এশিয়া এবং আফ্রিকার কয়েকটি দেশের কোটি কোটি মেয়ে সকলের চোখের আড়ালে কোথায় যেন হারিয়ে যাচ্ছে। হারিয়ে যাচ্ছে প্রতি দিন, প্রতি মুহূর্তে। কোথায় যায় তারা? খোঁজ করা দরকার ……
আশি ও নব্বয়ের দশকে অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের গবেষনায় প্রথম উঠে আসে এই বিষয়টি। দেখা যায়, চীনদেশের ৪.৪ কোটি ও ভারতে ৩.৭ কোটিসহ সারা পৃথিবীতে ১০ কোটি মেয়ের কোন খোঁজ মিলছে না। হারিয়ে যাওয়া মেয়েদের নিয়ে অমর্ত্য সেনের সিরিজ রিপোর্টের পর বিভিন্ন দেশের অন্যান্য অনেক অর্থনীতিবিদ রাও এই বিষয়ে কাজ করেন। এই শতাব্দীর শুরুতে জার্মানীর স্টিফেন ক্লাজেন ও ক্লদিয়া উইস্ক এ ব্যাপারে বিস্তারিত গবেষণা করে এই সিদ্ধান্তে উওপ্নীত হয়েছেন যে, অমর্ত্য সেনের অনুমিত সংখ্যা ১০ কোটির চাইতেও বেশি এই হারিয়ে যাওয়া মেয়ের সংখ্যা। একবিংশ শতাব্দীর দোরগোড়ায় এ সংখ্যা গিয়ে দাড়িয়েছে ১১.৩ কোটি।
প্রধানত ২টি উপায়ে এই সংখ্যা নির্ণিত হয়ঃ
১) বয়স অনুযায়ী ছেলে ও মেয়েদের মৃত্যুর হার নির্ণয় করা এবং
২) আপামর জীবিত জনসংখ্যার মধ্যে পুরুষ ও নারীর সংখ্যার আনুপাতিক হার বের করা।
আপনি জেনে অবাক হবেন, বিংশ শতাব্দীতে জগৎজুড়ে দুর্ভিক্ষজনিত কারনে যেসব মৃত্যু হয়েছে, সেসব একত্রিত মৃত্যুর সংখ্যার চাইতেও বেশি এই হারিয়ে যাওয়া মেয়েদের সংখ্যা। এই সংখ্যা দুই বিশ্বযুদ্ধে নিহত এবং ১৯১৮ সালের ভয়াবহ ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারীতে মৃতের একত্রিত সংখ্যার চাইতেও বেশি। পৃ্তহিবী জুড়ে এইডস রোগে মৃতের সংখ্যার চাইতেও বেশি এ সংখ্যা।
উন্নত বিশ্বে ছেলে এবং মেয়ের অনুপাত ১০০: ১০৫। অথচ উন্নয়নশীল এবং অনুন্নত দেশগুলোতে ব্যাপারটি ঠিক উল্টো । এশিয়া এবং আফ্রিকাতে ছেলে এবং মেয়ের অনুপাত কমতে কমতে একের নিচে চলে এসেছে। মিসর, চীন, ভারত এবং পাকিস্তানের দিকে তাকালেই আপনি বিষয়টা অনুধাবন করতে পারবেন। যে তিনটি কারনে অনুপাতের এই মান তার মধ্যে রয়েছে ক) জন্মের হার খ) মৃত্যুর হার এবং গ) দেশত্যাগ অথবা বহিরগমনজনিত পরিবর্তন।
হ্যাঁ, এটা ঠিক যে সারা পৃথিবীতে শতকরা ৫% পুত্র সন্তান বেশি জন্মগ্রহন করে। কিন্তু সংখ্যায় বেশি জন্ম গ্রহন করলেও জীবন ধারন বা বেঁচে থাকার ক্ষমতা ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের বেশি। হৃৎপিন্ডের অসুখ, উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক এ নারীর তুলনায় পুরুষের মৃত্যুর হার বেশি। এমনকি মেয়েদের গড় আয়ু ছেলেদের বেশি।যুদ্ধ, ধূমপান, মদ্যপয়ান, সড়ক-দুর্ঘটনা, খুনখারাবিজনিত মৃত্যুর হারও যেহেতু পুরুষের মধ্যেই অপেক্ষাকৃ্ত বেশি, সেহেতু সব দক থেকেই মোট সংখ্যায় মেয়েদের পক্ষে পুরুষের তুলনায় এগিয়ে থাকা স্বাভাবিক। উন্নত দেশিগুলোতে সেটাই ঘটে। দেশত্যাগ বা বহিরগমনজনিত কারণে কোনো কোনো বিশেষ সময়ে বিশেষ দেশে ছেলে এবং মেয়ের আনুপাতিক হার কিছুটা হেরফের হলেও প্রতিটি উন্নয়নশীল দেশের সাথে প্রতিটি উন্নত দেশের ছেলে ও মেয়ের অনুপাতের পার্থ্যক্যের কারন কখনোই এটা হতে পারেনা। হলেও উল্টোটাই হওয়া উচিত।
এটা সত্য যে, আফ্রিকা এবং এশিয়ায় মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের সংখ্যা বেশি। তবে এত বেশি কেন? এসব অঞ্চলে কোটি কোটি মেয়েরা কোথায় যাচ্ছে? ইউরোপ ও আমেরিকাতে যা স্বাভাবিক, সেই হিসেব করলে কেবল চীনে ৫কোটি মেয়ের কোন হদিস পাওয়া যায় না। তাহলে তারা গেল কোথায়?
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ২:৩০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




