somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মেঘপুঞ্জ ও অরিকা'র গল্প : পর্ব : ০১

০৪ ঠা জুলাই, ২০২৫ বিকাল ৫:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ডে-১

ঘুরতে যাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা 'সময় ও দায়িত্বজ্ঞান'! তবে এবারের ৪ দিনের ছুটিতে গ্রান্ড ট্যুর দিবো এটাই ভেবে রেখেছিলাম। স্যারের কাছে ছুটি চাইতেই স্যার এক কথায় ছুটি দিয়ে দিলেন। তারপর শুরু করলাম ট্যুরের শপিং। যদিও আমার বাইকে দুদিন আগেই Yamaha Lube Engine Oil :10w-40 রিফিল করাই ছিলো। ফুল সিন্থেটিক হওয়ায় কনফিডেন্ট ছিলাম। তারপরও কিছু টুকটাক কেনাকাটা করাই লাগলো। বৃহস্পতিবার রাত ১১ টা পর্যন্ত এটা ওটা করেই চলে গেলো। বাসায় ফিরেই আমার অরিকা'কে বুকে জড়িয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। মেয়েটাকে জড়িয়ে কান্নায় বুক ফেটে যাচ্ছিলো। বারবার ভাবছিলাম এই ৪ দিন থাকতে পারবো তো!!!

পরেরদিন ভোর ৪ টায় উঠলাম। ফ্রেশ হলাম। নামাজ পড়লাম। মেয়েটাকে অনেকক্ষণ জড়িয়ে ধরে বাসা থেকে বের হলাম। পাশের পার্কিং লট থেকে বাইক বের করে পন্ডিতের অপেক্ষায় রইলাম। যথারীতি তার তালগোল পাকানো শুরু হয়ে গেলো বাইক বের করা নিয়ে, ওখানে আধা ঘন্টা শেষ। অবশেষে তিন বাইক বের হলাম ৫ টার দিকে। বৌদ্ধমন্দিরের মেইন হাইওয়েতে উঠেই দেখি প্রচন্ড জ্যাম। পরে বাধ্য হয়ে মানিকনগর - ধলপুর ঘুরে রায়েরবাগ পৌছালাম। ওখানে অপেক্ষমাণ আরেক ট্যুরমেট নিয়ে যাত্রা শুরু করলাম। কুমিল্লার হোটেল নুরজাহান পর্যন্ত মোটামুটি জ্যাম ঠেলে পৌছালাম। নুরজাহানে যাত্রা বিরতির সাথে সাথে ব্রেকফাস্ট সেরে নিলাম।

চৌদ্দগ্রাম থেকে বারৈয়ারহাট পর্যন্ত মিটারের কাটা ৯০-৯৫ এ আপডাউন করছিলো। প্রায় ১১ টার দিকে চট্টগ্রামের সিটে গেটের একটু আগে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের সামনে থামতেই হলো। কারনটা বৃষ্টি। এত এত বৃষ্টি যে চিন্তার বাইরে। প্রায় ৩ ঘন্টার উপরে বসে আছি। আফসোস লাগছে আমার ওত দামী রেইনকোট টা আনিনি বলে। ইনফ্যাক্ট আমরা কেউওই রেইনকোট নিয়ে যায়নি।
অথচ কাঙ্খিত গন্তব্যে যাওয়ার পোকা মাথায় কিলবিল করছে। অবশেষে একজনকে নিয়ে আমি কালু শাহ মাজারের ওখানের বাজার থেকে কিছু পলিথিন কিনে ব্যাগ প্যাকেট করলাম, জুতার উপর পলিথিন ও পলিথিন ছিড়ে বুকে বাধলাম। কিম্ভুতকিমাকার এক দৃশ্য। আবার যাত্রা শুরু। বায়েজিদ লিংক রোড দিয়ে ঢুকে ২ নং গেইট হয়ে প্রবর্তক মোড়, তারপর চিরচেনা স্বাদের মেজবানের হোটেল। উদ্দেশ্য কিছু খাবার পেটে চালান দেওয়া। পথে যেতে দেখলাম স্মৃতি বিজরিত মেয়র গলি, চিরচেনা আলফালাহ গলি, সেই আফমী প্লাজা। ওয়াও। কি নস্টালজিক স্মৃতি! কতটা সময় কাটিয়েছি এই শহরে। ষোলশহরে আড্ডা দিয়েছি রাতের পর রাত। জিইসি মোড়ে রাত ২ টায় বের হয়ে চা খেতে আসতাম। মাঝে কিছুদিন আমি সুগন্ধায় থাকতাম। বিখ্যাত বারকোড রেস্টুরেন্ট চোখের সামনেই দেখলাম।
আমি মেহেদী স্যার হিসেবে গড়ে উঠার শুরু এই চকবাজারেই। দিনরাত এই করে এখানে কোচিং করিয়েছি, ব্যাচ পড়িয়েছি। কাতালগঞ্জে পার্সোনাল রুম ছিলো পড়ানোর জন্য। গুলজারে' কত সময় ঘুরেছি তার ইয়ত্তা নেই। চকভিউ মার্কেট ইউজ করতাম কোচিং রিলেটেড শপিং করার জন্য।

