আর প্রাচীর ঘেরা নিরাপদ আবাসিক। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুবাধেই ঢাকাতে আমার স্থায়ী বসবাসের শুরু। বিশ্ববিদ্যালয়েও আমি প্রথম শ্রেনীর সুবিধা ভোগী। রোকেয়া হল থেকে কলা ভবনের দু্রত্ব কয়েক কদম। সাথে প্রিয় বান্ধবীদের কোলাহল। জীবন টা সে পর্যন্ত নির্ভাবনার-ই ছিল।
২৫ বছরের অনভ্যস্ততা গত ৫ বছরে কাটিয়ে উঠতে পারি নাই। আমার কাছে পাবলিক বাস এর আরেক নাম বিভীষিকা। আমরা জাতি হিসাবে কতখানি মানসিক ভাবে অসুস্থ তা জানার এবং বোঝার সবচেয়ে কার্যকরী জায়গা এই পাবলিক বাস গুলো।
তাই অগত্যা, মধ্যবিত্তের ধারক ও বাহক , এই আমাকে চলাচলের জন্য বেছে নি্তে হয়েছে রিকশাকে। আবাসস্থল মিরপুর স্টেটে আর কর্মস্থল ধানমন্ডি স্টেটে। রিকশা যোগে কিলোমিটারের দু্রত্ব বলতে না পারলেও ভাড়ার পরিমান প্রতিদিন আসা যাওয়া ২০০ টাকা।সেটাও আমার জন্য সহনীয়। কিন্তু বাধ সাধলো ঠিক তখন-ই যখন মাঝে মাঝেই আমাকে জেমস বন্ডের রিকশায় উঠতে হয়।
রিকশায় উঠে বসলেই আমি উদাস হয়ে যায়। হেড ফোন কানে গুজে দিলে আমি-ই হয়ে যায় পৃথিবীর সবচেয়ে সুখি মানুষ। তখন সাধারণ কিছুও আমার কাছে অসাধারণ লাগে। আমি মুগ্ধ হয়ে চারপাশ দেখি। তাতেও কোন বিপত্তি নেই। বিপত্তি ঐ বেটা জেমস বন্ড। তার রিকশা যতটা চাকা ঘুরিয়ে রাস্তা দিয়ে চলে তার চেয়ে ঢের বেশি হাওয়াই উড়ে যায়। আমি কোন মতে হুড ধরে তাল মিলিয়ে বসে থাকার চেষ্টা্য নিয়োজিত থাকি। আমার সব অনুরোধ-উপরোধ-বকা উপেক্ষা করে বন্ডের রিকশা ছুটে চলে নিজস্ব গতিতে।
তাই আসন্ন ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এর মেয়র প্রার্থীদের কাছে আমার একটাই দাবী “ঢাকার রিকশায় সিটবেল্ট এর ব্যবস্থা করে আমার মত নিরুপায়,উদাস এবং রিকশা ভ্রমন ইচ্ছুক যাত্রীদের পাশে থাকবেন”

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


