আমার নিজস্ব কিছু অলসতা আছে, এই যেমন- করছি, করবো ধরনের। সেলফোনের সিমকার্ডটা কেনার ক্ষেত্রেও সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। আব্বু একমাস আগে টাকা পাঠালেও কিনি, কিনবো করে করে সময় পার করছিলাম। তারপর মৃদু ভর্তসনা শুনে মোতালিব প্লাজাএকটা দোকান থেকে একটা সিমকার্ড কিনে নিলাম। প্রথম ফোন করলাম বাসায়, সেলফোনের নম্বর দেয়ার জন্য। আব্বুর প্রথম পরামর্শ মূলক বাক্য টি ছিলো “ব্যক্তিগত নম্বর ব্যক্তিগত রাখার চেষ্টা করো মা ।”
গত ১১ বছরে ফোনে বেশ কিছু ভোগান্তি হয়েছে, সেগুলো মনে করে এখনও মাঝে মাঝে হাসি। তবে যেহেতু আজ আমার সিম কার্ড টার জন্মদিন তাই ২/৩ টা গল্প তো আপনাদের সাথে শেয়ার করতেই পারি।
# আমি আকাশ (২০০৪)
দিন তারিখ মনে নেই। রাত ১০ টার দিকে অপরিচিত নম্বর থেকে কল আসলো।
-হ্যালো বলতেই অপর প্রান্ত থেকে একটা নার্ভাস কন্ঠস্বর।
-হ্যালো আমি আকাশ বলছি। মেকানিকাল ইঞ্জিয়ারিং, থার্ড ইয়ার, বুয়েট। মিতা আপনার সাথে একটু কথা বলা যাবে।
-আমি একটু অবাকই হলাম। এই ছেলে দেখি আমার নামও জানে! বললাম, জ্বী বলেন।
-আপনি আমাকে চিনবেন না। তবে আমি আপনাকে চিনি। রোকেয়া হলের গেইটে আপনাকে আমি কয়েকবার দেখেছিও।খুব সংক্ষেপে বললে আপনাকে আমার খুব ভালো লেগেছে। আমরা কি বন্ধু হতে পারি?
- জ্বি না মিস্টার আকাশ।আমি বন্ধুত্ব পাতায় না। আমি যাদের সাথে মিশি তারাই আমার বন্ধু। ধন্যবাদ আপনার ফোন কলের জন্য। ভালো থাকবেন। কাট
# মঈন দ্যা এংরি ম্যান (২০০৭)
জুন মাসের ঘটনা। একদিন রাত ১১ টার দিকে খুব মনোযোগ দিয়ে রোমান্টিক সিনেমা দেখছিলাম।হঠাৎ পরপর ৩টা মিসড কল। রাগে এবং বিরক্তিতে দিলাম কল।
-কী সমস্যা?
-কিসের কী সমস্যা?
-মিসড কল দিচ্ছেন কেন?
-আমি মিসড কল দিয়েছি? আমি!
-জ্বী না, আপনার মিনি পুষি ক্যাট মিসড কল দিয়েছে। রসিকতা করেন (রেগে গেলাম)
-দেখুন মিস অথবা মিসেস যাই হন, আমি আপনাকে মিসড কল দেই নাই।
এরপর ফোন কলের লাইন দিলো কেটে। রাগে আমার মাথা ব্যাথা করতে শুরু করলো। অপরাধ করে আবার সাফাই গায় তারপর লাইন কেটে দেয় (কত্ত বড় সাহস)। মিনিট খানিকের মধ্যে আবার কল
-মিসড কল দিয়েছিলাম বলে বকা দিয়েছেন। এবার কল দিয়েছি।আমি অন্যের পয়সায় ঝগড়া করি না। ঝগড়া করার সময় কোথায় আমার। চাকরী করি তো। জীবনের শুরু ক্যাডেটে, আর্মি লাইফ ভাল লাগে না তাই ভর্তি হলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, এপলাইড ফিজিক্স এ। বাবা হুট করা মারা গেলেন তাই বিদেশ না গিয়ে চাকরি নিতে হলো।আমাকে কী আপনার ফালতু ছেলে মনে হচ্ছে? এবার আমার আচরনের জন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। আপনাকে বিরক্ত করা আমার উদ্দেশ্য ছিলো না। আপনার নম্বর আর আমার বন্ধুর নম্বর মাত্র একটা ডিজিটের হেরফের। তাই হয়ত এমন টা হয়েছে।রাখি ভালো থাকবেন
-আপনিও ।
# আপু ফারহান বলছি (২০০৮)
সম্ভবত ফেব্রুয়ারী মাস। রাত সাড়ে ৮ টার দিকে এক ফোন কল।
- কেমন আছেন?
- ভালো আছি। কে?
- আপু আমি ফারহান।
- হ্যাঁ ফারহান বলো, আমি কি আপনার সাথে একটু কথা বলতে পারি ……
এরপর থেকে ফারহানের সাথে ৭ দিনে/ ১০ দিনে একবার কথা হতো। সোহরাওর্দী মেডিকেলে প্রথম প্রপস এ পড়তো। বাবা আর্মি পার্সন ছিলেন। কর্নেল। নাম টা ভুলে গেছি। ফারহান বেশির ভাগই তার পরিবারের গল্প করতো। তার নানা ভাই এবং দাদা ভাই ছিলেন বেস্ট ফ্রেন্ড।KFC তে তার ওয়েটার এর চাকরী। মেডিকেলের আইন কানুন।বলতো আর হাসতো, “ জেনে রাখেন, হবেন তো সাংবাদিক। দেখবেন ঠিক-ই এই অভিজ্ঞতা এক সময় কাজে লাগবে”।
এই ছেলেটার কাছে আমি জীবনের অনেক দিকের গল্প শুনেছি। ওকে আমি আপু বলতাম। সে খুব ভাব ধরে বলতো, “ আপনি আমাকে আপু বলেন কেন?” আমিও হেসে বলতাম তাহলে তুই আমাকে ভাইয়া বল। না সেটা আবার তার পছন্দ নয়।
একদিন হুট করে ফারহানের ফোন করে বললো
- আপু আগামী ২৯ তারিখ আমি UK চলে যাচ্ছি।
- কেন?
- সবকিছু নতুন করে শুরু করতে
- কই আগে তো কিছু বলিস নাই
- বিদায় টা হুট করে হওয়াই ভালো। বেদনা কে দীর্ঘায়িত করে কী লাভ। তাই বলিনি। আমি চাইলে ওখান থেকে আপনাকে কল করতে পারি। কিন্তু করবো না। সব কিছু নতুন করে শুরু করবো আমি।
আর কখনো কথা হয়নি। কিন্তু আমি অনুভব করি ফারহান যেখানেই আছে খুব ভালো আছে।কারন সর্বোচ্চ খারাপ টা তো সে থেকে ফেলেছে! মিস ইউ আপু- আমার শুভ কামনা সব সময় তোর সাথে আছে। ভালো থাকিস।
আমার এই নম্বর টা আরো অনেক ১১ বছর আমি ব্যবহার করতে চাই। ঠিক প্রথম দিনের মতো ভালোলাগা নিয়ে। Happy Birthday dear 01716------ :p
( লেখা টা ৩০ মে, ২০১৫ তে লেখা ... )

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