বারবার ভাবছিলাম আমার অতি পরিচিত এই নগরে যদি অরিকা'কে আনতে পারতাম! একদিন আল্লাহ নিশ্চয়ই সেই আশা পূরণ করবে।

বিকেলের দিকেও বৃষ্টি থামার লক্ষণ নেই। বাধ্য হয়ে বিখ্যাত রিয়াজউদ্দিন বাজারে গেলাম রেইনকোট কিনতে। বহু দামাদামি করে ১৫০০ টাকায় চারজনের রেইনকোট সেট কিনে নিলাম। অন্তত কাজ চালানো গেলেই হলো।

আবার বান্দরবান অভিমূখী যাত্রা শুরু। পটিয়ার ভিতরে দমকা বাতাস ও প্রচন্ড ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হলো। ভাইজরের ভিতর দিয়ে কিছুই দেখিনা। প্রায় আন্দাজে গাড়ি চালাচ্ছি। চন্দনাইশ যেয়ে এক ফ্রেন্ডের বাসায় চারজন আশ্র‍্য় নিলাম। তাদের আতিথেয়তায় সমস্ত ক্লান্তি ও কষ্ট দূর হয়ে গেলো। সুন্দর ডেকোরেটেড রুমে ওদিনের রাতটা ভালোই কাটলো।

সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৫ বিকাল ৫:২১
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এই যে জীবন

লিখেছেন সামিয়া, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:২৪



এই যে আমার জীবনে কিছুই করা হলোনা, সেটা নিয়ে এখন আর খুব বড় কোনো আফসোস করি না। জীবন আসলে নিজের মতোই চলতে থাকে। সকালে ঘুম থেকে উঠি, রান্নাঘরে গিয়ে চায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্ব পাঠ

লিখেছেন আবু সিদ, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

I. পড়ার সাধারণ অর্থ
সাধারণভাবে, পড়া বা Reading হলো লিখিত বর্ণ বা চিহ্ন দেখে তার অর্থ উদ্ধার করার উপায়। পড়া কেবল শব্দ উচ্চারণ নয়, বরং লেখার বিষয়বস্তুর সাথে নিজের চিন্তার যোগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

এঁনারা কিসের আশায় দালালি করে যাচ্ছেন?

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:০৫



১. ১৫ আগস্ট টাইপ কিছু বা ৭ নভেম্বর টাইপ কিছু না ঘটলে আওয়ামী লীগ সহসা আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না। জুলাই-এর মত কিছুও বার বার হয় না। তাই ধরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বমিনং করোনং ইচ্ছং

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:১১


গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান
ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী
১৫০।(১) এই সংবিধানের অন্য কোন বিধান সত্ত্বেও ১৯৭২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর তারিখে এই সংবিধান প্রবর্তনকালে সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে বর্ণিত বিধানাবলী ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ স্বাধীনতা

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:১২


বাবা পাখিটি গাইছে গান
আমড়া গাছের ডালে।
ছানাগুলো নিশ্চিন্তে
মায়ের বুকের তলে।

রীনা বসে বীনা বাজায়
মীনা গায় গান।
দীনা বলে পুষবো পাখি
একটা ধরে আন।

মা শুনে কয় বনের পাখি
বনেতেই মানায়।
বন্দী পাখি হয় যে দুঃখী
উচিত কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×